Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ২৪-৩-২০২৬, সময়ঃ দুপুর ০১:০৪
  • ১০০ বার দেখা হয়েছে

সেতুর ওপর উপচে পড়া ভির যাত্রী সাধারনের চলাচল বিঘ্নিত

সেতুর ওপর উপচে পড়া ভির যাত্রী সাধারনের চলাচল বিঘ্নিত

সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি ► 

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের মওলানা ভাসানী সেতু যেন আকর্ষণীয় বিনোদন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ঈদের দিন থেকে শুরু করে সেতুর ওপরে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া যেন নজর কারার মতো। হাজারও দর্শানার্থীর ভিরে যাত্রী সাধারনের চলাচল মারাত্বর ভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। পুলিশি টহল দর্শানার্থীদের সামাল দিতে পারছেন না। গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের আবালবৃদ্ধবনিতারা বিকাল ৪টা হতে রাত ১০টা পর্যন্ত সেতুর ওপরে মেতে উঠেছেন ঈদ আড্ডায়। অনেকে ব্যঙ্গ করে বলছেন সেতু মনে হয় দেবে যাবে দর্শানার্থীর ভরে। 

সেতুটি চালু করার পর থেকে বাড়িতে আসা হয়নি। ঈদে বাড়িতে এসে স্ত্রী, পুত্র ও পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসেছি। দেশের অনেক বিনোদন কেন্দ্র ঘুরে দেখেছি। কিন্তু তিস্তা নদীর ওপর মওলা ভাসানী সেতুর মত দৃশ্য অন্য কোথাও নেই। সেতুতে ঘুড়তে আসা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গার চরের ঢাকার গামেন্স কর্মী ফরিদুল ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি বলেন সেতুর তলদেশে ধূ ধূ বালুচর যেন সবুজের নীলা ভুমিতে পরিনত হয়েছে। যা সেতুর ওপর থেকে উপভোগ করছেন দর্শানার্থীরা। এসব দৃশ্য স্বরণ করে রাখার জন্য ক্যামরাবন্ধি করছেন সকলে।

 

সেতুতে ঘুড়তে আসা আরেক দর্শনার্থী কুড়িগ্রামের চিলমারি উপজেলার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আরমান সাদিক বলেন, মওলানা ভাসানী সেতুর বর্তমান দৃশ্যটি যেন প্রকৃতির এক বিচিত্র অনন্য উপসর্গ। এখানে ঘুড়তে এসে প্রাণ ভরে গেছে এবং জুড়ে গেছে। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যে সেতুর দুই পাশে আর্ন্তজাতিক মানের বিনোদন কেন্দ্র এবং রির্সোট গড়ে উঠবে। পিছে পড়া এই জনগোষ্ঠীর ঘুড়ে দাড়ানোর একটি প্লাটফর্ম তৈরি হবে এই এলাকায়। সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগে জরুরী ভিত্তিত্বে এই সেতু এলাকায় ব্যবসায়ীকে জোন সৃষ্টির দাবি ওই শিক্ষার্থীর।

খুব ভাল মানের দোকানপাট গড়ে না উঠলেও দর্শনার্থীদের চাহিদা পুরুনের জন্য সেতুর দুই পাশে ভাসমান, স্থায়ী ও অস্থায়ী কিছু দোকানপাট গড়ে উঠেছে ইতোমধ্যে। সেতুর চিলমারি এলাকার স্থানীয় আব্দুর রাজ্জাক আরও বলেন, ইতোমধ্যে জেলার বাইরের কিছু সংখ্যক ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তা জমি-জমা কিনতে শুরু করেছেন। দোকানপাট, হোটেল ও বিনোদন কেন্দ্র নির্মাণ করার লক্ষে। আশা করা যাচ্ছে অল্প সময়ের মধ্যে এখানে অনেক কিছু হয়ে যাবে। এখানে এখন জমির দাম ১০০ গুন বেড়ে গেছে। 

সেতুর চিলমারি এলাকায় গড়ে উঠা জামাই হোটেলের মালিক শহিদুল ইসলাম বলেন, বিশেষ বিশেষ সময়ে বেচিকিনি খুব ভাল হয়। তাছাড়া সব সময় কমবেশি বিক্রি হয়। ঈদ উপলক্ষে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা বিক্রি হচ্ছে প্রতিদিন। ভাতের চেয়ে অনেকে ফাস্টফুড বেশি পছন্দ করে।
সেতুটি যে ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে চলে গেছে, সেই হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, সেতুটি চালুর পর থেকে এই এলাকার মানুষের জীবনমান অনেকটা পরিবর্তন হয়েছে। ইতোমধ্যে ছোটোখাটো ব্যবসায়ীক জোনে পরিনত হয়েছে। বিশেষ বিশেষ দিন ছাড়াও প্রতিদিন হাজারও দর্শনার্থী ভির করছেন সেতুর ওপরে। ঈদ উপলক্ষে সেতু দেখতে আসা বা ঘুড়তে আসা দর্শনার্থীদের ভির সামলানো অনেকা কষ্টকর হয়ে দাড়িয়েছে। গ্রাম পুলিশ নিয়মিত টহল দিচ্ছে। সেই সাথে পুলিশি টহল অব্যাহত রয়েছে। এত মানুষের ভির যা বলে বুঝানো যাবে না। আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যে আর্ন্তজাতিক মানের বিনোদন ও রির্সোট সেন্টারে গড়ে উঠবে এই এলাকায়। সেই সাথে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে সেতু এলাকায় নৌ-টার্মিনাল চালু হবে। যা ব্যবসা ক্ষেত্রে নজিরবিহীন পরিবর্তন সাধিত হবে।  

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad