
সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি ►
সুন্দরগঞ্জের মিনি পার্ক এবং পুকুরের শোভা বর্ধনের কাজ ঝুলে যাওয়াই বিনোদন প্রেমীরা হাতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। তদারকি এবং ব্যবস্থাপনা না থাকায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে তৈরিকৃত উপকরণ সমুহ। পুকুরের শোভা বর্ধনের কাজ এখন অসুন্দরে পরিনত হয়েছে। উপজেলা পরিষদের পুকুরের শোভা বর্ধন ও মিনি শিশু পার্কের বিভিন্ন উপকরণ তৈরি করতে গিয়ে পুকুরের উত্তর পাড়ে সিমেন্ট নিয়ে নির্মাণ করা হয় ‘আই লাভ সুন্দরগঞ্জ’। সেই সাথে পুকুর পাড় পাকা করণ, বসার স্থান, লাইটিং ব্যবস্থা এবং মিনি পার্কে শিশুদের খেলাধুলার উপকরণ, বসার চেয়ার, কবিদের খোদাই করা ছবি নির্মাণ করা হয়।
কলেজ পাড়ার আব্দুর রহিম বলেন, পৌর শহরের মধ্যে কোন বিনোদন কেন্দ্র নেই। সে কারনে প্রতিদিন সকাল-বিকাল শিশুদের নিয়ে অনেকে ঘুরতে মিনি শিশু পার্কে । সেটিও তদারকি অভাব ও অব্যবস্থাপনার কারনে দিন দিন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে শিশুদের বসার স্থান, লাইটং ব্যবস্থা, পুকুর পাড়ের ইটের গাথনী নষ্ট হয়ে গেছে। তারপরও পৌরবাসি ও উপজেলার আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের ছেলে মেয়েরা সকাল বিকাল এই পার্কে এসে আড্ডা দিচ্ছেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ নিরব। বিশেষ করে বিনোদনের স্থান না থাকায় ছেলে মেয়েরা এখন মোবাইলে আসাক্ত হয়ে পড়েছেন।
উপজেলা পরিষদের উত্তর পাশের গোয়ালের ঘাট বধ্যভুমি এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনানেরর সামনে আজ থেকে ৯ বছর আগে পুকুরের শোভা বর্ধন ও শিশু পার্কের নির্মাণ কাজ শুরু করেন উপজেলা পরিষদ। এতে সহযোগিতা করেছেন সাবেক সংসদ সদস্যগণও বলেন সাবেক উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. ওয়ালিফ মন্ডল। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। বরাদ্দ না থাকায় পরবর্তীতে আর কাজ করা সম্ভাব হয়নি। সে কারনে পুকুরের শোভা বর্ধন ও মিনি শিশু পার্কের নির্মাণ কাজ ঝুলে যায়। পার্কে ঘুরতে আসা শিশু সারা আকতার বলেন, এখানে ঘুরতে আমার খুব ভাল লাগে।
কিন্তু পার্কে বসার চেয়ার, দোলনাসহ বিভিন্ন খেলাধুলার উপকরণগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। তাছাড়া পুকুর পাড়ের দুই পাশে পাকা রাস্তা আছে, যা দেখতে অনেক ভাল। উপকরণগুলো মেরামত দরকার। উপ-সহকারি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মো. খোকন রানা বলেন, জায়গাটি অত্যন্ত চমৎকার। কারন এর পাশঘেঁসে তিস্তার একটি শাখা নালা রয়েছে। বর্ষাকালে দৃষ্টি নন্দন মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি হয় এখানে। সকলের প্রচেষ্টায় বিনোদন পার্ক নির্মাণ করা একান্ত প্রয়োজন।
ছেলে মেয়েদের বিকাশের জন্য বিনোদন কেন্দ্র সহপাঠ্যক্রম কার্যবালীর একটি অংশ। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিযার রহমান বলেন, পুকুরের শোভা বর্ধন ও মিনি পার্কের তৈরিকৃত উপকরণ সমুহ মেরামত ও তদারকি করা জরুরী হয়ে পড়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। উপজেলা নিবার্হী অফিসার ঈফাত জাহান তুলি বলেন, উপজেলা শহরে একটি বিনোদন কেন্দ্র অত্যন্ত জরুরী। পুকুরের শোভা বর্ধন ও মিনি পার্কের নির্মাণ কাজ চলামান রাখার ব্যবস্থা করা হবে।