
ফুলছড়ি প্রতিনিধি ►
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের জমিলা আক্তার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বাস্তবসম্মত বিভিন্ন স্টলের মাধ্যমে ‘বন্যার পূর্বাভাসভিত্তিক আগাম প্রস্তুতি মহড়া-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বন্যার আগাম সতর্কতা প্রচার, দুর্যোগকালীন করণীয় সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় জনগণের দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা জোরদার করতে এ মহড়ার আয়োজন করা হয়।
গতকাল বুধবার এসকেএস ফাউন্ডেশনের এসিটি প্রকল্পের আয়োজনে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ মহড়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সামনে বন্যার আগে, চলাকালীন ও পরবর্তী সময়ে করণীয় বিভিন্ন বিষয় হাতে-কলমে উপস্থাপন করা হয়। বিভিন্ন স্টলে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়া, জরুরি খাদ্য ও ওষুধ সংরক্ষণ, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ, গবাদিপশু ও কৃষিজ ফসল রক্ষার কৌশল এবং উদ্ধার কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গাইবান্ধা জেলা দুর্যোগ ও ত্রাণ কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, বন্যা আমাদের দেশের একটি নিয়মিত দুর্যোগ। তবে সময়মতো পূর্বাভাস এবং আগাম প্রস্তুতি থাকলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব। এজন্য স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সবার সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এসকেএস ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক খন্দকার জাহিদ সরওয়ার। এ সময় বক্তব্য দেন ফুলছড়ি উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জহিরুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নিপুন দেবনাথ, গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোরশেদ আলী খান, জমিলা আক্তার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজু মিয়া। উক্ত মহড়াটির সার্বিক পরিচালনা করেন এসকেএস ফাউন্ডেশনের এসিটি প্রকল্পের প্রকল্প কর্মকর্তা রেজওয়ানুল ইসলাম। এ মহড়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবক ও এলাকার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। বাস্তবধর্মী এ মহড়ায় অংশগ্রহণকারীরা বন্যার পূর্বাভাস পাওয়ার পর কীভাবে দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, সে বিষয়ে ব্যবহারিক ধারণা লাভ করেন।
বক্তারা বলেন, বন্যা শুধু মানুষের জীবনকেই বিপর্যস্ত করে না, বরং কৃষি ও প্রাণিসম্পদের ওপরও ব্যাপক প্রভাব ফেলে। তাই আগাম প্রস্তুতি, দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। তারা দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।