Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৪৪ মিনিট আগে
  • ১২ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

শেয়ালের কামড়ে ৯জনের শরীরেই জলাতঙ্ক নিশ্চিত

শেয়ালের কামড়ে ৯জনের শরীরেই জলাতঙ্ক নিশ্চিত

সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি ►
রোগ নিশ্চিতকরণ ও ল্যাবগবেষণার জন্য শেয়ালের মাথা পাঠিয়েছিল সেন্ট্রাল ডিজিজ ইনভেস্টিগেশন ল্যাবরেটরিতে। উপজেলা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর নিশ্চিত করেছেন ল্যাবে পাঠানো নমুনায় জলাতঙ্ক পজেটিভ। যার জন্য গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের শেয়ালের কামড়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ৯জন এবং দুইটি গরুর শরীরেই জলাতঙ্ক নিশ্চিত।

এদের মধ্যে এক নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক। এটি জানার পর ওই পরিবারগুলোসহ এলাকাবাসীর মাঝে চরম উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিবার ও এলাকাবাসীর দাবি যেহেতু এটি ছোঁয়াচে বা সংক্রামক রোগ। সে কারনে আক্রান্তদের সেবাকারীরা বা তাদের সাথে চলাচল করা অত্যন্ত সর্তক হয়ে পড়েছে। অনেক প্রতিবেশি বা স্বজন আক্রান্তদের বাড়িতে যাওয়া আসা বন্ধ করে দিয়েছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর রোববার সন্ধ্যায় হঠাৎ একটি শেয়াল জঙ্গল থেকে বের হয়ে এসে জিগাবাড়ি গ্রামের মোছা. রাবেয়া বেগমকে কামড় দিয়ে ছুটাছুটি করতে থাকে। এভাবে যাকে সামনে পেয়েছে, তাকেই কামড় দেয়। একে একে ৯ জনকে কামড় দেয় শেয়ালটি। সেই সাথে দুইটি গরুকেও কামড় দেয়। পরে আক্রান্তদের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে শেয়ালটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলে। শেয়ালের কামড়ে আক্রান্তরা হলেন, ওই গ্রামের মোছা. রারেয়া বেগম, মো. রাকিবুল হাসান, মো. এনামুল হক, মোছা. আয়শা আকতার, মো. হাসান মিয়া, মোছা. নিলি বেগম, মো. সাদেক হোসেন, মোছা. আফরুজা বেগম ও মো. শাওন মিয়া।

গত তিন ধিন ধরে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রন ও গবেষনা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর) এবং এফিডেমিওলজি সেলের প্রতিনিধি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আক্রান্তদের সাথে কথা বলছেন এবং বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করছেন। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রন ও গবেষনা ইন্সটিটিউটের (আইইডিসিআর) এফইটিসি ফেলো ডাক্তার মোস্থফা মাহমুদ এবং প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের এফিডেমিওলজি সেলের ইউএলও ডাক্তার সাজেদুল হায়াত বলেন জলাতঙ্ক ও অ্যানথ্রাক্স অত্যান্ত শক্তিশালী জীবাণু। অ্যানথ্রাক্সের আয়ুষকাল ১০০ বছর। এরা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পশুকে রক্ষা করতে হলে আপাতত প্রতিবছর টিকা দিতে হবে। আক্রান্ত মানুষ বা পশুর সেবা অত্যন্ত সর্তকতার সহিত করতে হবে।

জলাতঙ্ক রোগীর লালা বা তার শরীরের আচঁর রোগ ছড়ানোর অন্যতম মাধ্যম। প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তরের এফিডেমিওলজি সেলের ইউএলও ডাক্তার সাজেদুল হায়াত আরও বলেন, স্নায়ুর যত কাছাকাছি জলাতঙ্ক জীবাণু প্রবেশ করবে, তত তাড়াতাড়ি ওই রোগীর অবস্থা গুরুত্বর হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। জলাতঙ্ক টিকা প্রাণি সম্পদ অধিদপ্তর এখন বাইর থেকে সংগ্রহ করে থাকেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার কামরুল হাসান বলেন, শেয়ালের কামড়ে আক্রান্তদের চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে এক নারী হাসপাতােেল ভর্র্তি আছেন, অনেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে চলে গেছে। এক নারীর মাথায় কামড় দিয়েছে। ওই নারী শঙ্কামুক্ত না, তবে বাকীরা শঙ্কামুক্ত।

উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার ডাক্তার কে এম ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, শেয়ালের কামড়ে আক্রান্ত দুইটি গরুর চিকিৎসা চলছে। তবে তাদের দপ্তরে জলাতঙ্ক টিকা নেই। শেয়ালের কামড়ে আক্রান্ত প্রতিজনকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। চলতি বছর এপ্রিল মাসে উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নে কুকুরের কামড়ে ২১ জন আক্রান্ত হন। এতের মধ্যে জলাতঙ্কে ৫ জনের মৃত্যু হয়। 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad