Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ১ ঘন্টা আগে
  • ৪৭ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

মুশফিককে ছাড়িয়ে ইতিহাস গড়লেন হৃদয়

মুশফিককে ছাড়িয়ে ইতিহাস গড়লেন হৃদয়

অনলাইন ডেস্ক ►ঢাকার মতো সিলেট টেস্টেও যেন হারের বৃত্তে বন্দি হতে বসেছিল বাংলাদেশ। একের পর এক উইকেট হারিয়ে ব্যাটিংয়ে যখন দল ধুঁকছিল, ঠিক তখনই ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে এক মহাকাব্যিক ও বীরোচিত ইনিংস খেললেন তাওহীদ হৃদয়। উইকেটে একপ্রান্ত আগলে রেখে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়ে বাংলাদেশকে লড়াইয়ে দুর্দান্তভাবে ফিরিয়েছেন এই ব্যাটার।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে মাত্র তৃতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই এমন রূপকথার জন্ম দিলেন হৃদয়। এর আগে ক্যারিয়ারের প্রথম চার ইনিংসে মাত্র ৫৪ রান করায় এবং ঢাকা টেস্টে প্রশ্নবিদ্ধভাবে উইকেট বিলিয়ে দেওয়ায় তার দলে জায়গা পাওয়া নিয়ে কম সমালোচনা হয়নি। তবে সিলেট টেস্টে ব্যাট হাতে সব সমালোচনার দারুণ এক জবাব দিলেন হৃদয়। খেললেন বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। 

এতদিন টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ডটি ছিল অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিমের দখলে। ২০১৮ সালে মিরপুরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অপরাজিত ২১৯ রানের ইনিংস খেলেছিলেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল। সেই রেকর্ড ভেঙে এখন দেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের নতুন মালিক তাওহীদ হৃদয়। তিনি খেলেছেন ৩৫৯ বলে ২৪২ রানের অপরাজিত ইনিংস।

 

টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথম বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরিকেই ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়েছেন হৃদয়। এর আগে টেস্টে প্রথম সেঞ্চুরিতে সর্বোচ্চ ১৮১ রানের রেকর্ড ছিল মুমিনুল হকের দখলে, ২০১৩ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েছিলেন তিনি। তাকে টপকে বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে প্রথম সেঞ্চুরিতে সর্বোচ্চ রানের নতুন ইতিহাস গড়লেন হৃদয়।

 

এছাড়া মুশফিকুর রহিম (৩টি), সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের (একটি করে) পর মাত্র চতুর্থ বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরির অভিজাত ক্লাবে নাম লেখালেন হৃদয়। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ইতিহাসে প্রথম ব্যাটার হিসেবে টেস্ট ডাবল সেঞ্চুরি করার রেকর্ড। আইসিসি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির মালিক।

এমনকি টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ১১টি ছক্কা হাঁকানোর রেকর্ড এখন হৃদয়ের দখলে। তার আগে টেস্টের এক ইনিংসে বাংলাদেশি ব্যাটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ড ছিল সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের (৭টি)।

সিলেট টেস্টে যখন ব্যাটিংয়ে নামেন হৃদয়, দলের স্কোরবোর্ডে রান ছিল মাত্র ২২। ইনজুরির কারণে ওপেনার সাদমান ইসলাম ব্যাট করতে নামতে না পারায় দলের ওপর চাপ আরও বাড়ে। দ্বিতীয় দিনে মুশফিকুর রহিমের সাথে জুটি গড়ার পর আজ দিনের শুরু থেকেই একে একে সাজঘরে ফেরেন বাকি সতীর্থরা। দলের এমন চরম বিপর্যয়ে অন্য প্রান্তে যোগ্য কোনো ব্যাটারকে না পেয়ে একরকম লেজের সারির ব্যাটারদের সাথে নিয়েই একা হাতে লড়াই চালিয়ে যান হৃদয়।

এর মধ্যে অষ্টম উইকেট দুটিতে তাইজুল ইসলামকে নিয়ে গড়েন ১৬৭ বলে ১১৭ রানের জুটি। এটি টেস্টে সিলেট ভেন্যুতে ৮ম উইকেটে সর্বোচ্চ রানের। এরপর তাসকিন আহমেদকে নিয়েও গড়েন ৮৭ রানের জুটি। তাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ছুড়ে দেওয়া ৩৫৬ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে অলআউট হওয়ার আগে ৩৮৬ রান সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষের চেয়ে ৩০ রানে এগিয়ে আছে স্বাগতিকরা। হৃদয়ের এই ঐতিহাসিক ও লড়াকু ইনিংস লাল-সবুজের টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

 


 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad