Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ২৫-৩-২০২৬, সময়ঃ সকাল ০৯:৪৫
  • ১৯ বার দেখা হয়েছে

হামলা চলছেই, যুদ্ধ সহসা শেষ হচ্ছে না!

হামলা চলছেই, যুদ্ধ সহসা শেষ হচ্ছে না!

অনলাইন ডেস্ক ►

হামলা আর পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে উপসাগরীয় যুদ্ধের আরেকটি দিন যথারীতি কেটে গেল। ইরান বরাবরের মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সাহায্যে ইসরায়েলে হামলা চালাচ্ছে। আর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা চৌকস বিমান হামলায়। যুদ্ধটি প্রকৃতপক্ষে কোন দিকে মোড় নিচ্ছে, তা এই মুহূর্তে সুস্পষ্টভাবে বলার সুযোগ নেই।

তবে একটি বিষয় খুবই পরিষ্কার হয়ে গেছে, হরমুজ প্রণালি ‘কার্যত বন্ধ’ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক অনুভূত হচ্ছে। অন্যদিকে মঙ্গলবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইসফাহানসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে। এদিকে ইরানের নতুন নিরাপত্তাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোহাম্মদ বাকের জুলকাদর। ইসরায়েলের হামলায় নিহত আলী লারিজানির স্থলাভিষিক্ত হলেন তিনি।

ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ এ কথা জানিয়েছে। অন্যদিকে ইরান যুদ্ধের দায় নিজের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ওপর চাপানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি গত সোমবার বলেন, তাঁর প্রশাসনের সদস্যদের মধ্যে হেগসেথই প্রথম তাঁকে ইরানে হামলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মেমফিসে সোমবার ‘সেফ টাস্কফোর্সের’ এক গোলটেবিল বৈঠকে ট্রাম্প এমনই ইঙ্গিত দেন।

অবশ্য এই মুহূর্তে আরেকটি বিষয়ে বিশ্ববাসীর চোখ গেঁথে গেছে, সেটি হলো উপসাগরীয় যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য। ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ বন্ধে ইরানের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। জবাবে ইরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনাই হয়নি। ইসরায়েলের গণমাধ্যম হারেত্জ জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে ‘খুবই ভালো’ আলোচনা হয়েছে, ট্রাম্পের এমন দাবির পর ইসরায়েলে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।

সংবাদপত্রটির প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ওই শহরের বেশ কিছু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, হামলায় মধ্য তেল আবিবে একটি ভবন ও এর সংলগ্ন রাস্তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখানে বেশ কিছু গাড়িতে আগুন ধরে যায়। এ ছাড়া রশ হেইন এলাকায় ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ইসরায়েলি হোম ফ্রন্ট কমান্ড জানায়, এ হামলার আগে মঙ্গলবারই ইসরায়েল লক্ষ্য করে তিন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরান। দেশটির উত্তরাঞ্চলেও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

তবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বিভিন্ন কূটনীতিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বন্ধু হিসেবে পরিচিত দেশগুলোর মাধ্যমে ইরানকে আলোচনার টেবিলে আনার চেষ্টা করছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, ইসরায়েল কী যুদ্ধ বিরতিতে সম্মত হবে? ইসরায়েলি বিরোধীদলীয় নেতা আভিগদর লিবারম্যান সোমবার বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সরে গেলেও ইসরায়েলকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে। লিবারম্যানের ভাষায়, ‘আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে ইরানি শাসনব্যবস্থাকে উত্খাত করা অপরিহার্য।’

চাপ দিচ্ছেন সৌদি যুবরাজ : ইরানে হামলা চালিয়ে যেতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চাপ দিচ্ছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে যুক্তি দিচ্ছেন, মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যকে পুনর্গঠনের এক ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’ এনে দিয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক কয়েকটি ফোনালাপে প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ট্রাম্পকে এসব কথা বলেছেন। এসব আলোচনার বিষয়ে জানেন-এমন সূত্র এসব তথ্য জানিয়েছে। সূত্রের দাবি, সৌদি যুবরাজ যুক্তি দিয়েছেন, ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি হুমকির মুখে রেখেছে, যা ইরান সরকারকে নির্মূল করার মাধ্যমে দূর করা যেতে পারে। তবে সৌদি কর্মকর্তারা যুবরাজের এমন অবস্থানের কথা অস্বীকার করেছেন। সৌদি ও মার্কিন উভয় সরকারের কিছু জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আশঙ্কা করছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে ইরান সৌদি তেল স্থাপনায় আরো কঠোর হামলা চালাতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।

ইরানে মার্কিন পদক্ষেপ ‘পরিকল্পনাহীন’ : ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানকে ‘পরিকল্পনাহীন’ ও ‘এলোমেলো’ বলে বর্ণনা করেছেন সাবেক মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে এক বছরের কিছু বেশি সময় এ পদে দায়িত্ব পালন করা বোল্টন ইরানে হামলাকে ‘সুচিন্তিত নয়’ বলেও মন্তব্য করেছেন। তেহরানের সরকারকে বদলানোর দীর্ঘদিনের সমর্থক বোল্টন বিবিসির ‘নিউজনাইট’ অনুষ্ঠানকে বলেন, ‘ট্রাম্প যেভাবে এগোচ্ছেন, সেই পরিকল্পনাহীন পন্থার বদলে সঠিক উপায়ে এটি করা ভালো হতো।’ বোল্টন আরো বলেন, ‘এ জন্য মার্কিন জনগণ প্রস্তুত ছিল না, কংগ্রেসও প্রস্তুত ছিল না, এমনকি মিত্র দেশগুলোও প্রস্তুত ছিল না।’ বোল্টন আরো বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, এ সরকার যদি ক্ষমতায় থাকে, তবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার প্রভাব কেমন হতে পারে, তার দৃশ্যমান প্রমাণ এখন তাদের (ইরানের শাসকগোষ্ঠী) কাছে আছে। এটি অনেকটা পারমাণবিক অস্ত্রের মতো না হলেও উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানির বিষয়টি এখন তাদের ইচ্ছাধীন হয়ে পড়েছে।’ 

ইরান যুদ্ধ একটি মারাত্মক ভুল : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির এক অস্বাভাবিক কঠোর সমালোচনা করে জার্মানির প্রেসিডেন্ট মঙ্গলবার বলেছেন, ইরান যুদ্ধ একটি ‘ভয়াবহ ভুল’, যা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে। তিনি আরো বলেন, এই নীতি জার্মানির যুদ্ধ-পরবর্তী বৃহত্তম মিত্রের সঙ্গে সম্পর্কের ফাটল ধরিয়েছে। তিনি বলেন, ‘ইরানের যুদ্ধের বিষয়ে আমাদের অবশ্যই এই বিষয়টি সমাধান করতে হবে। কারণ আমার মতে, এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী’। তিনি আরো যোগ করেন, মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে আসন্ন হামলার অজুহাতটি যে ধোপে টেকে না, সে বিষয়ে তাঁর কোনো সন্দেহ নেই। যুদ্ধটিকে অপ্রয়োজনীয় এবং একটি ‘রাজনৈতিকভাবে বিপর্যয়কর ভুল’ আখ্যা দিয়ে স্টাইনমেয়ার বলেন, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ জার্মানির বৈদেশিক সম্পর্কে এমন এক গভীর ফাটল ধরিয়েছে, যা ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের মতোই গুরুতর। সূত্র : আলজাজিরা, এপি, বিবিসি, রয়টার্স, গার্ডিয়ান, নিউইয়র্ক টাইমসৎ।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad