Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ১ ঘন্টা আগে
  • ৩ বার দেখা হয়েছে

মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনায় অংশীজনদের ভূমিকা শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত

মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনায় অংশীজনদের ভূমিকা শীর্ষক সংলাপ অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
মাসিক মানবজাতির অস্তিত্বের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। মাসিক না হলে মানুষের জন্মও সম্ভব নয়। তবুও এই বিষয়টিকে অবহেলা করা হয়- এমন মন্তব্য উঠে এসেছে গাইবান্ধায় অনুষ্ঠিত এক সংলাপে। মাসিক নারীর বিষয় হলেও এতে পুরুষের ইতিবাচক সহায়তা প্রয়োজন এবং নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ছাড়া কার্যকর মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা সম্ভব নয় বলে জানান সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা। পাশাপাশি নারীদের স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা (MHM) বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনদের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মতামত উঠে এসেছে সংলাপে।
FANSA বাংলাদেশ (সচিবালয় এসকেএস ফাউন্ডেশন)- আয়োজিত ÒDialogue on StakeholdersÕ Role in MHM PromotionÓ শীর্ষক এ সংলাপ আজ ১১ মার্চ ২০২৬ গাইবান্ধার এসকেএস ইন্-এ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গাইবান্ধা সদর উপজেলার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মোঃ নাজমুল হুদা বলেন, “মাসিক মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য অপরিহার্য একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও সামাজিক সংকোচের কারণে বিষয়টি এখনো খোলামেলা আলোচনায় আসে না। তাই এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আতাউর রহমান বলেন, “বিদ্যালয়গুলোতে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তবে সচেতনতা ছাড়া কেবল উপকরণ দিয়ে মানুষের অভ্যাস পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।”  
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় গাইবান্ধা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সিনিয়র স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা পুলক কুমার চক্রবর্তী বলেন, “মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্যসম্মত উপকরণ ব্যবহার, পরিষ্কার পানি ও সাবানের প্রাপ্যতা এবং নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না হলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।” তিনি উল্লেখ করেন, দেশে প্রতি ৯ জন নারীর মধ্যে মাত্র ১ জন স্যানিটারি প্যাড বা ন্যাপকিন ব্যবহারের সুযোগ পান। আর গ্রামীণ এলাকার প্রায় ৯০% নারী পুরোনো কাপড়ের টুকরো ব্যবহার করেন। অনেক জায়গায় ব্যবহৃত ন্যাপকিন বা কাপড় নিরাপদ ও গোপনীয়ভাবে ফেলার ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়। একই সঙ্গে অনেক কিশোরী প্রথম পিরিয়ডের আগে মাসিক সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা পায় না; কারণ মাত্র প্রায় ৬% স্কুলে মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়। এর প্রভাব শিক্ষাজীবনেও পড়ছে-প্রায় ৩০% স্কুলছাত্রী মাসিককালীন সময়ে স্কুলে অনুপস্থিত থাকে। বন্যা বা অন্যান্য দুর্যোগের সময় এই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী নারীরা মাসিক ব্যবস্থাপনায় আরও বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন।
প্যানেল আলোচনায় দৈনিক মাধুকর পত্রিকার সম্পাদক কে. এম. রেজাউল হক বলেন, “মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা নারীর বিষয় হলেও এখানে পুরুষের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।” গাইবান্ধা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. হারুন অর রশিদ বলেন, “এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এটা মেনে নিতেই আমাদের সংকোচ রয়েছে। তাই তো এতে পরিবারের কোনো বাজেট থাকে না।” 
এসকেএস স্কুল অ্যান্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ ড. অনামিকা সাহা বলেন, “বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও মাসিক শুরু হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তাই মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব দিয়ে ছাত্রছাত্রীদের বই সরবরাহের মতো করে ছাত্রীদের মধ্যে প্যাড বিতরণ করা প্রয়োজন।” লেখক ও সাবেক অধ্যাপক নাসরিন সুলতানা রেখা বলেন, “মাসিককে লজ্জার বিষয় না ভেবে স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া হিসেবে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করা জরুরি।”  
মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, গাইবান্ধার অনেক গ্রামীণ ও চরাঞ্চলে স্যানিটারি প্যাড সহজলভ্য নয়। তাই এসব এলাকায় প্যাড সরবরাহ নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসায়িক উদ্যোগ গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে। 
সংলাপে স্বাগত বক্তব্যে FANSA বাংলাদেশ-এর সমন্বয়কারী জেভিয়ার স্কু বলেন, “মাসিক স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে সমাজে এখনো নানা ধরনের কুসংস্কার ও সংকোচ রয়েছে। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র ও জনসাধারণের ব্যবহারের শৌচাগারে উপযুক্ত সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।” সংলাপে জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, শিক্ষা বিভাগ, পৌরসভা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, নারী, যুব ও ইউনিয়ন পরিষদ- এর প্রতিনিধিসহ প্রায় ৪০ জন অংশগ্রহণ করেন।
সংলাপে সভাপতিত্ব করেন এসকেএস ফাউন্ডেশনের অ্যাডভোকেসি অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের পরিচালক এবং FANSA Bangladesh- এর কনভেনার যোসেফ হালদার। তিনি অংশগ্রহণকারীদের যারযার অবস্থান থেকে মাসিক স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থাপনা এবং তার পূর্বশর্ত হিসাবে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার সম্প্রসারনের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad