
অনলাইন ডেস্ক ►
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। সোমবার প্রকাশিত জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে মাত্র ১২টি পণ্যবাহী জাহাজ এই প্রণালী দিয়ে চলাচল করেছে।
এর আগের সপ্তাহান্তে এই সংখ্যা ছিল ৩৫টি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান অচলাবস্থার মধ্যেই জাহাজ চলাচলে এই বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেল। রয়টার্স জানায়, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে এই প্রণালীর ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। তবে বর্তমানে প্রণালী দিয়ে প্রকাশ্যে বা শনাক্ত করা যায়—এমন জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। অল্প কয়েকটি জাহাজই এখন এই পথে চলাচল করছে। জাহাজ চলাচল কমে গেলেও মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এখনো তেল রপ্তানি করছে।
তবে এসব তেলবাহী জাহাজের অনেকগুলোর অবস্থান শনাক্ত করার যন্ত্র বন্ধ রাখা হচ্ছে। ফলে এসব জাহাজ কোথায় আছে বা কোন পথে যাচ্ছে, তা সব সময় জানা সম্ভব হচ্ছে না।
জাহাজের অবস্থান শনাক্ত করার জন্য সাধারণত স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বা এআইএস ব্যবহার করা হয়। কোনো জাহাজ এই ব্যবস্থা বন্ধ রাখলে সেটির চলাচল প্রকাশ্যে দেখা কঠিন হয়ে যায়। বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রবিবার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব এমন চারটি জাহাজ হরমুজ প্রণালী পার হয়েছে।
এর মধ্যে দুটি জাহাজে পরিশোধিত তেলজাত পণ্য ছিল। বাকি দুটি জাহাজ ছিল খালি। এর একটি পণ্যবাহী এবং অন্যটি গ্যাসবাহী জাহাজ। এ ছাড়া একই দিনে ছোট আকারের আরো দুটি তেলবাহী জাহাজ উপসাগরীয় এলাকায় প্রবেশ করে। শনিবারও কয়েকটি জাহাজের চলাচল দেখা গেছে। ওই দিন পাঁচটি জাহাজ উপসাগরীয় এলাকা ছেড়ে যায়। এসব জাহাজে কৃষিপণ্য, তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং সার ছিল।
একই দিনে একটি বড় গ্যাসবাহী জাহাজ খালি অবস্থায় উপসাগরীয় এলাকায় প্রবেশ করে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত। এসব জাহাজের মধ্যে ছিল তেলবাহী ট্যাংকার, গ্যাসবাহী জাহাজ, সাধারণ পণ্যবাহী জাহাজ এবং কনটেইনারবাহী জাহাজ। সেই তুলনায় এখন প্রণালী দিয়ে শনাক্ত করা যায় এমন জাহাজের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। ফলে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।