
অনলাইন ডেস্ক ►
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসম্মত সেবার সংকট তীব্র হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, ১৩ লাখের বেশি মানুষ প্রতিদিন পানীয় ও রান্নার জন্য মাথাপিছু ৬ লিটারেরও কম পানি পাচ্ছেন। অথচ জরুরি পরিস্থিতিতেও একজন মানুষের দৈনিক অন্তত ১৫ লিটার পানি প্রয়োজন। ওসিএইচএর তথ্য অনুযায়ী, আরও প্রায় ৭ লাখ মানুষ প্রতিদিন মাথাপিছু ৯ লিটারের কম পানি পাচ্ছেন।
এতে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, ঘরবাড়ি পরিষ্কার এবং শিশুদের প্রয়োজন মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে। পানি সংগ্রহের কেন্দ্রগুলোতে ভিড়ের পাশাপাশি অনেক পরিবারের কাছে পানি বহনের পর্যাপ্ত পাত্রও নেই। গাজার প্রতি চারজনের মধ্যে প্রায় তিনজন পানি সরবরাহকারী ট্রাকের ওপর নির্ভরশীল। মানবিক সংস্থাগুলো গত মাসে প্রতিদিন ২ হাজার ৫০০টির বেশি পানি সংগ্রহের কেন্দ্র এবং শতাধিক বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়কেন্দ্রে পানি সরবরাহ করেছে। তবে চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল।
পানি সংকটের সঙ্গে স্যানিটেশন ব্যবস্থার দুরবস্থাও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়েছে। ওসিএইচএ জানিয়েছে, গাজার মাত্র প্রায় অর্ধেক পরিবার মৌলিক স্যানিটেশন সুবিধা পাচ্ছে। অন্যদিকে, ৯ লাখের বেশি মানুষ আবাসিক এলাকায় জমে থাকা আবর্জনার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, মার্চে গাজার ৮২ শতাংশ পরিবার মাঝারি থেকে গুরুতর পানি-নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়েছিল। ৪৯ শতাংশ পরিবারের মোট পানি প্রাপ্যতা ছিল দৈনিক মাথাপিছু ১৫ লিটারের নিচে এবং ৭০ শতাংশ পরিবার পানীয় পানির ক্ষেত্রে ৬ লিটারের ন্যূনতম মানের নিচে ছিল।
দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও অবকাঠামো ধ্বংস পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। ওসিএইচএর হিসাবে, গাজার ৮৮ শতাংশ পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি অবকাঠামো এবং ৭৬ শতাংশ ভূগর্ভস্থ নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে পানি উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘের মতে, নিরাপদ পানির সংকট, আবর্জনা জমে থাকা, বাস্তুচ্যুতি ও স্বাস্থ্যসেবার ওপর বাড়তি চাপের কারণে গাজায় পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। যুদ্ধ ও অবকাঠামো ধ্বংস অব্যাহত থাকায় পর্যাপ্ত নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।