Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৫০ মিনিট আগে
  • ৪ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ১৪ এলাকায় কলেরার টিকা দেওয়া শুরু

দেশের ঝুঁকিপূর্ণ ১৪ এলাকায় কলেরার টিকা দেওয়া শুরু

অনলাইন ডেস্ক ►
কলেরা প্রতিরোধে দেশের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ১৪ এলাকায় দুই ডোজের মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা (ওসিভি) দেওয়া শুরু হয়েছে। শনিবার থেকে শুরু হওয়া প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬-এর প্রথম ধাপ চলবে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, এক বছর ও তদূর্ধ্ব বয়সী সব সুস্থ ব্যক্তি বিনামূল্যে এ টিকা নিতে পারবেন। তবে গর্ভবতী নারীরা এ কর্মসূচির আওতামুক্ত থাকবেন। প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্র ও ইপিআই বুথে টিকা দেওয়া হবে। এ কর্মসূচিতে ৫১ লাখের বেশি মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচরের ১৭টি ওয়ার্ডে ১৯২টি কেন্দ্রে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও অঞ্চল এবং মুন্সিগঞ্জ সদর, নারায়ণগঞ্জ সদর, কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ, হোসেনপুর ও তাড়াইল এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর ও নবীনগর উপজেলায় এ কর্মসূচি চলবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হালিমুর রশিদ বলেন, কলেরার টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নেওয়া হয়েছে। এখন টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি হঠাৎ করে নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়। দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষার জন্য দুই ডোজ টিকাই নিতে হবে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দুই ডোজ সম্পূর্ণ করার পর টিকাটি প্রায় তিন থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে পারে। ডা. হালিমুর রশিদ আরও বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরিকল প্লাস বর্তমানে প্রচলিত কলেরার টিকাগুলোর মধ্যে নিরাপদ এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলকভাবে কম। কারও কারও ক্ষেত্রে হালকা বমি ভাব বা সাময়িক ডায়রিয়ার মতো মৃদু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

তিনি বলেন, গ্লোবাল টাস্কফোর্স অন কলেরা কন্ট্রোলের সঙ্গে গ্লোবাল ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স (গ্যাভি) তৈরি একটি বিশ্লেষণী টুল ব্যবহার করে প্রায়োরিটি এরিয়াস ফর মাল্টিসেক্টোরাল ইন্টারভেনশন বিশ্লেষণের মাধ্যমে দেশের উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কলেরা প্রতিরোধে টিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুধু টিকার মাধ্যমে রোগটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। নিরাপদ পানি পান, খাবার ঢেকে রাখা, স্যানিটেশন নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার মতো স্বাস্থ্যবিধিও মেনে চলতে হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ব্যাপকভাবে টিকাদানের সুফল এবং ভবিষ্যতে মহামারি প্রতিরোধে এর প্রভাব কতটা কার্যকর হয়েছে, তা সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে। মুখে খাওয়ার কলেরার টিকা (ওরাল কলেরা ভ্যাকসিন) নিতে উপযুক্ত নাগরিকদের ভ্যাক্সইপিআই ওয়েবসাইটে গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য দেওয়া কিউআর কোড স্ক্যান করেও প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করা যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad