Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
  • ৭৫ বার দেখা হয়েছে

গাইবান্ধায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলো ভোটগ্রহণ, চলছে ভোট গণনা

গাইবান্ধায় সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলো ভোটগ্রহণ, চলছে ভোট গণনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধায় পাঁচটি সংসদীয় আসনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলো ভোটগ্রহণ। এর আগে সকাল সাড়ে ৭টায় শুরু হয়ে বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলে ভোটগ্রহণ। সকাল থেকে নারী-পুরুষ ভোটাররা কেন্দ্রগুলোতে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর নির্বিঘ্নে ভোট প্রদান করেন। 

গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা-২ সদর উপজেলা, গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী), গাইবান্ধা-৪ গোবিন্দগঞ্জ ও গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) এই পাঁচটি সংসদীয় আসনের ২১ লাখ ৭২ হাজার ৪৯৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এ আসনগুলো বিএনপি-জামায়াত জোটসহ অন্যান্য মোট ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান

কোনো প্রকার বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়াই শেষ হলো ভোট গ্রহণ। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণ শেষ হয় বিকেলে সাড়ে ৪টায়। তবে গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনের সবগুলো ভোট কেন্দ্রের লাইনে দেখা গেছে নারী ভোটারের লাইন পূর্ণ এবং পুরুষ ভোটারের লাইন ছিল শূন্য। সকাল সাড়ে ৭টায় শান্তিরাম কালিতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, ৩০ হতে ৫০ জন পুরুষ ভোটারের একটি লাইন। তখন কোনো নারী ভোটার দেখা যায়নি। সকাল ৯টার দিকে কঞ্চিবাড়ি আব্দুল হাফিজ দাখিল মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা গেছে নারী ভোটারের লাইন। পুরুষ ভোটারের লাইনে ৪ হতে ৬ জনের উপস্থিত ছিল।

সকাল ১১টায় সীচা উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, নারী ভোটারের লম্বা লাইন। যা চোখে পড়ার মতো। হিন্দু ভোটারের উপস্থিত ছিল ব্যাপক। চন্ডিপুর এফ হক উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে গিয়ে দেখা গেছে, একজন প্রতিবন্ধী নারী ভোটার হুইল চেয়ারে বসে ভোট দিতে এসেছেন। উপজেলার কমপক্ষে ২০টি ভোট কেন্দ্রের তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, বেলা ৩টা পর্যন্ত ভোটারের উপস্থিতি ছিল ৩০ ভাগ।

চন্ডিপুর ভোট কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা রাজা মিয়া বলেন, পুরুষ ভোটারেরা মাঠে কাজ করছেন। তা ছাড়া পুরুষ ভোটাররা সাধারণত বিকালে ভোট দেন। সে কারণে এখন নারী ভোটারের উপস্থিতি কম। ধর্মপুর ১নং সরকারি প্রাথমিক কেন্দ্রের প্রিজাইটিং অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, বিকালে পুরুষ ভোটারের উপস্থিতি বাড়তে পারে।    

বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ চলে। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসেবে সার্বক্ষণিক দায়িত্বে পালন করছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশ।  প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে এক জন করে পুলিশ, চারজন নারীসহ ১৩ জন আনসার সদস্য দায়িত্বে রয়েছেন। তবে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ৩ জন এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে ২ জন পুলিশ রয়েছেন। এছাড়া গোটা উপজেলায় ৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ৩ প্লাটুন সেনাবাহিনী, ২ প্লাটুন বিজিবি ও পুলিশের ১০টি মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া স্ট্রাইকিং ফোর্স দায়িত্ব পালন করছেন।

গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৮ জন প্রার্থী। প্রার্থীগণ হচ্ছেন জামায়াতের মো. মাজেদুর রহমান, বিএনপির খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী, জাতীয় পাটির মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোস্তফা মহসিন সরদা, পরমানন্দ দাস (বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল), মো. কাওছর আজম হান্নু (আমজনতার দল), মোছা: ছালমা আক্তার (স্বতন্ত্র), মো. রমজান আলীকে  (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ)।

উপজেলার পনের ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ভোট সংখ্যা ৪ লাখ ১৯ হাজার ১১১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭ হাজার ৫৭৩ জন, মহিলা ভোটার ২ লাখ ১১ হাজার ৫৩৫ জন, এবং হিজড়া ভোটার ৩ জন। মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১২৩টি। মোট কক্ষের সংখ্যা ৭৭৩টি। এর মধ্যে স্থায়ী কক্ষ ৭০৫টি এবং অস্থায়ী কক্ষ ৬৮টি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad