Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২ ঘন্টা আগে
  • ১৩ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

কুড়িয়ে আনা শাক-কচুতেই মুক্তা বেগমের জীবনসংগ্রাম।

কুড়িয়ে আনা শাক-কচুতেই মুক্তা বেগমের জীবনসংগ্রাম।

আব্দুল মালেক সাজু ►
​সকালের সূর্য ওঠার পরপরই হাতে ঝুড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়েন তিনি। গন্তব্য গ্রামের মেঠোপথ, ক্ষেতের আইল কিংবা পরিত্যক্ত কোনো ঝোপঝাড়। সেখান থেকে খুঁজে খুঁজে তুলে আনেন প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা চকু শাক ও দেশি কচু। সার-কীটনাশকমুক্ত প্রকৃতির এই উপহারই বাঁচিয়ে রেখেছে তাঁর এবং তাঁর সন্তানের অস্তিত্ব।

​বলছিলাম গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ৬নং ধাপেরহাট ইউনিয়নের বয়ালিদহ গ্রামের মুক্তা বেগমের কথা। স্বামী পরিত্যক্তা এই নারী এক সন্তানকে নিয়ে টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন বছরের পর বছর। ​পিতা-মাতার মৃত্যু হয়েছে অনেক আগেই। মাথা গোঁজার নিজস্ব কোনো ভিটেমাটি নেই মুক্তা বেগমের, থাকেন অন্যের বাড়ীতে। জীবন যেখানে পদে পদে বাঁধা, সেখানে তিনি হার না মেনে বেছে নিয়েছেন সৎ ও স্বাবলম্বী হওয়ার কঠিন পথ।

​প্রতিদিন সকালে আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে প্রকৃতির নিজ হাতে বেড়ে ওঠা চকু শাক ও কচু কুড়িয়ে সংগ্রহ করেন তিনি। পরবর্তীতে এসব শাক-কচু নিয়ে তিনি ছুটে যান স্থানীয় ধাপেরহাট, পলাশবাড়ী, পীরগঞ্জ, চতরা কিংবা সাদুল্লাপুর উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে।

​রাসায়নিক সার ও বিষমুক্ত প্রাকৃতিক শাক হওয়ায় বাজারে তাঁর কুড়িয়ে আনা শাকের বেশ চাহিদা। ক্রেতারাও আগ্রহ নিয়ে কিনে নেন তাঁর এই শাক-কচু। মুক্তা বেগম জানান, প্রতিদিন শাক বিক্রি করে তাঁর আয় হয় ২০০ থেকে ৩০০ টাকা। এই সামান্য উপার্জন দিয়েই কোনোমতে টেনেটুনে চলে তাঁর ও সন্তানের দৈনন্দিন জীবনের খরচ।

​আকাশছোঁয়া দ্রব্যমূল্যের এই বাজারে ২০০-৩০০ টাকায় সংসার চালানো কতটা যে কঠিন, তা কেবল মুক্তা বেগমই জানেন। তবুও কারও কাছে হাত না পেতে, নিজের ঘাম ঝরানো আয়ে সন্তানকে মানুষ করার ও বেঁচে থাকার এই অদম্য সংগ্রাম স্থানীয়দের কাছে অনুকরণীয় এক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad