Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
  • ১৫ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

সাঘাটায় বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে উঠতে ঢালু পাকা সংযোগপথ না থাকায় ভোগান্তির শিকার

সাঘাটায় বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধে উঠতে ঢালু পাকা সংযোগপথ না থাকায় ভোগান্তির শিকার

জয়নুল আবেদীন, সাঘাটা

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার খামারপবনতাইড় গ্রামে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এখন স্থানীয় মানুষের জন্য আশীর্বাদের চেয়ে দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুই পাশে পাকা সড়ক থাকলেও মাঝখানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উঁচু বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি অতিক্রমের জন্য কোনো ঢালু পাকা সংযোগপথ না থাকায় প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাজারো মানুষ। স্থানীয়দের ভাষায়, এটি এখন সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এক অদৃশ্য দেয়াল।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁধের উভয় পাশে পাকা সড়ক নির্মাণ করা হলেও বাঁধের অংশটি কাঁচা ও অত্যন্ত খাড়া। ফলে রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ ছোট যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারে না। যাত্রীদের নামিয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় ঠেলাঠেলি করে যানবাহন বাঁধ পার করতে হয়। বর্ষাকালে কাদা ও পিচ্ছিল পরিবেশ সৃষ্টি হলে দুর্ভোগ আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রোগী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীরা এই পথে চলাচল করেন। বাঁধের দুই পাশে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি কলেজ, সরকারি হাসপাতাল, দুটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস। জরুরি রোগী পরিবহন কিংবা শিক্ষার্থীদের সময়মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছাতেও প্রায়ই সমস্যা দেখা দেয়।

খামারপবনতাইড় গ্রামের বাসিন্দারা আজাদুল, শফিকুল মাষ্টার, হাবিজারসহ অনেকেই জানান, বহু বছর ধরে এ সমস্যা থাকলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও এখনো বাঁধের অংশটি নিচু করে ঢালুভাবে পাকা করা হয়নি। অপর দিকে পবনতাইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে পালপাড়া ও মশিয়ালপাড়া রাস্তার অবস্থা আরও করুণ, এখানে বাঁধের উভয় পাশের রাস্তা কাঁচা। বৃষ্টির পানির তোরে বাঁধের অংশ ধসে রাস্তায় গভীর খাদের সৃষ্টি হয়ে যান চলাচল কার্যত পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।  

স্থানীয় ভ্যানচালকরা বলেন, যাত্রী নিয়ে বাঁধ পার হতে গেলে কয়েকজনের সাহায্য লাগে। অনেক সময় যাত্রীরা বিরক্ত হয়ে মাঝপথে নেমে হাঁটতে বাধ্য হন। অপর পাশের রাস্তা বন্ধ পায়ে হেটে কোনো রকমে লোকজন চলাচল করতে হচ্ছে। লোকজন অসুস্থ হলে হাসপাতালে অথবা ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া কষ্টকর হয়ে যায়। অভিভাবকদের ভাষ্যমতে শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে বাঁধ পার হয়ে বিদ্যালয়ে যায়। বর্ষার দিনে দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। অথচ এসব যেন দেখার কেউ নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দাবি, বাঁধের ওই অংশটি প্রকৌশলগতভাবে নিচু করে উভয় পাশের সড়কের সঙ্গে সংযোগ রেখে পাকা ঢালু র‌্যাম্প নির্মাণ করা হলে দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগ দূর হবে। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটবে। 

এব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এর সদউত্তর পাওয়া যায়নি। তবে সাঘাটা উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) নয়ন রায় বলেন, আগামী অর্থবছর বরাদ্দ এলে সড়কের উন্নয়ন কাজ শুরু করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad