Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ১৫ ঘন্টা আগে
  • ১০ বার দেখা হয়েছে

পীরগাছায় ভিজিএফ কার্ডের ভাগাভাগির রেজুলেশন ভাইরাল

পীরগাছায় ভিজিএফ কার্ডের ভাগাভাগির রেজুলেশন ভাইরাল

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি

রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কর্মসূচির কার্ড বণ্টন নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে অন্নদানগর ইউনিয়নে প্রশাসকের স্বাক্ষরিত একটি রেজুলেশনে প্রশাসকের নিজের জন্য ৩৭৭টি এবং দলীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জন্য ১২০০টি কার্ড বরাদ্দের উল্লেখ রয়েছে। অথচ স্থানীয় শল্লার বিল আশ্রয়ণ কেন্দ্রে বসবাসকারী হতদরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

গত রবিবার সকাল ১০টার দিকে কার্ডের দাবিতে ইউনিয়ন পরিষদ ঘেরাও করে বঞ্চিত হতদরিদ্র পরিবারগুলো। এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের প্রশাসক বিজয় কুমার রায়ের গত ৫ মার্চের স্বাক্ষরিত একটি রেজুলেশনের কপি পাওয়া যায়। রেজুলেশনটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

রেজুলেশনে দেখা যায়, ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দকৃত মোট ৪ হাজার ৭৯৭টি ভিজিএফ কার্ড বিভিন্ন খাতে বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইউনিয়ন প্রশাসকের জন্য ৩৭৭টি কার্ড এবং দলীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জন্য ১ হাজার ২০০টি কার্ড বরাদ্দের উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া ওয়ার্ডভিত্তিক বণ্টনের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডে ২৭০টি করে, ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ২৭৫টি, ৪ ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ২৩০টি করে, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ২৯০টি, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ২৭০টি করে এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ২৯০টি কার্ড বিতরণের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনজন সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্যের জন্য পৃথকভাবে ২৭৫টি করে কার্ড বরাদ্দের কথাও উল্লেখ রয়েছে। তবে ভিজিএফ কর্মসূচি মূলত দরিদ্র, অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ইউনিয়ন পর্যায়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত দরিদ্রদের তালিকা প্রণয়ন করে কার্ড বিতরণের কথা রয়েছে।

এদিকে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, ভিজিএফের মতো দরিদ্র মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত সহায়তা কর্মসূচির কার্ড বণ্টনে এ ধরনের সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হলো এবং প্রকৃত উপকারভোগীরা আদৌ সেই সুবিধা পাচ্ছেন কি না। স্থানীয়দের দাবি, কোনো ব্যক্তি বা দলীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জন্য নির্দিষ্ট কার্ড সংরক্ষণের বিধান সরকারি নীতিমালায় নেই। ফলে এমন রেজুলেশন তৈরি করা হলে তা নীতিমালার সঙ্গে অসামঞ্জস্য হতে পারে বলে তারা মনে করছেন।

রেজুলেশনে উল্লেখিত কার্ড বরাদ্দের বিষয়ে জানতে অন্নদানগর ইউনিয়নের প্রশাসক বিজয় কুমার রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কার মাধ্যমে বিতরণ হল সেটা বিষয় না। তবে সকলে যাতে সঠিকভাবে কার্ড পায় সে লক্ষে কাজ করছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পীরগাছা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আলতাফ হোসেন বলেন, আমরা ইউনিয়নভিত্তিক বরাদ্দ দিয়ে থাকি। পরে ইউনিয়ন কমিটির মাধ্যমে উপকারভোগীর তালিকা তৈরি করে বিতরণ করা হয়। এ ধরনের কোনো বিষয় আমার জানা নেই।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাশীষ বসাক বলেন, ভিজিএফ কর্মসূচির চাল অবশ্যই দুস্থ ও দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করতে হবে। এভাবে কোনো ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো খাতে ভাগ করার সুযোগ নেই। বিষয়টি জানার পর প্রশাসককে পুনরায় সভা আহ্বান করে নীতিমালা অনুযায়ী উপকারভোগী নির্ধারণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad