Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৬ ঘন্টা আগে
  • ৩৪ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

সেচ পাম্প এখন পেট্রোল পাম্পে উঠতি ফসল নিয়ে বিপাকে চাষি

সেচ পাম্প এখন পেট্রোল পাম্পে উঠতি ফসল নিয়ে বিপাকে চাষি

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

মোটরসাইকের মত পেট্রোল চালিত সেচ পাম্প (গ্যাসোলিন) এখন পেট্রোলের জন্য ফিলিং স্টেশনগুলোতে লাইন হয়ে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে । উঠতি অধাপাকা বোরো ধান ক্ষেতে সেচ দিতে না পারায় চরম ভোগান্তিতে চাষিরা। দিন রাত লাইনে দাড়িয়ে থেকে পেট্রোল না পেয়ে ফিরতে হচ্ছে বাড়িতে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় অন্তত ১০০ গ্যাসোলিন পেট্রোল অভাবে বন্ধ হয়ে পড়েছে। দেখা দিয়েছে সেচ সংকট দেখা দিয়েছে। 

বোরো ধানসহ বিভিন্ন আবাদি জমিতে পানির অভাবে দিশেহারা কৃষকরা। ফসল রক্ষায় সেচ পাম্প নিয়ে পেট্রো পাম্পে চাষিগণ। প্রেট্রোল পাম্পগুলো ঘুরে ফিরে দেখা গেছে, গত সোমবার সকাল থেকে উপজেলার সোনারায়, তারাপুর, বেলকা, দহবন্দ ও রামজীবন ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে অর্ধশত কৃষক সেচ পাম্প ও জ্বালানির পাত্র নিয়ে পেট্রোল পাম্পে দাড়িয়ে রয়েছেন। 

দিন রাত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত পেট্রোল সংগ্রহ করতে পারছেন না। এতে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বেলকা ইউনিয়নের কৃষক দীরেন চন্দ্র সরকার বলেন, “এখন বোরো ধান ক্ষেতে প্রতিদিন পানি দেয়া অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে। একদিন পরপর জমিতে পানি দিতে না পারলে ধান শুকিয়ে যাবে। কিন্তু সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও প্রয়োজনীয় তেল পাচ্ছি না।” তারাপুর ইউনিয়নের কৃষক নুর আলম বলেন, “আমাদের দৈনিক ৭ হতে ১০ লিটার জ্বালানি দরকার। কিন্তু সীমিত তেল দিয়ে সেচ পাম্প চালানো সম্ভব না। যার কারনে ফসলি জমি ঝুঁকিতে পড়ছে।” এছাড়াও একাধিক কৃষক জানান একই অভিযোগ করেন। 

সেই সাথে দোকান পাট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পেট্রোল চালিত জেনারেট বন্ধ হয়ে গেছে। ফিলিং স্টেশন মালিকগণ জানান, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী তালিকা অনুসারে সীমিত পরিমাণে পেট্রোল সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। করিম এন্ড সন্স পেট্রোল পাম্পের এক কর্মচারী বলেন, “আমাদের কাছে যতটুকু বরাদ্দ আসে, সেটাই নিয়ম অনুযায়ী বিতরণ করছি। কিন্তু কৃষকের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় সবার চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।” উপজেলা কৃষি অফিসার মো. রাশিদুল কবির বলেন, বোরো ধান সম্পূর্ণ সেচ নির্ভর ফসল। এপ্রিল থেকে মে মাস পর্যন্ত জমিতে নিয়মিত পানি সরবরাহ অপরিহার্য। 

এ সময়ে সেচে কার্য বিঘ্নত হলে ফলন মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, “কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি কালোবাজারি ও মজুদদারি রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা এবং নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad