
সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর ►
দিনাজপুর নবাবগঞ্জে গরুর মাংস বলে বিক্রির উদ্দেশ্যে ৬টি ঘোড়া জবাইয়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত তিনজনকে হাতেনাতে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। জব্দকৃত ১২ মন ঘোড়ার মাংস জনসাধারণের উপস্থিতিতে মাটিতে পুঁতে রাখা হয়। শুক্রবার সকাল ১১ টার দিকে উপজেলার গাজীপুর এলাকার একটি সুপারি বাগানে এ ঘটনা ঘটে।
দণ্ডপ্রাপ্তদের বাড়ি নেত্রকোনা আব্দুল্লাহ, নীলফামারী রুবেল হোসেন ও রংপুর জেলা রবিউল ইসলাম। নবাবগঞ্জের আরো কয়েকজন থাকলেও তারা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। তাদেরকেও আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে বলেও নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিল্লুর রহমান জানান, সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পাওয়া যায়-একটি সুপারি বাগানে কয়েকজন ব্যক্তি ঘোড়া জবাই করে তা গরুর মাংস হিসেবে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ৬টি ঘোড়া জবাইয়ের প্রমাণ পাওয়া যায় এবং বিপুল পরিমাণ মাংস জব্দ করা হয়। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রত্যেককে এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। জব্দ করা প্রায় ১২ মণ মাংস পরে মাটিতে পুঁতে নষ্ট করা হয়।
ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ভিড় জমায় এবং অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। স্থানীয় বাসিন্দাদের উত্তেজিত প্রতিক্রিয়ায় গাজীপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল করিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা গরুর মাংস কিনে খাচ্ছি মনে করে যদি ঘোড়ার মাংস খেতে হয়, তাহলে তো মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই। এটা খুবই ভয়ংকর প্রতারণা। এদের পিছনের কারা আরো রয়েছে তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা উচিত।
আরেক বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, “এই ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীরা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে। প্রশাসনকে আরও কঠোর নজরদারি করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন সাহস না পায়। স্থানীয় যুবক সোহেল রানা উত্তেজিত কণ্ঠে বলেন, “এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। না হলে সাধারণ মানুষ সবসময়ই প্রতারিত হবে। আমরা এর সঠিক বিচার চাই। স্থানীয়দের দাবি, একটি অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অপকর্মের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তারা বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।