• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ২৬-৬-২০২৪, সময়ঃ সকাল ১১:৪৯
  • ৯৩১ বার দেখা হয়েছে

সুন্দরগঞ্জে কাজ শেষ না হতেই দেবে গেল সেতু

সুন্দরগঞ্জে কাজ শেষ না হতেই দেবে গেল সেতু

তিস্তা আকন্দ, সুন্দরগঞ্জ

কাজ শেষ না হতেই দেবে গেল সেতুটি। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা বাজার খেয়াঘাটের তিস্তার শাখা নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ হচ্ছিল। গত রবিবার (২৩ জুন) সকালে এর চারটি পিলার দেবে যায়।

চরবাসীর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২২-২০২৩ অর্থবছরের এডিবি ও রাজস্ব খাত থেকে বেলকা বাজার খেয়াঘাটে কংক্রিটের খুঁটির ওপর কাঠের পাটাতনের সেতু নির্মাণে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় উপজেলা পরিষদ। অনিয়মের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সেতুটির কাজ। 

ৎ২০২৩ সালের ৩০ জুন সেতুর কাজ শেষ দেখিয়ে সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-মারুফ (বর্তমানে কক্সবাজার জেলা পরিষদ নির্বাহী প্রধান) ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আসরাফুল আলম সরকারের যৌথ স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলন করা হয়। এর পরই পদোন্নতিজনিত কারণে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বদলি হয়ে চলে যান। 

বিষয়টি জানতে পেরে সাংবাদিকরা বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চান। এক পর্যায়ে চাপের মুখে গত জানুয়ারি মাসে সেতুর কাজ কাজ শুরু করা হয়। গাইবান্ধার রানা এন্টারপ্রাইজের পক্ষে কাজটি করেন সিনথিয়া কনস্ট্রাকশনের ঠিকাদার সাগীর খান। কংক্রিটের খুঁটির ওপর কাঠের পাটাতন বসানো হলেও এখন পর্যন্ত সেতুর রেলিং দেওয়া হয়নি। এরই মধ্যে বন্যার পানির স্রোতে সেতুর মাঝখানের চারটি খুঁটি দেবে দেবে গেছে।

সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কক্সবাজার জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আল মারুফ জানান, হঠাৎ বদলি হওয়ায় তিনি কাজটি শুরু করতে পারেননি। উত্তোলন করা টাকা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে জমা রয়েছে। পরবর্তী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্ধারিত ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। কিন্তু কেন করা হয়নি সেটি তাঁর জানা নেই।

বেলকাচরের শিক্ষার্থী ছানা মিয়া আক্ষেপ করে বলে, সেতুর কাজ শুরু হলে চরের শিক্ষার্থীরা খুশি হয়েছিল। কিন্তু বিধি বাম, কাজ শেষ না হতেই তা দেবে গেল। এখন আবারও সেই নৌকা দিয়ে পারাপার হতে হচ্ছে।

হরিপুরচরের স্কুলশিক্ষক আবদুল জলিল মিয়া বলেন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে কাজ করায় স্রোতে খুঁটি দেবে গেছে। এ ছাড়া কাজ শেষ না হতেই চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করাটাও ভুল ছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধিদের গাফিলতি ও অনিয়মের কারণে সেতুর এই অবস্থা বলে মনে করেন তিনি।

ইউপি সদস্য গোলজার হোসেন জানান, ঠিকাদার এবং উপ-প্রকৌশলীর গাফিলতির কারণে সেতুটি দেবে গেছে। উপজেলা প্রকৌশলীও দায় এড়াতে পারেন না।

ঠিকাদার সাগীর খান জানান, প্রকল্পটির মূল ঠিকাদার গাইবান্ধার রানা মিয়া। সাব-ঠিকাদার হিসেবে তিনি কাজটি শুরু করেন। কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। তবে তিস্তার স্রোতের কারণে মাটি সরে গিয়ে খুঁটি দেবে গেছে। এই মুহূর্তে কিছু করার নেই, পানি কমলে প্রকৌশলীর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল মোন্নাফ জানান, তিনি সবে যোগদান করেছেন। তাঁর দাবি, যেভাবে সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা হয়েছিল, তা ভুল ছিল। তিস্তার শাখা নদীর ওপর কাঠের সেতু করতে যে ধরনের নকশা করার কথা, তা হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা। সেতুর এমন দশার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়