Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ১৩-৫-২০২৬, সময়ঃ দুপুর ০১:১২
  • ১৫৪ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

সুন্দরগঞ্জে কুকুরের কামড়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচজনে

সুন্দরগঞ্জে কুকুরের কামড়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচজনে

এ মান্নান আকন্দ, সুন্দরগঞ্জ ►

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পাগল কুকুরের কামড়ে এ পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে। আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ১১ জন। সর্বশেষ গতকাল বুধবার ১২টার দিকে উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের বজড়া কঞ্চিবাড়ি গ্রামের সুলতানা বেগম নামের এক নারীর মৃত্যু হয়। এনিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচজনে। মৃত্যুর মিছিল লম্বা হচ্ছে। দীর্ঘ এক বছর ধরে হাসপাতালে ভ্যাকসিন নাই, স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রশাসনের দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বাস্থ্য বিভাগের নিরব ভূমিকা এলাকার সচেতন মহলকে আহত করে তুলেছেন। মেডিকেল বোর্ড গঠন করে আক্রান্তদের চিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। যাদের মৃত্যু হয়েছে তারা হলেন নন্দরানী, ফুল মিয়া, রতনেশ্বর, আফরুজা বেগম ও সুলতানা বেগম।

স্থানীয় সাইদুর রহমান বলেন, গত ২২ এপ্রিল সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ধর্মপুর এলাকা থেকে দ্রুত গতিতে একটি কুকুর এসে বিষ্মুময়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে নন্দ রানীর মুখে কামড় দেয়। এরপর এক এক করে বজড়া কঞ্চিবাড়ি গ্রামের ১৫ জনকে কামড় দেয়। সর্বশেষ কামড় দেয় আতিকুর রহমানকে। সেই আতিকুর পরে কুকুরটিকে পিঠিয়ে মেরে ফেলে। আক্রান্তরা হলেন ফজিতন নেছা, রুমিনা বেগম, নজরুল ইসলাম, হামিদুল ইসলাম, গোলেনুর বেগম, মিতু বেগম, আতিকুর মিয়া, লাবন্য আকতার, বিজয় হোসেন, জয়নাল আবেদীন, চাদনী বেগম। উপজেলা প্রশাসন ও কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ নিহত ও আহতদের নামের তালিকা নিশ্চিত করেছেন।

সর্বশেষ গতকাল বুধবার দুপুর ১২টার দিকে কুকুরের কামড়ে মারা যাওয়া সুলতানা বেগমের স্বামী সালাম মিয়া বলেন, তার স্ত্রীর সুচিকিৎসার জন্য প্রথমে তিনি গাইবান্ধা হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে সরকারি ভাবে ভ্যাকসিন না পাওয়ায় তিনি বাইর থেকে ভ্যাকসিন কিনে এনে তার শরীরে পুশ করে নেন। বাইরের ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা কেমন এটা তার জানা ছিল না। তার ধারনা সরকারি ভাবে ভ্যাকসিন পেলে হয়তো তার স্ত্রীকে বাঁচাতে পারত।

পাগল কুকুরের আক্রান্তের পর আক্রান্তরা সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতাল ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন না পাওয়ার বাইর থেকে ভ্যাকসিন কিনে চিকিৎসা করছেন। এনিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের গাফিলতি, হাসপাতালে সরকারি ভাবে ভ্যাকসিন সরবরাহ না করা ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসি।

কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মনোয়ার আলম সরকার বলেন, দীর্ঘ এক বছর ধরে হাসপাতালে কেন ভ্যাকসিন সরবরাহ নাই, এ দায় কার? বুধবার ১২টার দিকে সুলতানা বেগম মারা যান। বিষয়টি এতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করবে সেটি তার জানা ছিল না। তিনি সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের এবং জেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন।

উপজেলা নিবার্হী অফিসার ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলছে। স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমানের পরামর্শ ক্রমে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নিহত ও আহতদের বাড়িতে গিয়ে তাদের খোঁজ খবর নেয়া হয়।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্ববধায়ক ডা. মো: শহীদুল্লাহ বলেন, চলতি বছরের ৪ এপ্রিল গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ১ হাজার ভ্যাকসিন বরাদ্দ পেয়েছিলাম। তার দুদিন পরে সে সব ভ্যাকসিন শেষ হয়েছে এবং আবারো ঢাকায় চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে গাইবান্ধা সিভিল সার্জন ডা: মো. রফিকুজ্জামান বলেন, গত ২২ এপ্রিলে সুন্দরগঞ্জে কুকুর কামড়ানোর ঘটনা ঘটলেও তারা নিকটস্থ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে যাননি। শুনেছি, তারা গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল এবং রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছিল। সে সময় গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভ্যাকসিন ছিল। কিন্তু তারা কেন ভ্যাকসিন পেলেন না, সেটা নিশ্চিত করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা প্রয়োজন।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেজিস্টার ডাক্তার মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, গভীর রাতে রোগী ভর্তির বিষয়টি ওয়ার্ড বয় এবং নার্সরা দায়িত্ব পালন করে থাকেন। সে কারণে হয়তো, অনাকাঙ্খিত ঘটনাটি ঘটেছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। সেই সাথে তিনি বলেন, ভ্যাকসিন সরবরাহ না থাকলে তো রোগীকে দেয়া সম্ভব হবে না।

গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে কথা বলেছেন। হাসপাতালে ভ্যাকসিন না থাকার বিষয়টি তিনি স্বাস্থ্য বিভাগের দায় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad