Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৩ ঘন্টা আগে
  • ২৭ বার দেখা হয়েছে

সিজার অপারেশনের সময় প্রসূতির মৃত্যু, বীরগঞ্জে উত্তেজনা ও ভাঙচুর

সিজার অপারেশনের সময় প্রসূতির মৃত্যু, বীরগঞ্জে উত্তেজনা ও ভাঙচুর

দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুর বীরগঞ্জের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে সিজার অপারেশনের সময় এক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতার ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধে পরিস্থিতি অস্থির হয়ে ওঠে। আজ শনিবার বীরগঞ্জ ক্লিনিকের আশেপাশে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
গত শুক্রবার বিকেলে কাহারোল উপজেলার সরঞ্জা এলাকার বাসিন্দা ও আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী সমেজা খাতুন (২৮)-কে বীরগঞ্জ উপজেলার বীরগঞ্জ ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। সন্ধ্যার আগেই তার সিজার অপারেশন সম্পন্ন হয় এবং একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। তবে অপারেশনের সময়ই প্রসূতির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. মো. বকুল হোসেন ও অ্যানেসথেশিয়া প্রদানকারী শরিফুল ইসলাম যথাযথ ও সময়োপযোগী চিকিৎসা দিতে ব্যর্থ হন। তাদের দাবি, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণসহ গুরুতর জটিলতা দেখা দিলেও প্রয়োজনীয় জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে রোগীকে দ্রুত অন্যত্র পাঠিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

পরিবারের সদস্যরা জানান, অবস্থার অবনতি হলে প্রসূতিকে দ্রুত জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে নেওয়া হয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয় এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই ক্লিনিকের মালিক বেলাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফরা ক্লিনিক বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান। একই সঙ্গে ক্লিনিকে ভর্তি অন্যান্য রোগীদেরও নীরবে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

এদিকে, ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সন্ধ্যার পর ক্লিনিকের সামনে বিক্ষুব্ধ জনতা জড়ো হয়। রাত সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দফায় দফায় ভাঙচুর, হট্টগোল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি চলে। এ সময় বীরগঞ্জ-খানসামা সড়কে প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে উত্তেজিত জনতা, ফলে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষুব্ধরা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিভিন্ন যন্ত্রপাতিও ভাঙচুর করে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন বীরগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাওন কুমার সরকার এবং বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপংকর বর্মন জানান, পুলিশ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাওন কুমার সরকার বলেন, “সিজার অপারেশনের সময় রোগীর অবস্থার অবনতি হয়ে মৃত্যু হয়েছে। ক্ষুব্ধ স্বজনরা ক্লিনিক ঘেরাও করলে পুলিশ দ্রুত গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad