
ফুলছড়ি প্রতিনিধি ►
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ফুলছড়ি হাটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৮টি দোকানঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বুধবার ভোর চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আগুনে দোকানগুলোর মালামাল, আসবাবপত্র ও ব্যবসায়িক সরঞ্জাম পুড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে হাটের একটি দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই দাউ দাউ করে আগুন পাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আগুনের লেলিহান শিখা দেখে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালান। পরে খবর পেয়ে ফুলছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের দুইটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরবর্তীতে সাঘাটার দুইটি ও গাইবান্ধার একটি ইউনিট মিলে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি, ওষুধ, আগুনে মুদি, কাপড়, কসমেটিকস ও বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালামাল পুড়ে গেছে। এতে অনেক ব্যবসায়ী পথে বসার উপক্রম হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসেবে, অগ্নিকাণ্ডে আনুমানিক ৩৮ লাখ ১০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে প্রায় ৭৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী জেহাদ আলী বলেন, ভোর রাতে হঠাৎ খবর পাই হাটে আগুন লেগেছে। ছুটে এসে দেখি আমার দোকানসহ কয়েকটি দোকান আগুনে ভস্ম হয়ে গেছে। দোকানের সব মালামাল পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। অনেক কষ্ট করে ব্যবসাটা দাঁড় করিয়েছিলাম, এখন কীভাবে আবার শুরু করব বুঝতে পারছি না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জিহাদুর রহমান মওলা বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চালায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনে ব্যবসায়ীদের অনেক বড় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
ফুলছড়ি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ইন্সপেক্টর নুর মোহাম্মদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় আরও ইউনিট যুক্ত করা হয়। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় পাঁচটি ইউনিটের সমন্বিত অভিযানে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় আশপাশের আরও বেশ কয়েকটি দোকান রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।