
সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি ►
নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সুন্দরগঞ্জের সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাঠ- ঘাট, কাচাপাকাসহ গ্রামীণ হাইওয়ে সড়কগুলোতে ধান, ভূট্টা মাড়াই ও শুকানোর কাজে মহাব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। এতে করে মাঠ-ঘাটসহ সড়কগুলো সংকুচিত হয়ে পড়ছে। দুর্ঘটনা এবং পথচারীর সাথে বাকবিতন্ডা লেগেই আছে সবসময়। বিশেষ করে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভা থেকে মওলানা ভাসানী সেতু পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার গ্রামীণ হাইওয়ে সড়কে এখন ধান ও ভূট্টা মাড়াই বা শুকানোর দৃশ্য যেন চোখে পড়ার মত।
টানা বর্ষনের কারনে চলতি ভূট্টা ও বোরো মৌসুমের শুরুতেই উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার কাচা পাকা সড়কগুলো এখন ধান এবং খড়ের দখলে চলে গেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে কৃষক-কৃষাণীরা সকড়গুলা বাড়ির উঠান হিসেবে ব্যবহার করছেন। এতে করে প্রতিদিন ঘটছে সড়ক দূর্ঘটনা এবং পথচারির সাথে যানবাহন চালকদের বাকবিতন্ডা। উপজেলার ধুমাইটারি গ্রামের আতাউর রহমান বলেন, বাড়ির উঠান না থাকায় সড়কগুলোতে ভূট্টা, ধান মাড়াই, ভূট্টা, ধান ও খড় শুকানোর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে । এটি অন্যায় স্বীকার করে তিনি বলেন, সড়কে ধান ও খড় শুকানোর কারনে পথচারি এবং যানবাহন চালকগণ অত্যন্ত ঝুকি নিয়ে চলাচল করছে। পাশাপাশি ভূট্টা, ধান ও খড় শুকানোর কারনে ছোট খাট সড়ক দূর্ঘটনা ঘটছে। তার দাবি অন্যায় হলেও কোন উপায় না থাকায় উপজেলার বেশির ভাগ কৃষক-কৃষাণী এ কাজ করছেন।
ব্যাটারি চালিত মিশুক অটো চালক মতিয়ার রহমান বলেন যে কোন কাটা মাড়াইয়ের মৌসুমের সময় বিশেষ করে গ্রাম-গঞ্জের ভিতরের সড়কগুলোতে মিশুক, অটো, ভ্যান, রিক্সা ও মোটরসাইকেল চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর। ভূট্টা, ধান ও খড়ের উপর দিয়ে গাড়ি চালানোর সময় ব্রেক করলেই দূর্ঘটনা নিশ্চিত। হর্ণ বাজানোর পরও সাইট না দেয়ায় কৃষক-কষানীগণের সাথে বাকবিতন্ডা লেগেই চলছে। কারো কোন কথায় মানছেন না কৃষক-কৃষাণীরা। তাদের দাবি আগে ধান ও ভূট্টা শুকে নেই, তারপর অন্য কথা।
মোটরসাইকেল চালক ও স্কুল শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন বলেন, কাচা, পাকা ও গ্রামীণ হাইওয়ে সড়কগুলোতে ভূট্টা ও ধান শুকানোর কারনে সংকুচিত হয়ে আসছে। সে কারনে প্রতিদিন ঘটছে সড়ক দূর্ঘটনা। সড়কে ভূট্টা, ধান ও খড় পরিচর্যার কারনে পথচারিগণের চোখে এবং নাকে ধুলাবালি পড়ে নানাবিধ সমস্যায় সৃষ্টি হচ্ছে। সেই সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ-ঘাটগুলো ওই এলাকার কৃষক-কৃষাণীদের দখলে চলে গেছে। বলার কোন ভাষা নেই।
দহবন্দ ইউনিয়নের অজিত কুমার রায় বলেন, সড়ক ব্যবহার করে ভূট্টা, ধান ও খড় শুকানোর কারনে হাটা-চলা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। ভূট্টা, ধানও খড়ের ধুলাবালি পথচারিগণের নানাবিধ ক্ষতির কারনে হয়ে দাড়িছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীগণ চরম ঝুকি নিয়ে চলাচল করছেন। হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে এ ব্যাপারে কিছু বলার নেই। তবে কৃষক-কৃষাণী ভাই বোনদের নিকট এটাই আবেদন সব বিষয় বিবেচনা করে কাজ করতে হবে। এই মুহূর্তে কৃষক-কৃষাণীরা নিয়ম- নীতির তোয়াক্কা করছেন না।
উপজেলা কৃষি অফিসার মো. কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বেশিরভাগ কৃষকের বাড়ির উঠান নেই। সে কারনে বিশেষ করে ভূট্টা ও বোর মৌসুমে সড়কগুলো বেশি ব্যবহার করেন কৃষক-কৃষাণীগণ। এ ব্যাপারে সকলকে সর্তক ও আন্তরিক হতে হবে। এটি অন্যায়, বলার অপেক্ষা রাখে না। উপজেলা নিবার্হী অফিসার ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, বিষয়টি নিয়ে গত মাসের আইনশৃঙ্খলঅ কমিটির সভায় ব্যাপক আলোচনা করা হয়েছে। এভাবে আসলে কখনো ভাবা হয়নি। বিশেষ করে পাকা ও গ্রামীণ হাইওয়ে সড়ক ব্যবহার করে ধান ও খড় শুকানো মারাত্বক ঝুকিপূর্ণ কাজ। আশু প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।