Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৩ ঘন্টা আগে
  • ১২ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক উৎসবে বাংলাদেশের জয়

যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক উৎসবে বাংলাদেশের জয়

অনলাইন ডেস্ক ►
কানেক্ট এইচইআর ফিল্‌ম ফেস্টিভাল ২০২৬-এ Women & Work ক্যাটাগরিতে সেরা সুরাইয়া তাছনিন সাথীর রেশমা : এ স্ট্রাগল ফর আইডেন্টিটি

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের অস্টিন শহরে অনুষ্ঠিত ১৩তম আন্তর্জাতিক কানেক্ট এইচইআর ফিল্ম ফেস্টিভাল ২০২৬-এ বাংলাদেশের একটি প্রামাণ্যচিত্র বিশ্বমঞ্চে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে। বিশ্বের ২৬টি দেশের ১৮৪টি চলচ্চিত্রকে পেছনে ফেলে Women & Work ক্যাটাগরিতে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতেছে গাইবান্ধা জেলার তরুণ নির্মাতা সুরাইয়া তাছনিন সাথীর "রেশমা: এ স্ট্রাগল ফর আইডেন্টিটি’"।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এটি সুরাইয়া তাছনিন সাথীর নির্মিত প্রথম চলচ্চিত্র। কানেক্ট এইচইআর-এর বিশেষ ফেলোশিপ ভিত্তিক ফিল্‌ম ক্লাসে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রাথমিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রায় এক বছরব্যাপী গবেষণা ও পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে নির্মিত এই প্রামাণ্যচিত্র তার প্রথম কাজ হিসেবেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতি এনে দিয়েছে।

কানেক্ট এইচইআর একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা নারী ও কন্যাশিশুদের সামাজিক অবস্থান উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প, জীবনগাঁথা এবং চলচ্চিত্রের মাধ্যমে কাজ করে। সংস্থাটি তিনটি মূল কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করে নারী-নেতৃত্বাধীন প্রকল্পকে সহায়তা প্রদান, শিক্ষার্থী নির্মাতাদের চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে উপস্থাপন, এবং তরুণ প্রজন্মকে সামাজিক পরিবর্তনে সম্পৃক্ত করা।

সুরাইয়ার এই সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন ফেলোশিপের মেন্টর নভেরা হাসান নিক্বণ। তাঁর তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় সুরাইয়া চলচ্চিত্র নির্মাণের শৈল্পিক ও কারিগরি দিকগুলো আয়ত্ত করেন, যা চলচ্চিত্রটিকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সহায়ক হয়েছে।

গত ১ ও ২ মে অস্টিনের স্ট্রিট থিয়েটারে দুই দিনব্যাপী আয়োজিত হয় এই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। সমাপনী দিনে বিশ্বব্যাপী নির্মাতাদের উপস্থিতিতে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। উল্লেখ্য, সুরাইয়া তাছনিন সাথী চলতি বছর উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থী, এবং পড়াশোনার পাশাপাশি তার এই অর্জন বিচারকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে।

রেশমা : এ স্ট্রাগল ফর আইডেন্টিটি’ প্রামাণ্যচিত্রটির মূল চরিত্র সুরাইয়া ফারহানা রেশমা, যার বাস্তব জীবনের সংগ্রাম ও আত্মপরিচয়ের লড়াই চলচ্চিত্রটির মূল বিষয়। সিনেমাটোগ্রাফিতে ছিলেন মিঠুন বর্মন ও মারুফ ভুঁইয়া। প্রডাকশন টিমে কাজ করেছেন আবু বকর সিদ্দিক (শুভ আকন্দ), আপন, আরিফ, সুস্মি সরকার ও অর্ঘ্য রায়। কারিগরি সহায়তায় ছিল ধ্রুপদ কমিউনিকেশন।

বিজয় প্রসঙ্গে সুরাইয়া তাছনিন সাথী বলেন, আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। কানেক্ট এইচইআর-এর ফিল্‌ম ক্লাসে প্রথম যখন সিনেমা তৈরির পাঠ নিচ্ছিলাম, তখন ভাবিনি প্রথম ছবিতেই এমন অর্জন আসবে। এই ফেলোশিপ এবং দীর্ঘ এক বছরের সাধনা আজ সার্থক হলো। আমার মেন্টর নভেরা হাসান নিক্বণ এবং আমার মা কহিনুর বেগমের সহযোগিতা ছাড়া এটি সম্ভব হতো না।”

এই অর্জনের মাধ্যমে সুরাইয়া তাছনিন সাথী ২,৫০০ মার্কিন ডলার প্রাইজ মানি ও একটি স্কলারশিপ লাভ করেছেন। আন্তর্জাতিক এই স্বীকৃতি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি তরুণ নির্মাতাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad