
অনলাইন ডেস্ক ►
২০২৬ টি-২০ বিশ্বকাপের রোমাঞ্চকর লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। মাঠের লড়াইয়ে চার-ছক্কার ফুলঝুরি আর উইকেটের পতন যেমন দর্শকদের আনন্দ দিয়েছে, তেমনি ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে নজর কেড়েছেন কয়েকজন ক্রিকেটার। তবে টুর্নামেন্টসেরার মুকুট কার মাথায় উঠবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। সেরার দৌড়ে চলছে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এগিয়ে আছেন ইংল্যান্ডের উইল জ্যাকস, নিউজিল্যান্ডের রাচিন রবীন্দ্র এবং ভারতের জশপ্রীত বুমরাহ। এখন দেখার বিষয় শিরোপার লড়াই। ফাইনালের মঞ্চে এ তারকাদের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করে দেবে কার হাতে উঠছে বিশ্বকাপের এই মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত স্বীকৃতি।
ইংল্যান্ডের সেমিফাইনাল পর্যন্ত যাত্রায় মেরুদন্ড হিসেবে কাজ করেছেন অলরাউন্ডার উইল জ্যাকস। দলের হয়ে ‘ফিনিশার যখন গেম চেঞ্জার’ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন তিনি। আট ম্যাচে ১৭৬.৫৬ স্ট্রাইক রেটে ২২৬ রান করার পাশাপাশি তিনি তুলে নিয়েছেন ৯টি উইকেট। বিশেষভাবে নজর কেড়েছে ইতালির বিপক্ষে তার ২১ বলে ঝোড়ো হাফ সেঞ্চুরি এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২২ রানে ৩ উইকেট। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বল হাতে ব্রেক থ্রু দেওয়া এবং ফিনিশার হিসেবে খাদের কিনারা থেকে দলকে টেনে তোলা তাকে সেরার লড়াইয়ে এক ধাপ এগিয়ে রাখছে।
নিউজিল্যান্ডের রাচিন রবীন্দ্র ব্যাট-বলে উভয় বিভাগেই সমান উজ্জ্বল। হয়ে ওঠেন কিউইদের নির্ভরযোগ্য ‘অলরাউন্ড’ প্যাকেজ। টুর্নামেন্টে ১২৮ রান সংগ্রহের পাশাপাশি বল হাতে শিকার করেছেন ১১টি উইকেট। লঙ্কানদের বিপক্ষে তার ২৭ রানে ৪ শিকারের বোলিং পারফরম্যান্স ছিল আসরের অন্যতম সেরা স্পেল। মিডল অর্ডারে ব্যাটিং গভীরতা বাড়ানো এবং নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরার সক্ষমতা তাকে কিউই শিবিরের তুরুপের তাস বানিয়ে তুলেছে।
ভারতের বোলিং আক্রমণের প্রাণভোমরা জশপ্রীত বুমরাহ। গতির জাদুতে ইতিহাসের পাতায় নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। চলতি টুর্নামেন্টে ১০ উইকেট শিকারের পাশাপাশি তিনি স্পর্শ করেছেন ৫০০ আন্তর্জাতিক উইকেটের ঐতিহাসিক মাইলফলক। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে ভারতের জয়ের পথ সুগম করেন তিনি। ডেথ ওভারে তার কৃপণ বোলিং এবং চাপের মুখে মাথা ঠান্ডা রাখার ক্ষমতা তাকে যেকোনো ব্যাটারের জন্য আতঙ্কে পরিণত করেছে। এ ছাড়া ছয় ম্যাচে ৩৮৩ রান করে সেরার দৌড়ে আছেন পাকিস্তানের শাহিবজাদা ফারহান। টি-২০ বিশ্বকাপের এক টুর্নামেন্টে দুই সেঞ্চুরির পাশাপাশি সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি।