Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৯ ঘন্টা আগে
  • ১২ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

চিলমারী-হরিপুর সেতু সংযোগ সড়কে ৮৮টি গর্ত

চিলমারী-হরিপুর সেতু সংযোগ সড়কে ৮৮টি গর্ত

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ►

কুড়িগ্রামের চিলমারী-হরিপুর পিসি গার্ডার সেতুর সংযোগ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নিয়ে চরম জনঅসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তিন তিনবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলেও এখন পর্যন্ত শেষ হয়নি সড়কের নির্মাণকাজ। ধীরগতির এই কাজের মাঝেই গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে সদ্যনির্মিত সড়কটির বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় প্রায় ৮৮টি গর্ত। ফলে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি, যা স্থানীয়দের জন্য এখন এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা গেছে, তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত ১ হাজার ৪৯০ মিটার দীর্ঘ চিলমারী-হরিপুর পিসি গার্ডার সেতু প্রকল্পের অধীনে উপজেলা সদর থেকে পাঁচপীর জিসি সড়ক পর্যন্ত ৫.২৩ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের কাজ শুরু হয়। ২০২৩ সালের আগস্টে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের চুক্তি মূল্য ধরা হয়েছিল ১০ কোটি ৩৩ লাখ ২ হাজার ৮৩২ টাকা। তবে কাজ শুরুর পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৭০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। বাকি ৩০ শতাংশ কাজ এখনো অসম্পূর্ণ থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

সম্প্রতি কয়েক দিনের টানা বর্ষণে অসম্পূর্ণ এই সড়কের দুই পাশের মাটি ধসে গিয়ে ৮৮টি ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে গর্তগুলো এখন কর্দমাক্ত হয়ে আছে। এতে করে রিকশা, ভ্যান, ইজিবাইক তো দূরের কথা, সাধারণ পথচারীদের হেঁটে চলাচল করাও দায় হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চরম গাফিলতি এবং ধীরগতির কারণেই আজ এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। কাজ ফেলে রাখায় বৃষ্টির তোড়ে সড়কটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সরেজমিনে সড়কটি পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। আতাউর রহমান নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, অনেক আশা ছিল সেতুটি চালু হলে আমাদের যাতায়াতের কষ্ট কমবে। সেতু ঠিকই হয়েছে, কিন্তু সংযোগ সড়কের অভাবে আমরা এর কোনো সুফল পাচ্ছি না। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় গর্ত হয়ে পানি জমে যায়। তিনবার সময় বাড়িয়েও কেন কাজ শেষ হচ্ছে না, তা আমাদের বোধগম্য নয়। আরেক ভুক্তভোগী ফয়সাল জানান, সড়কের গর্তগুলো রাতে মরণফাঁদে পরিণত হয়। তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে এক ব্যক্তি সাইকেল নিয়ে গর্তে পড়ে গিয়ে মারাত্মক আহত হয়েছেন। বিশেষ করে রাতে এই সড়কে চলাচল করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।

এ বিষয়ে চিলমারী উপজেলা প্রকৌশলী জুলফিকার আলী পরিস্থিতির সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, কাজের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে এবং বর্তমানে কাজ চলমান রয়েছে। তবে ধীরগতির কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য ইতোমধ্যে দাপ্তরিক চিঠি দিয়ে কড়া তাগিদ দেওয়া হয়েছে। জনদুর্ভোগ কমাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad