Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৩ ঘন্টা আগে
  • ২৮ বার দেখা হয়েছে

চুলার উষ্ণতায় মুখরোচক বাদাম ও শিমের বীজ আবুল কাশেমের অদ্ভুত স্বাদ টানে গ্রাহক

চুলার উষ্ণতায় মুখরোচক বাদাম ও শিমের বীজ আবুল কাশেমের অদ্ভুত স্বাদ টানে গ্রাহক

ভবতোষ রায় মনা ►

দেশি ভালো মানের বাদাম, ছোলা বুট, শিমের বীজ, সূর্যমুখীর বীজ, কুমড়ার বীজ, পপকর্ন-সহ আরও বিভিন্ন ধরনের বীজ দেশীয় পদ্ধতিতে ভেজে বিক্রি করছেন কাশেম মিয়া নামের এক যুবক। এসব বিক্রির উপার্জিত অর্থেই ছেলেমেয়ের লেখাপড়াসহ চলে চার সদস্যের পরিবার। বলছিলাম, গাইবান্ধা পৌর শহরের সবুজপাড়া এলাকার কাশেম মিয়ার কথা। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকারি অফিস-আদালতের মতো শুক্রবার বন্ধ থাকে কাশেম মিয়ার এই ভ্রামমান দোকান। শহরের ১নং ট্রাফিক মোড়ে শনি থেকে বৃহস্পতিবার প্রতিদিন বিকেলে ব্যবসা শুরু করে বিরতিহীনভাবে চলে রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত। গতকাল শনিবার বিকেলে তার দোকানে গিয়ে দেখা যায়, বাদাম, ছোলা বুট, শিমের বীজ, সূর্যমুখীর বীজ, কুমড়ার বীজ, পপকর্ন-গুলোর ভাজার পদ্ধতি। সাধারণত মাটির হাঁড়ি বা লোহার কড়াইতে অল্প আঁচে ধীরে ধীরে এগুলো ভাজা হয়, অনেক সময় সঙ্গে বালি বা নুড়ি ব্যবহার করা হয় তাপ ধরে রাখার জন্য। চুলার মৃদু ও সমান তাপ ভেতরকার আর্দ্রতা দূর করে এবং একটি বিশেষ মচমচে আকার ধারণ করে। লবণ বা মশলার ব্যবহারে এর স্বাদ আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। এই ভাজার প্রক্রিয়াটি কেবল খাবার তৈরি নয়, বরং এটি বাংলার চিরায়ত রান্নার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিকালের নাস্তার দোকানগুলোতে এই ভাজা পণ্যের পসরা বসে, যা পথচারীদের সহজেই আকর্ষণ করে। পুষ্টিগুণের দিক থেকেও এসব ভাজা পণ্যে আধুনিক ফাস্ট ফুডের চেয়ে অনেক এগিয়ে।

বাদাম (চীনাবাদাম): এটি প্রোটিন, ফাইবার এবং স্বাস্থ্যকর ফ্যাটে ভরপুর, যা দ্রুত শক্তি জোগায় এবং সহজে বহনযোগ্য। শিমের বীজ ও কুমড়ার বীজ: ফাইবার এবং প্রয়োজনীয় মিনারেলের (যেমন ম্যাগনেসিয়াম) ভালো উৎস। কুমড়ার বীজ অ্যান্টি-অক্সিডেন্টেও সমৃদ্ধ। সূর্যমুখীর বীজ: আজকাল স্বাস্থ্য সচেতন মহলে এর কদর বেড়েছে, কারণ এটি ভিটামিন-ই এবং সেলেনিয়ামের মতো উপাদানে পূর্ণ। পপকর্ন: চুলার আগুনে ভাজা পপকর্ন একটি সহজপাচ্য এবং স্বল্প ক্যালোরির স্ন্যাকস হিসেবে পরিচিত। এই স্ন্যাকসগুলোর আরেকটি বড় সুবিধা হলো এর সাশ্রয়ী মূল্য এবং সহজলভ্যতা। কম খরচে স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু কিছু খেতে চাইলে, চুলার আগুনে ভাজা এই বাদাম-বীজগুলোই প্রথম পছন্দ হয়ে ওঠে।

স্থানীয় একজন ক্রেতা শফিকুর রহমান জানান, বাদাম-বীজ আমরা সব জায়গায় খাই, কিন্তু কাশেম ভাইয়ের এখানকার স্বাদটাই আলাদা। মনে হয় যেন গ্রামের মাটির চুলার স্বাদ মিশে আছে এতে। এই অদ্ভুত ব্যবসা দেখতেও যেমন অন্যরকম, খেতেও তেমনই সুস্বাদু।

কাশেম মিয়া বলেন, বসে থেকে লাভ কি ? কর্ম করলে অবশ্যই রোজগারের ব্যবস্থা হবেই। বাদাম, বুট, শিম, মিষ্টি কুমড়ার বীজসহ প্রায় ১০-১২ রকমের ভাজা জিনিস বিক্রি করছি। ভালো বিক্রি হয়। ব্যবসা অদ্ভুত হোক বা সাধারণ, মানুষকে সুস্বাদু খাবার দিতে পারলে ব্যবসা চলবেই। আমার এই চুলাটাই আমার কারখানার প্রাণ। এর উষ্ণতাতেই আমার ব্যবসার আসল স্বাদ। আধুনিকতার ভিড়ে কাশেমের এই ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি প্রমাণ করে দিল, স্বাদের কাছে কোনো প্রযুক্তিই কখনও কখনও সফল হতে পারে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad