
ফুলছড়ি প্রতিনিধি ►
শান্তি, সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ ও মতপার্থক্য নিরসনে গাইবান্ধার ফুলছড়িতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ফুলছড়ি প্রেসক্লাবে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের আওতায় ফুলছড়ি উপজেলা পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি) এর আয়োজনে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রকল্পটি লক্ষ্য হলো, স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন পক্ষকে সম্পৃক্ত করে রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও সামাজিক বিরোধ প্রতিরোধ এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান জোরদার করা।
সভায় স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখা, সামাজিক বিরোধ ও মতপার্থক্য আলোচনার মাধ্যমে নিরসন, পারস্পরিক সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া সভায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কালো টাকার প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, ভোটকক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতামত তুলে ধরা হয়।
ফুলছড়ি উপজেলা পিএফজির সমন্বয়কারী শামসুজ্জোহা বাবলুর সভাপতিত্বে হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশের রংপুরের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী ফরিদা ইয়াসমিনের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন, ফুলছড়ি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবুল খায়ের, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ফুলছড়ি উপজেলা সদস্য সচিব জাহিদ হাসান জীবন, উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান, বাংলাদেশ রবিদাস ফোরামের প্রতিনিধি বিপুল চন্দ্র রবিদাস, সুবল কুমার রবিদাস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উপজেলা সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, মুক্তিযোদ্ধা সায়েদ আহমেদ দুলু, হাফেজ সাইফুল ইসলাম, সাবেক ইউপি সদস্য রোকেয়া বেগম, শাহীন মণ্ডল, ওয়াইপিএজি অ্যাম্বাসেডর খোরশেদ আলম সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
বক্তারা বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে কোনো ধরনের বিরোধ বা মতপার্থক্য দেখা দিলে তা সংঘাতের দিকে না নিয়ে আলোচনা, সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক ও সামাজিক সহনশীলতা বাড়াতে বিভিন্ন মত ও পথের মানুষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা।
সভায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার পরিবেশ নিশ্চিত করা, নির্বাচনে অর্থের প্রভাব কমানো এবং ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর বিষয়ে অংশগ্রহণকারীরা তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।