
দিনাজপুর প্রতিনিধি►
দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোঃ শফিউল ইসলাম (৩৯) (বিসিএস)-কে ধর্ষণ, পর্নোগ্রাফি এবং হত্যার হুমকিসহ গুমের অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার দিনাজপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আনোয়ার হোসেন গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রেকর্ড হওয়ার পরপরই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হাকিমপুর উপজেলার এক নারী, যিনি পেশায় গরুর খামারি, শুক্রবার রাতে হাকিমপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তা তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করতেন। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগী প্রতিবাদ করলে তাকে হত্যার পর লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়।
হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন জানান, ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি, হত্যার পর গুম সংক্রান্ত অভিযোগে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং আসামিকে আদালতে হাজির করা হবে। ভুক্তভোগী নারী সানজিদা আক্তার লাকী (২৬) নিজেই বাদি হযে মামলা দাযের করেন।
ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, স্বামীর অসুস্থতার কারণে এবং খামারি পেশার সূত্রে অভিযুক্ত কর্মকর্তার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সরকারি কোয়ার্টারে বিভিন্ন সময়ে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন ডা. শফিউল ইসলাম।
ভুক্তভোগীর দাবি, অভিযুক্তের চাপের মুখে ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর তিনি স্বামীকে তালাক দেন। পরে ২০২৬ সালের ১৮ জানুয়ারি তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয় বলে তিনি জানান। তবে পরবর্তীতে ১৬ ফেব্রুয়ারি ডাকযোগে জানতে পারেন, ১০ ফেব্রুয়ারি তাকে গোপনে তালাক দিয়েছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা। সর্বশেষ গত শুক্রবার সকালে মুঠোফোনে ডেকে নিজের কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে পুনরায় বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী।
অভিযুক্ত ডা. শফিউল ইসলাম রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার জারুল্যা গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে এবং বর্তমানে হাকিমপুরে ভেটেরিনারি সার্জন হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ বিষয়ে দিনাজপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুর রহিম জানান, গ্রেফতারের বিষয়টি তিনি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানেন না। তবে তথ্য সংগ্রহ করে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে বলে তিনি জানান।