Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ১ ঘন্টা আগে
  • ২৩ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

সময়ের আবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি​

সময়ের আবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি​

মোঃ আইয়ুব আলী ►
ও বউ ধান ভানেরে ঢেঁকিতে পাড় দিয়া/ ঢেঁকি নাচে বউ নাচে হেলিয়া দুলিয়া...—আবহমান গ্রাম-বাংলার একসময়ের বহুল জনপ্রিয় এই লোকসংগীতটি এখন আর নাটোরের লালপুরের গ্রামগুলোতে ভেসে আসে না। পৌষ পার্বণ, নবান্ন উৎসব কিংবা বিশেষ কোনো উৎসবের দিনে ঢেঁকিতে ধান ভানার সেই চিরচেনা ছন্দময় শব্দও আর কানে পড়ে না। কালের গর্ভে লালপুর থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি।​

একসময় লালপুর উপজেলার প্রতিটি কৃষক পরিবারেই ঢেঁকি ছিল এক অপরিহার্য অনুষঙ্গ। গৃহস্থবাড়ির কৃষাণীরা দৈনন্দিন ধান, গম ও যব ভাঙার কাজ ঢেঁকিতেই করতেন। চিড়া ভাঙার মতো কষ্টের কাজটিও হতো সুনিপুণভাবে। বিশেষ করে শীতের আমেজ শুরু হতেই নবান্ন, পৌষ পার্বণ আর শবেবরাতে পিঠা-পুলি বানানোর ধুম পড়ত। বধূরা চালের আটা তৈরির জন্য গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত ঢেঁকিতে ব্যস্ত সময় পার করতেন।​ঢেঁকির সেই ধুপধাপ শব্দ আর বধূদের সমবেত গানের সুরে মুখরিত হয়ে উঠত পুরো গ্রাম। শুধু নিজেদের পরিবারের জন্যই নয়, গ্রামের বিত্তশালী কৃষকরা এলাকার দরিদ্র নারীদের মজুরির বিনিময়ে চাল ও আটা ভাঙানোর কাজ দিতেন।

আবার অনেক সচ্ছলতাহীন নারী ঢেঁকিতে চাল ভেঙে তা স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি করে সংসার চালাতেন।​ ঢেঁকিতে ভানা পুষ্টিকর ও লালচে চালের ভাত আর স্বাদের কোনো তুলনা ছিল না। কারণ মিলের চালের মতো পুষ্টিগুণ নষ্ট হতো না এখানে।​তবে সময়ের পরিক্রমায় ও আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় গ্রামে গ্রামে এখন বসেছে যান্ত্রিক রাইস মিল ও অটোমেটিক ভাঙানো মেশিন।

পরিশ্রম কম আর সময় সাশ্রয়ী হওয়ায় মানুষ এখন আর ঢেঁকিমুখী হচ্ছেন না। প্রযুক্তির দাপটে ও যান্ত্রিকতার যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে চিরচেনা এই শিল্পটি আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। সরকারি বা বেসরকারি পর্যায় থেকেও ঐতিহ্যবাহী এই ঢেঁকি সংরক্ষণের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই।​উপজেলার দুয়ারিয়া গ্রামের বয়োজ্যেষ্ঠ মুরুব্বী মোয়াজ্জেম হোসেন আক্ষেপের সঙ্গে বলেন—​শুধু ঢেঁকিই নয়, আমাদের গ্রাম-বাংলার অনেক ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যাচ্ছে। এগুলো আমাদের শেকড়। এই ঐতিহ্যগুলো সংরক্ষণ করা ভীষণ প্রয়োজন। এলাকার সচেতন মহলের মতে, সরকারিভাবে গ্রামীণ রূপসী বাংলার এসব লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণের উদ্যোগ না নিলে, অদূর ভবিষ্যতে নতুন প্রজন্মের কাছে ঢেঁকি কেবল বইয়ের পাতা আর জাদুঘরের ফ্রেমে বাঁধানো ছবি হয়েই থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad