Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ১ ঘন্টা আগে
  • ১২ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

গাইবান্ধায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৬জন পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ

গাইবান্ধায় সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৬জন পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ

সঞ্জয় সাহা ►
একটি দূর্ঘটনা সারাজীবন কান্নার কারন হয়ে যায়। সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালকদের প্রতিযোগিতা,  ওভার স্পিড, অনিয়ন্ত্রিত ও মোটরযান আইন উপেক্ষা করে যানবাহন চালানোর কারনে প্রতিনিয়তই সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে করে  পঙ্গুত্বহীন সহ মৃত্যুবরণ করছে।  ফলে অনেক সময়  পরিবারের একমাত্র উপার্জনতম  ব্যক্তি আহত হয়ে  পড়ে থাকার কারনে একদিকে যেমন  পরিবারের বোঝা হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিরা দীর্ঘসময় ধরে চিকিৎসাধীন থাকায়  পরিবার  আর্থিক ও মানসিকভাবে দূর্বল হয়ে পড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর মেরিরহাট, ঠুটিয়াপুকুর সহ বিভিন্ন স্থানে  সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অনুকূলে মঞ্জুরীকৃত অর্থ সহায়তার চেক হস্তান্তর করেছে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি  গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক ড. মো: মনিরুজ্জামান।  গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) যৌথ উদ্যাগে ১৬ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন সম্মেলন কক্ষে  এই অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক  ড. মো: মনিরুজ্জামান বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বা অঙ্গহানি কোনোটিই সাধারণ ক্ষতি নয়, এটি একটি পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। সরকার সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য এই আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছে। যদিও অর্থের মাধ্যমে হারানো স্বজনদের ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়, তবে আমরা আশা করি এই অনুদান ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে কিছুটা হলেও সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে। এই টাকা দিয়ে আর্থিক উপার্জনের পথ তৈরি করতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধে শুধু প্রশাসনের তৎপরতাই যথেষ্ট নয়, চালক, যাত্রী এবং পথচারীসহ সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা প্রয়োজন। ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং সড়কে চলাচলের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের নিহত ১৪ জনের পরিবারের প্রত্যেক সদস্যদের ৫ লাখ টাকা করে ৭০ লাখ টাকার চেক ও  নিহত দুইজনের পরিবারের সদস্যদেরকে ৩ লাখ করে  ৬ লাখ টাকার চেক পরিবারের সদস্যদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুদানের চেক তুলে দেন।  উপকারভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে পলাশবাড়ীর জেসমিন আক্তার বলেন - আমার বাবা সড়ক দূর্ঘটনায় মারা গিয়েছে। আমরা ৩ বোন। কোন ভাই নেই।  আমি এখানে সরকারি অনুদান নিতে আসছি।  এই টাকাটা পেলে আমার মায়ের খুব ভাল হবে এবং বাবার দেনা পরিশোধ করা যাবে।
পীরগঞ্জ হারুন জানান- ২রা জানুয়ারি ২০২৬ সাল গাইবান্ধার ঠুটিয়াপুকুরে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত হয়েছে। তাই বিআরটিএ গাইবান্ধা অফিসে সরকারি সহযোগীতার জন্য আবেদন করেছিলাম। আজ ৫ লাখ টাকা অনুদান চেক পেয়েছি।  অনুদান পেয়ে ভাল লাগল। টাকাটা দিয়ে আয় করার কাজ করতে পারব।  এই সংকটের সময়ে পাশে দাঁড়ানোর বিআরটিএর কর্মকর্তা সহ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
এতে বক্তব্য রাখেন - গাইবান্ধা  অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শরীফ আল রাজীব,  বিআরটিএ গাইবান্ধা সার্কেলের সহকারী পরিচালক ফয়সাল হাসান এবং মোটরযান পরিদর্শক মো. কামাল আহমেদ কাজলসহ অনেকে। বিআরটিএ গাইবান্ধা সার্কেল সহকারী পরিচালক ফয়সাল হাসান  জানায়, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ (চোদ্দ) জনের পরিবারকে জনপ্রতি ৫ লাখ টাকা ও গুরুত্বর আহত কিন্তু চিকিৎসার মাধ্যমে স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে না এমন ২ (দুই) জনকে ৩ লাখ করে মোট ৭৬ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে। গাড়ির লাইসেন্স করার সময় অন্যান্য ফির সাথে  সরকার বিমা হিসেবে হাজার খানিক টাকা ফি নেয়। সেই টাকার লভাংশ হিসেবে বিআরটিএ ট্রাস্টি বোর্ডের  চেয়ারম্যান এই ক্ষতিপূরণ টাকা  প্রদান করেছেন। 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad