Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
  • ১৩ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

মেয়ের বিরুদ্ধে বাবাকে হত্যার অভিযোগ তিন মাস পর লাশ কবর থেকে উত্তোলন

মেয়ের বিরুদ্ধে বাবাকে হত্যার অভিযোগ তিন মাস পর লাশ কবর থেকে উত্তোলন

সাদুল্লাপুর প্রতিনিধি ►
সাদুল্লাপুর উপজেলায় মেয়ের বিরুদ্ধে বাবাকে হত্যার অভিযোগ উঠায় দাফনের প্রায় তিন মাস পর তৈয়ব আলী সরকার (৮০) নামে এক বৃদ্ধার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার নলডাঙ্গা কেন্দ্রীয় কবরস্থান থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের উপস্থিতে এই লাশ উত্তোলন করা হয়। এর আগে মৃত. তৈয়ব আলী সরকারের অপর মেয়ে কোহিনুর বেগম গাইবান্ধাস্থ সাদুল্লাপুর আমলী আদালতে এই অভিযোগ করেন। তৈয়ব আলী সরকার উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের নলডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা।

বড় মেয়ে কোহিনুর বেগম গত ৭ জুন তার ছোট বোন রহিমা বেগম (৪৫) সহ চারজনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়েরের জন্য গাইবান্ধাস্থ সাদুল্লাপুর আমলী আদালতে অভিযোগ করেন। আদালত গত ১১ জুন মামলাটি রের্কড পূর্বক তদন্তের জন্য সাদুল্লাপুর থানায় প্রেরণ করে। মামলায় অপর তিন আসামীরা হলেন, রহিমা বেগমের মেয়ে জামাই রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার এমাতপুর ডোবার বাজার গ্রামের আনছার আলীর ছেলে হামিদুল ইসলাম (৩৫), হামিদুল ইসলামের স্ত্রী সুমাইয়া আকতার (২৫) ও ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং নলডাঙ্গা শাখার ব্যবস্থাপক সোহাগ মিয়া। এছাড়া অজ্ঞাত আরও ২জনকে এই মামলায় আসামী করা হয়।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, গত মার্চ মাসে তৈয়ব আলী সরকার অসুস্থ হন। এ খবর পেয়ে গত ১৪ মে চিকিৎসার জন্য তার ছোট মেয়ে রহিমা বেগম পিতাকে তার বাড়ি উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের টুপামারী গ্রামে নিয়ে যান। এরপর গত ১৫ ও ১৬ মার্চ দুটি পৃথক চেকে ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং নলডাঙ্গা শাখায় তৈয়ব আলী সরকারের গচ্ছিত ১৭ লক্ষ ৭২ হাজার ৬৩৮ টাকা উত্তোলন করা হয়। পরবর্তীতে গত ১৮ মে রহিমা বেগমের মেয়ে সুমাইয়া ও মেয়ে জামাই হামিদুল ইসলাম তাদের বাড়িতে তৈয়ব আলীকে নিয়ে যান। সেখানে তিনি গত ১৯ মে রাতে মারা যান। পরের দিন ২০ মে লাশ নলডাঙ্গা কবরস্থানে নিয়ে এসে দ্রুত দাফন করে।

সাদুল্লাপুর থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) রিপন মিয়া জানান, বাদির অভিযোগ তার পিতা অসুস্থ থাকা অবস্থায় জোর পূর্বক ব্যাংকের চেকে টিপসহি নিয়ে আসামীরা যোগসাজস করে এই টাকা উত্তোলন করে। পরবর্তীতে বিষয়টি যাতে প্রকাশ না পায় এ জন্য রহিমা বেগম মেয়ে জামাইয়ের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে তাদের সহযোগিতায় তার পিতাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি আরও জানান, ইতিপূর্বে এই চেকবইগুলো বাড়ি থেকে হারিয়ে গেলে বৃদ্ধ তৈয়ব আলী বিগত ২০২৫ সালে ১২ জানুয়ারী বিষয়টি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করেন। যাতে এই চেক দ্বারা কেউ তাঁর গচ্ছিত টাকা উত্তোলন করতে না পারে।

সাদুল্লাপুর থানার ওসি একেএম হাবিবুল ইসলাম জানান, লাশ উত্তোলনের পর গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের পর বুধবার দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, আদালতের নির্দেশে এ ঘটনায় গত ২৩ জুন সাদুল্লাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad