Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ১ ঘন্টা আগে
  • ২১ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

বিদ্যুতের ভেলকিবাজি ও প্রচন্ড গরমে জনজীবন হাঁসফাঁস

বিদ্যুতের ভেলকিবাজি ও প্রচন্ড গরমে জনজীবন হাঁসফাঁস

সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি ►
গত এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুতের ভেলকিবাজি ও অস্বস্তিকর গরমে জনজীবন হাঁসফাঁস হয়ে উঠেছে। তাপদহ বা গরমে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী, রিকসা, ভ্যান ও যানবাহন চালক, স্কুল ও কলেজগামী ছেলে মেয়েদের জীবনমান অস্বভাবিক হয়ে পড়েছে। অনেক দিনমজুর গরমের কারণে কাজে যাচ্ছেন না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে রান্নার কজে নিয়োজিত বাবুর্চি ও গৃহিণীরা সীমাহীন কষ্টের মধ্যে দিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।

গ্রাম-গঞ্জের বিভিন্ন মাঠ-ঘাট ঘুরে ফিরে দেখা গেছে, ছেলে মেয়ে নিয়ে বাড়ির গৃহবধূরা পুকুর পাড়ে গাছ-গাছালী ও বাঁশ ঝাড়ের নিচে বসে স্বস্তি অনুভব করছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় হাতপাখা ঘুঁড়িযে মা, বাবাগণ শিশুদের বা নিজে একটু প্রশান্তি নেয়ার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি শিশু ও কিশোররা পুকুরে বা নদীর পানিতে নেমে দুরন্তপনা করছেন। অনেকে গভীর রাত পর্যন্ত বাড়ির উঠানে বা আঙিনায় বসে খোঁশ গল্প করে সময় পার করছেন।

সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৫ ইউনিয়ন ও একটি পৌর সভায় কমপক্ষে ১ লাখ ৪০ হাজার গ্রাহক রয়েছ। প্রতিদিন ২০ হতে ২৫ মেগাওয়ার্ড বিদ্যুতের চাহিদা। সে স্থলে ৯ হতে ১০ মেগাওয়ার্ড সরবরাহ রয়েছে। সে কারনে লোড়শেডিং বেড়ে গেছে। প্রতিদিন এটা হয় না।

রংপুর আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রংপুর অঞ্চলে সোমবারের সর্বোচ্ছ তাপমাত্রা ছিল ৩৪-৩৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস। রাতের তাপমাত্রা ২৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস পর্যন্ত নামতে পারে। রাতে হালকা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। শান্তিরাম গ্রামের দিনমজুর হাফিজুল ইসলাম বলেন, সংসার চালানোর দায়ে কাজ করতে হচ্ছে। গত কয়েক দিন হতে গরমের কারনে জীবন বের হয়ে যাওয়ার মত অবস্থা দেখা দিয়েছে। কাজ সেরে বাড়ি গিয়ে গোসল করার পর শরীর যেন আর চলে না।

বৃদ্ধ বাবা, মা আর ছোট শিশু সন্তান নিয়ে খুব বিপদে আছি। পৌর শহরের রিকসা চালক ফরমান আলী বলেন, একটি ভাড়া মারার পর আরেকটি ভাড়া মারার ইচ্ছা হচ্ছে না। পেটের দায়ে কষ্ট করতে হচ্ছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হল, যাত্রীগণ একটি টাকাও বেশি ভাড়া দেয় না। প্রচন্ড গরমের কারনে শরীর না চলায় দিনের রোজগার অর্ধেকে নেমে এসেছে।

শিক্ষার্থী মিশাদ আকন্দ বলেন, বিদ্যুতের ভেলকিবাজি ও প্রচন্ড গরমে পড়ার টেবিলে বসারমত পরিবেশ নেই। সেই কারণে পাঠদানে কার্যক্রম ফলপ্রসু হচ্ছে না। শ্রেনি কক্ষে টিকা যাচ্ছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে স্কুল করা কষ্টকর হবে। মনিং স্কুল চালুর ব্যবস্থা করলে হয়তো ভাল হবে। মিন্টু হোটেলের বাবুর্চি অতুল চন্দ্র বলেন, প্রচন্ড গরমের কারনে রান্নার করা সম্ভাব হচ্ছে না। চুলার নিকট টেকা যাচ্ছে না। তারপর দায়িত্বের জায়গা থেকে কাজ করতে হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে দিনমজুরদের পক্ষে কাজ করা সম্ভাব হবে না। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নূর মোহাম্মদ বলেন, বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং ও প্রচন্ত গরম এবং তাপদহের কারনে শিশুরা দূর্বল হয়ে পড়ছে। সরকারি সিদ্ধান্ত ছাড়া মনিং স্কুল চালু করার কোন সুযোগ নেই।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার সাইদুর রহমান বলেন, প্রচন্ড গরমের কারনে শরীর থেকে পানি বের হয়ে যাওয়ার কারনে অল্প সময়ের মধ্যে মানুষ দুর্বল হয়ে যাবে। প্রচন্ড গরমে নানাবিধ রোগ ব্যাধির প্রার্দুভাবের সম্ভাবনা দেখা দিতে পারে। সেজন্য বেশি করে পানি পান করতে হবে। ভিজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে ফেলতে হবে। সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, চাহিদা মোতাবেক বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় মাঝে মধ্যে লোড়শেডিং দেখা দেয়। বিদ্যুতের উৎপাদন হ্রসের কারনে এ সমস্যার সৃষ্টি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad