
মোদাচ্ছেরুজ্জামান মিলু►
গাইবান্ধা ল কলেজ কিন্ডারগার্টেন স্কুলে ঢুকলেই আঁতকে উঠতে হয় ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা দেখে। শতবর্ষ অতিক্রম করা জরাজীর্ণ অবস্থায় চলছে ল কলেজ কিন্ডার গার্টেন স্কুলের ক্লাস। শিক্ষক, কর্মচারী, অধ্যক্ষ সকলেই এক চরম আতঙ্কের মধ্যদিয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এই প্রতিষ্ঠানের ভবন একপাশে ধ্বসে পড়েছে এবং শিশু শিক্ষার্থীরা বেঁচে গেছে দুর্ঘটনার হাত থেকে। বিদ্যুতের কানেকশনগুলিতে বৃষ্টির পানি পড়ার সাথে সাথে স্পার্কিং শুরু হয় এবং সকলে ভয়ে দৌড়ে বাহিরে যায়। এদিকে বৃষ্টি হলেই চুয়ে চুয়ে পানিতে ভিজে যায় টেবিল চেয়ার ও কাগজপত্র। সবকিছু মিলে শিক্ষক, কর্মচারী ও শিশু শিক্ষার্থীরা এক চরম আতঙ্কে রয়েছে। উল্লেখ্য রাত করে ল কলেজের ক্লাস হলেও এখন এই আতঙ্কে সেই ক্লাসও ঠিকমতো হচ্ছে না। কেন এত সমস্যা এই প্রতিষ্ঠানে?
১৯৮৩ সালে গাইবান্ধা আইন কলেজের প্রতিষ্ঠা হয়। প্রতিষ্ঠার পর শহরের ভিন্ন স্থানে গাইবান্ধা আইন কলেজের কার্যক্রম চলার পর ১৯৯৫ সালে গাইবান্ধা আইন কলেজের কার্যক্রম ও ক্লাস চালু হয় যা বর্তমানে এখনও আছে। এদিকে একই বছরে ল কলেজ কিন্ডার গার্টেন চালু হয় একই ক্যাম্পাসেই। ১৯৮৯ সালের দিকে এটি বালিকাদের এতিখানা হিসেবে ছিলো। এই প্রতিষ্ঠানের মোট জায়গা ৫২ শতক যা ভেস্টেট প্রোপার্টি অর্থাৎ পরিত্যক্ত সম্পত্তি। প্রায় শতবর্ষের এই ভবনটির চতুর্দিক দেখলে যে কেউ আঁতকে উঠবে যে কিভাবে এই ভবনে এখনও কার্যক্রম চলছে। কোথাও ফাটল দেখা দিয়েছে আবার কোথাও ফাটলের ভিতর থেকে পরগাছা জন্মে ছাদেই বড় হচ্ছে সেইসব গাছ। ব্যবহারের অনুপযোগী এই ভবনকে সরকারের গণপূর্ত বিভাগ ১৯৯৩ সালে পরিত্যক্ত হিসেবে ঘোষণা করে যেখানে ভবনটি ব্যবহারের জন্য নিষেধ করা হয়। তারপরেও কার্যক্রম চলছে এই ভবনে।
এই ক্যাম্পাসের পেছনের দিকে অর্থাৎ সার্কুলার রোডের দিকে টিনসেডে চলে ল কলেজের রাত্রীকালীন ক্লাস এবং দিনে চলে ল কলেজ কিন্ডার গার্টেনের ক্লাস। গাইবান্ধা আইন কলেজের মালিকানা বা সম্পত্তি নিয়ে তখন ছিলো বেশ জটিলতা। শুরুর দিকে তৎকালীন গাইবান্ধা আইন কলেজের অধ্যক্ষ বাদী হয়ে এই সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে মামলা করেছিলেন। কিন্তু মামলার রায়ে কোর্ট সরকারি সম্পত্তি হিসেবে রায় দেন এবং এই রায়ের ভিত্তিতে তখন জেলা প্রশাসক এই সম্পত্তি ল কলেজ কিন্ডার গার্টেনকে লিজ হিসেবে দেয়। ল কলেজ কিন্ডার গার্টেনের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) শাহ আলম বাবলু জানান যে, বিগত সরকারের সময়ে এই স্থানে জেলা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ করার কথা এবং সিদ্ধান্ত মোতাবেক সবই ঠিক ছিলো। কিন্তু কি কারণে তা বন্ধ হলো সেটা বেশ আশ্চর্যের বিষয়।
শাহ আলম বাবলু বলেন, গত ২৮ আগস্ট ২০১৯ খ্রিস্টাব্দে এই বিষয়ে গাইবান্ধা আইন কলেজ, ল কলেজ কিন্ডার গার্টেন কর্তৃপক্ষ এবং গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলা শিক্ষা অফিসার, তৎকালীন পৌর মেয়রসহ শহরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তারা সকলেই শহরে আরেকটি মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। ঐ সভায় গাইবান্ধা আইন কলেজ, ল কলেজ কিন্ডারগার্টেন কর্তৃপক্ষের সাথে দুটি প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষা করে একটি স্মারক চুক্তি স্বাক্ষর ও প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার তহবিল গঠনসহ প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও পরিচালনার একটি প্রাথমিক রুপরেখাও প্রণয়ন করা হয়। সেই রুপরেখা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার জন্য ইট সংগ্রহ করে বিদ্যালয় মাঠে রাখা হয়। কিন্তু পরে সেই ইট আবার জেলা প্রশাসন তুলে নিয়ে যায়!
এ ব্যাপারে তৎকালীন জেলা প্রশাসক আব্দুল মতিন ওই স্থানে কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে কোনো এক অবৈধ বাধার মুখে তার অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন এবং ওই স্থানে প্রতিষ্ঠান না করার জন্য নিষেধ আছে বলে তিনি জানান। অধ্যক্ষ শাহ আলম বাবলু আরো জানান, সেই সময় বহু মিটিং, মিছিল, আন্দোলন, মামলা-মোকদ্দমা করে শহরের প্রাণকেন্দ্রের এই জায়গাটিকে এক দখলদারের কবল থেকে রক্ষা করা হয় আজ থেকে প্রায় ২৩/২৪ বছর আগে। এ বিষয়টি গাইবান্ধার সচেতন মহলসহ প্রায় সকলেই জানেন। তিনি জানান,অনেকেরই লোলুপ দৃষ্টি ছিল এই জায়গাটিকে দখল করে মার্কেট নির্মাণ করা যেখানে আর্থিক স্বার্থ ছিলো। সেই দৃষ্টিরই ধারাবাহিকতা ছিলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে জেলা কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেওয়া।