Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
  • ৩৪ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

বেড়েছে পাটের আবাদ, মিলছে ভালো দামও

বেড়েছে পাটের আবাদ, মিলছে ভালো দামও

অনলাইন ডেস্ক ►
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে পাটের আবাদ বেড়েছে। এবার পাটের ফলনও হয়েছে ভালো। এতে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে।
চাষিরা বলছেন, বর্তমানে বাজারদর ভালো থাকায় ন্যায্য দাম পাচ্ছেন তারা। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে চলতি মৌসুমে পাটের আরো ভালো দাম পাওয়া যাবে বলে আশা তাদের। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখন বিভিন্ন হাটে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে।

প্রতি মণ ভালো মানের পাটের দাম মিলছে চার হাজার টাকায়। অন্যদিকে তুলনামূলক নিম্নমানের পাট বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার ৭০০ থেকে তিন হাজার ৮০০ টাকা মণ দরে। কৃষকরা বলছেন, পাট যত পুরনো হবে, দামও তত বাড়বে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর কটিয়াদীতে এক হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে।

প্রায় সবখানেই ফলন ভালো হয়েছে। একসময় যে জমি ছিল পতিত, এবার সেখানে অনেকে পাটের আবাদ করেছেন। লাভজনক হওয়ায় নতুন অনেক কৃষকও পাট চাষে আগ্রহী হয়েছেন বলে সূত্র জানায়। কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধান চাষে অতীতে নানা কারণে লোকসানের মুখে পড়ায় অনেক কৃষক এবার পাট চাষের দিকে ঝুঁকেছেন।

সরেজমিন পৌর এলাকার জোয়ারিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পাশে নতুন পাট শুকানো হচ্ছে।বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে নতুন পাটের ঘ্রাণ। মানিখালী, করগাঁও, সহশ্রাম, ধুলদিয়া ইউনিয়নের সুতি এলাকা, মসুয়া, বনগ্রাম ও লোহাজুরীসহ বিভিন্ন এলাকায় চলছে পাট শুকানোর ধুম। কোথাও জমি থেকে পাট কাটছেন, কোথাও পানিতে জাগ দিচ্ছেন;  কোথাও আবার জাগ দেওয়া পাট থেকে আঁশ ছাড়াচ্ছেন তারা। 
বিভিন্ন জলাশয়ে মাচা তৈরি করে সেখানে পচা পাট থেকে আঁশ ছাড়ানো হচ্ছে। তারপর রোদে শুকিয়ে বাড়িতে নিয়ে বান্ডিল তৈরি করছেন চাষিরা। কয়েক দিন ধরে আশপাশের এলাকার কৃষকরা বাজারে পাট নিয়ে যাচ্ছেন বিক্রির জন্য। কটিয়াদী পুরনো বাজারের প্রাচীন পাটের মোকামগুলোতেও এখন নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে।

বনগ্রাম ইউনিয়নের নন্দিপুর গ্রামের কৃষক আক্কাস মিয়া জানান, তিনি এই মৌসুমে দুই একর জমিতে পাটের চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা। পাওয়া গেছে অন্তত ৪৫ মণ পাট। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন এই চাষি।

লোহাজুরী ইউনিয়নের দশপাখি গ্রামের কৃষক আবুল হাশিম জানান, এখন বাজারে প্রতিমণ পাট বিক্রি হচ্ছে চার হাজার ২০০ টাকায়। আরো কিছুদিন পর চার হাজার ৫০০ টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রি করা যাবে। তিনি বলেন, ‘পাট যত পুরনো হবে, দাম তত বাড়বে। অনেক সময় ব্যবসায়ীরা ভালো পাটকেও মানহীন বলে দাম কমানোর চেষ্টা করেন। বর্তমান বাজারদর বজায় থাকলে আমাদের জন্য ভালো হবে।’

কটিয়াদী বাজারের পাট ব্যবসায়ী জুয়েল সাহা বলেন, ‘ভালো মানের পাট মণপ্রতি চার হাজার ১০০ থেকে চার হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত দামে কেনা হচ্ছে। সবে পাট বাজারে আসতে শুরু করেছে। এখনো পুরোদমে ওঠেনি।’ তিনি বলেন, ‘বড় ব্যবসায়ীদের কাছে নগদ টাকায় বিক্রি করতে পারলে ব্যবসা ভালো হবে। বেশিদিন পাট গুদামে জমে থাকলে সমস্যা হয়।’

কটিয়াদী বাজার পাট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুবীর সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বর্তমানে তোষা পাট প্রকারভেদে মণপ্রতি সর্বোচ্চ চার হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মেস্তা পাটের দামও প্রায় একই। মিল মালিকরা নগদ অর্থ পরিশোধ করলে ব্যবসায়ীদের পাট কিনতে সুবিধা হয়। গুদামে পাট জমে থাকলে সমস্যা হয়। আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক থাকলে বাজার আরো  ভালো থাকবে।’

কটিয়াদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর কটিয়াদী উপজেলায় এক হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে পাট  চাষ হয়। ফলন ভালো হয়েছে এবং কৃষক ভালো দামও পাচ্ছেন। তবে অনেকে অপরিষ্কার ও কম পানিতে পাট জাগ দেন। এতে আঁশের মান কিছুটা কমে যায়। তাই স্বচ্ছ ও বেশি পানিতে পাট জাগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে পাটের মান উন্নত হবে।’

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad