
অনলাইন ডেস্ক ►
হংকংয়ে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের আওতায় নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করেছে সরকার। এখন থেকে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে তদন্তে ফোন বা কম্পিউটারের পাসওয়ার্ড দিতে অস্বীকৃতি জানালে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি অর্থদণ্ডও করা হবে। আজ ২৩ মার্চ সোমবার এক ঘোষণায় হংকং সরকার এ তথ্য জানিয়েছে।
নতুন এই বিধানটি ২০২০ সালে চীন আরোপিত জাতীয় নিরাপত্তা আইনের সংশোধিত অংশ। ২০১৯ সালের ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর আধা-স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলে আইনটি কার্যকর করা হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ওয়ারেন্টধারী পুলিশ যদি কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসে যুক্তিসঙ্গত সন্দেহ করে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে পাসওয়ার্ড বা অন্য কোনো ডিক্রিপশন পদ্ধতি সরবরাহ করতে হবে। তদন্তকারী সংস্থাকে অবশ্যই ডিভাইসে প্রবেশাধিকার দিতে হবে।
এই নির্দেশ অমান্য করলে সর্বোচ্চ এক লাখ হংকং ডলার বা প্রায় ১২ হাজার ৭০০ মার্কিন ডলার জরিমানা অথবা এক বছরের কারাদণ্ড করা হবে। কিংবা উভয় দণ্ডও হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। সংশোধিত বিধান শুধু ব্যবহারকারীর জন্যই কার্যকর হবে তা নয়। সংশ্লিষ্ট ডিভাইসের মালিক, নিয়ন্ত্রক বা যিনি পাসওয়ার্ড বা ডিক্রিপশন পদ্ধতি সম্পর্কে জানেন, সবাই এই আইনের আওতায় পড়বেন। এছাড়া আইনে উল্লেখ করা হয়েছে, পেশাগত গোপনীয়তার বাধ্যবাধকতা থাকলেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ সাংবাদিক, চিকিৎসক বা আইনজীবীর মতো পেশাজীবীরাও এই নির্দেশ মানতে বাধ্য থাকবেন।
সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, নতুন নিয়মগুলো এমনভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে যাতে জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্নকারী কার্যকলাপ কার্যকরভাবে প্রতিরোধ, দমন ও শাস্তি দেওয়া যায়। একই সঙ্গে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আইনসম্মত অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষার কথাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এদিকে মানবাধিকার সংস্থা ও পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, এই আইন ব্যবহার করে ভিন্নমত দমন এবং গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা সীমিত করা হচ্ছে। সূত্র: ডয়চে ভেলে