Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ১ ঘন্টা আগে
  • ৫ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

নৌকায় এক মাত্র ভরসা, তাই মেরামত

নৌকায় এক মাত্র ভরসা, তাই মেরামত

সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি ►

গত এক সপ্তাহ ধরে অবিরাম বর্ষন ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তা নদীর পানি বাড়ায় ডুবে যাচ্ছে চরগুলো। সেই সাথে তিস্তার শাখা নদী বা নালাগুলো ভরে গেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় চরবাসি চলাচল মারাত্বভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এক চর থেকে অন্য চরের যাওয়ার জন্য নৌকা, বাঁশের টার বা সােঁকা এখন চরবাসির একমাত্র ভরসা। মাঝি-মাল্লা এবং চরবাসিরা ইতোমধ্যে নৌকা মেরামত করতে শুরু করেছে। 

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, ছন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের ওপর দিয়ে তিস্তা নদী প্রতিবছর বর্ষাকাল আসলে চরবাসির দুঃখ কষ্টের সীমা থাকে না। একদিকে বেড়ে যায় নদীতে পানি অন্য দিকে ভাঙনে রাস্তাঘাটসহ বসতবাড়ি এবং ফসলি জমি বিলিন হয় নদীগর্ভে। বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় চরবাসিকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় প্রায় ছয় মাস। 

উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের উজান বোচাগাড়ি গ্রামের ফুলমিয়া বলেন, নদীতে পানি বেড়ে যাওয়ায় সাথে সাথে রাস্তাঘাট ডুবে যায়। হাট-বাজার এমনকি উপজেলা, জেলা শহরে যাওয়া আসা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ছেলে মেয়েদের স্কুল ও কলেজে যাওয়া আসা বন্ধ হয়ে যায়। চরে ছোট ছোট শাখা নদী বা নালাগুলো পারাপার করতে নৌকায় চরবাসির একমাত্র ভরসা। অনেক চরবাসির নিজস্ব নৌকা আছে, আবার অনেকে ভাড়া নৌকা দিয়ে পারাপার করে। প্রতিবছর তিস্তায় পানি বাড়ার সাথে সাথে নৌকা মেরামত করতে হয়। 

বেলকা চরের নৌকার মাঝি-মাল্লা আঞ্জু মিয়া বলেন, প্রতিবছর বর্ষাকাল আসলেই নৌকায় রং, বার্নিশ, প্লানসিট বা টিন পরিবর্তন এবং মেরামত করতে হয়। চার থেকে পাঁচ মাস নদীতে ভাড়া খাটা যায়। যে হারে নৌকা মেরামত করতে প্রতিবছর খরচ হয় তাতে করে কোনমতে সংসার চালানো যায়। অনেকে খেয়াঘাটে সরকারি ভাবে ইজারার মাধ্যমে নৌকা চলাচল করে। 

কাপাসিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রতিবছর স্থানীয়ভাবে ও ব্যক্তিগত অর্থায়নে চরের অনেক রাস্তাঘাটে সাঁকো করে দিতে হয়। যেসব মাঝি -মাল্লা ভাড়ায় নৌকা চালান, তারা প্রতিবছর নৌকা মেরামত করে থাকেন। বছরের বেশিভাগ সময় নৌকা বালু চরে পড়ে থাকার কারণে নষ্ট হয়ে যায়। সে কারণে মেরামত করতে হয়। 

হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, চরবাসির চলাচলের একমাত্র ভরসা নৌকা। তাই নদীতে পানি বাড়লে নৌকা মেরামত করে নেন মাঝে-মাল্লাগণ। এটি বাপ দাদার ব্যবসা, অনেকে এখনো চালিয়ে যাচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিয়ার রহমান বলেন, বর্ষাকালে নদী পারাপারের জন্য উপজেলায় সরকারি ভাবে কোন নৌকা বরাদ্দ নেই। অন্য উপজেলায় নৌকা এবং স্প্রিডবোর্ড রয়েছে। নৌকা কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad