
অনলাইন ডেস্ক ►
বগুড়া জেলার ৭টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং ভিআইপি হিসেবে পরিচিত বগুড়া-৬ (সদর) আসন। আগামী ৯ এপ্রিল এ আসনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে উপনির্বাচন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় এখানে নতুন করে ভোটের লড়াই শুরু হয়েছে। বিএনপির জন্য যেমন এই আসনটি তাদের অস্তিত্ব ও মর্যাদার লড়াই, তেমনি জামায়াতের জন্য এটি রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের এক বিশাল সুযোগ।
বিগত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তারেক রহমান বিপুল ভোটে জয়ী হলেও এবারের উপনির্বাচনে রাজনৈতিক সমীকরণ অনেকটাই পাল্টে যেতে শুরু করেছে।
জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশাকে ধানের শীষের প্রার্থী করা হলেও তাঁকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে ফেলতে মরিয়া হয়ে উঠেছে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল। বিএনপি নেতারা বগুড়ার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ধানের শীষে ভোট চাইছেন।সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই উপনির্বাচন নিয়ে তাদের মধ্যে প্রবল আগ্রহের অভাব রয়েছে। তারেক রহমান বা খালেদা জিয়া সরাসরি প্রার্থী না থাকায় অনেক নিয়মিত বিএনপি ভোটার ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
এটি বিএনপির প্রার্থীর জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। অন্যদিকে জামায়াত তাদের সংরক্ষিত ভোটব্যাংক নিশ্চিত করার পাশাপাশি নতুন ভোটারদের টানতে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে। জামায়াত প্রার্থীর দাবি, মানুষ এবার আর ভুল করবে না এবং তারেক রহমানের আসন ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি ভোটারদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংখ্যালঘু এবং আওয়ামী লীগের একটি অংশের ভোট ধানের শীষের বাক্সে পড়লে সেটি বিএনপির অস্তিত্ব রক্ষায় সহায়ক হতে পারে।
শহর বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক চৌধুরী হিরু জানিয়েছেন, তারা তাদের চেয়ারম্যানের ছেড়ে দেওয়া আসনে জেলা সভাপতিকে বিপুল ভোটে জয়ী করবেন। একইভাবে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কেএম খায়রুল বাসার মনে করেন, ধানের শীষের বিজয় ছাড়া বগুড়ার প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী সোহেল আশাবাদী, গত নির্বাচনের চেয়ে এবার তাঁর ভোট আরও বাড়বে এবং তিনি তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলবেন। বর্তমানে প্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভোটারদের কেন্দ্রে উপস্থিতি নিশ্চিত করা। এ জন্য প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারণার পাশাপাশি ছোট ছোট পথসভা করছেন।
নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৫৩। এর মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৩১ হাজার ২৩৭ এবং পুরুষ ভোটার ২ লাখ ২২ হাজার ৭৯৬ জন। তরুণ ও নতুন ভোটারের সংখ্যা ৭৬ হাজার। এবারের মূল লড়াই হচ্ছে ধানের শীষের রেজাউল করিম বাদশার সঙ্গে শহর জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেলের। এ ছাড়া বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) আল-আমিন তালুকদার ফুলকপি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে থাকলেও মূল আলোচনায় আছেন বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী।
উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসন রয়েছে কঠোর অবস্থানে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি ৮ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সেনা টহলও অব্যাহত রাখা হয়েছে।