Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ১২ ঘন্টা আগে
  • ৩৫ বার দেখা হয়েছে

পাগলী নয়, পরিচ্ছন্নতার প্রহরী-গাইবান্ধা রেল স্টেশনে সুফিয়ার নীরব লড়াই

পাগলী নয়, পরিচ্ছন্নতার প্রহরী-গাইবান্ধা রেল স্টেশনে সুফিয়ার নীরব লড়াই

নিজস্ব প্রতিবেদক
গাইবান্ধা রেল স্টেশন এলাকায় যাকে সবাই ‘পাগলী’ বলে চিনেন, তিনি আসলে এক অনন্য মানবিক উদাহরণ। স্থানীয়দের কাছে তার নাম সুফিয়া। জীবনের নানা দুঃখ-কষ্টে সংসার হারিয়ে এখন এই রেল স্টেশনই তার আশ্রয়। প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত স্টেশনের বিভিন্ন অংশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। 

রেললাইনের ধারে পড়ে থাকা কাগজ, পলিথিনসহ বিভিন্ন আবর্জনা কুড়িয়ে এক জায়গায় জড়ো করে পুড়িয়ে ফেলেন। প্ল্যাটফর্ম ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা সবকিছুই তিনি নিজের দায়িত্ব মনে করে করেন। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব বা পারিশ্রমিক ছাড়াই তার এই কাজ যেন এক নিঃস্বার্থ মানবিক উদ্যোগ, যা প্রতিদিন নীরবে স্টেশনকে করে তুলছে পরিচ্ছন্ন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহরের পুলবন্দি এলাকায় একসময় তার বসবাস ছিল। পারিবারিক বিচ্ছিন্নতার কারণে ছেলে-মেয়েরা তাকে রেখে চলে গেলে তিনি একাকী হয়ে পড়েন। ধীরে ধীরে রেল স্টেশনই হয়ে ওঠে তার স্থায়ী ঠিকানা। এখন পরিচ্ছন্নতাই তার নেশা, আর স্টেশনই তার ঘর।

রেল স্টেশনের শ্রমিক হাফিজ বলেন , আমরা প্রতিদিন নিজের চোখে দেখি, ভোর হতেই তিনি কাজ শুরু করে দেন। সারাদিন কাগজ, পলিথিন আর বিভিন্ন ময়লা কুড়িয়ে বস্তায় ভরেন, তারপর ফাঁকা জায়গায় নিয়ে সেগুলো পুড়িয়ে ফেলেন। স্টেশনে পরিচ্ছন্নতা কর্মী থাকলেও তিনি কারো নির্দেশে না, নিজের ইচ্ছা আর দায়িত্ববোধ থেকেই কাজ করেন। 

অনেক সময় আমরা অবাক হয়ে দেখি যেখানে আমরা ক্লান্ত হয়ে যাই, সেখানে তিনি থেমে থাকেন না। তার এই আন্তরিকতা সত্যিই আমাদের মুগ্ধ করে। তিনি আরও বলেন,তার দেখভাল করার মতো কেউ নেই। কখনো যাত্রীরা বা স্থানীয় কেউ খাবার দিয়ে সহায়তা করে, আবার অনেক সময় তাকে ভিক্ষা করে চলতে হয়। নির্দিষ্ট কোনো আয়ের উৎস নেই বলেই অনেক দিন এমনও যায়, যখন ঠিকমতো খাবার জোটে না। তারপরও তিনি কাজ থামান না এটাই সবচেয়ে বিস্ময়কর।”

স্থানীয় বাসিন্দা সেফালী চৌধুরী বলেন, অনেকে তাকে ‘পাগলী’ বলে অবহেলা করে, কিন্তু আমরা যারা কাছ থেকে দেখি, তারা জানি তিনি কতটা ভালো মনের মানুষ। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা তার খুব পছন্দ। নিজের ইচ্ছাতেই প্রতিদিন স্টেশন পরিষ্কার রাখেন। আমরা তাকে ‘খালা’ বলে ডাকি এবং সুযোগ হলে কাপড়চোপড় বা খাবার দিয়ে সাহায্য করার চেষ্টা করি। কিন্তু সমাজের সকলে যদি এগিয়ে আসতো তাহলে তার জন্য ভালো হতো

গাইবান্ধা রেল স্টেশনের যাত্রী ও স্থানীয়দের মতে, সুফিয়ার এই নীরব অবদান সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। যেখানে অনেকেই নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে চলেন, সেখানে এক অবহেলিত নারী প্রতিদিন নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad