Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৫৬ মিনিট আগে
  • ১১ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

নওগাঁর হাঁসুয়া বাহিনীর অন্যতম দুই সদস্য গ্রেফতার

নওগাঁর হাঁসুয়া বাহিনীর অন্যতম দুই সদস্য গ্রেফতার

নওগাঁ প্রতিনিধি ►
নওগাঁর রাণীনগর-আবাদপুকুর আঞ্চলিক সড়ক, নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়ক, বেলঘরিয়া-বিলকৃষ্ণপুর সড়কসহ বিভিন্ন সড়কে যানবাহন থামিয়ে এবং পথচারীদের পথরোধ করে ধারালো দেশীয় অস্ত্র হাঁসুয়াসহ বিভিন্ন অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে একটি বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই করে আসছে। অবশেষে জেলা পুলিশের টানা প্রায় ৪৮ঘণ্টার অভিযানের পর গত ২০সেপ্টেম্বর হাঁসুয়া বাহিনী নামে পরিচিত সেই বাহিনীর অন্যতম দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকারিয়া মন্ডল জানান গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বেলঘরিয়া-বিলকৃষ্ণপুর সড়কের নবীর উদ্দিন খাঁনের খামার বাড়ি নামক স্থানে ছিনতাইকারীরা মোটরসাইকেল আটকে গণছিনতাই করে। এসময় ছিনতাইকারীরা অন্তত ৮জনকে মারধর করে ৮টি মোবাইল এবং ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। ছিনতাইকারীদের মারধরে বেশ কয়েকজন পথচারী আহত হয়। এ ঘটনায় উপজেলার বানিয়াপাড়া গ্রামের শাহাদত হোসেনের ছেলে সুজন হোসেন বাদী হয়ে ওই রাতেই থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার প্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার স্যারের সার্বিক দিক নিদের্শনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি বিশেষ দল রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার চা-বাগান কলোনি এলাকার অভিযান চালিয়ে আফসার আলীর ছেলে মনিরুল ইসলাম ওরফে বাইরুল ইসলাম ওরফে বেলাল (৩৮) কে গ্রেফতার করা হয়। আটককৃত বাইরুলের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও ডাকাতিসহ ছয়টি মামলা রয়েছে। সে প্রায় ১৭ মাস কারাগারেও ছিলো। এরপর ওই রাতেই রাণীনগর উপজেলার হাতিরপুল এলাকার ভুতরাজাপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে শহিদুল মন্ডলের ছেলে নাহিদ হাসান (২২) কে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি আরো জানান গ্রেফতারকৃতদের তথ্যমতে ছিনতাই হওয়া এলাকার জঙ্গল থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত একটি হাঁসুয়া, ছিনতাই হওয়া একটি মোবাইল ফোন এবং ১৩২০ টাকা এবং ছিনতাইকারীদের ব্যবহৃত তিনটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা ছিনতাইয়ের ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আদালতে ১৬৪ ধারায় শিকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এই বাহিনীর অন্য সদস্যদের গ্রেফতার এবং ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোন ও টাকা উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান ওসি।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান রাণীনগরে গণ-ছিনতাইয়ের ঘটনার পর রাণীনগর থানার ওসি মোহাম্মদ জাকারিয়া মন্ডলের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ ও আত্রাই থানা পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একটি  বিশেষ দল অভিযানে নামে। এরপর গত ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্য-প্রমাণ, তথ্যপ্রযুক্তি ও ডাটা বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা হয়। এরপর অভিযানের মাধ্যমে হাঁসুয়া বাহিনীর এই অন্যতম দুইজন সদস্যকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। নওগাঁর ১১টি উপজেলার যে কোন সড়কে যেকোন ধরনের ছিনতাই ও দস্যুতা কঠোর হাতে দমন করা হবে। এছাড়া যে কোন অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনান কথা জানান জেলা পুলিশের এই প্রধান কর্মকর্তা।
 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad