• মাধুকর প্রতিনিধি
  • তারিখঃ ১৩-৫-২০২৩, সময়ঃ সকাল ১০:৫০

আগামী ২২মে বাজারে আসছে সুস্বাদু ও সুমিষ্ট নওগাঁর আম 

আগামী ২২মে বাজারে আসছে সুস্বাদু ও সুমিষ্ট নওগাঁর আম 

আব্দুর রউফ রিপন, নওগাঁ ►

আগামী ২২মে বাজারে আসছে সুস্বাদু ও সুমিষ্ট নওগাঁর আম। জেলা প্রশাসন ও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জাতভেদে আম পাড়ার তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছে। নিরাপদ, বিষমুক্ত, পরিপক্ব ও স্বাস্থ্যসম্মত আম বাজারজাত নিশ্চিতে স্থানীয় আমচাষী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। 

কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই নওগাঁর বাজারগুলো গোপালভোগ ও গুটি আমে ছেঁয়ে গেছে। বর্তমানে বাজারে জাত ভেদে ৭০-১০০টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে এই আমগুলো। এই আমগুলো রাজশাহী ও নাটোর অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানায় দোকানীরা। তবে বাজারে পাওয়া আম স্বাস্থ্যসম্মত কিনা কিংবা অধিক মুনাফা পাওয়ার আশায় রাসায়নিক ভাবে পাঁকানো হয়েছে কিনা এই বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত মনিটরিং করার দাবী জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণির ভোক্তারা।  

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ২২মে থেকে গুটি/স্থানীয় জাতের আম পাড়া যাবে। উন্নত জাতের আমের মধ্যে গোপালভোগ আম ২৮মে, খিরসাপাত/হিমসাগর আম ২জুন থেকে পাড়া যাবে। নওগাঁয় উদ্ভাবিত অত্যন্ত সুস্বাদু ও সুমিষ্ট জাতের আম নাগফজলি আম ৭জুন, ল্যাংড়া/হাঁড়িভাঙ্গা আম ১০জুন, ফজলি আম ২০জুন। আম্রপালি আম ২২জুন থেকে পাড়া যাবে। সর্বশেষ ৮জুলাই থেকে আশ্বিনা/বারী-৪/গৌরমতি/কাটিমন জাতের আম পাড়তে পারবেন চাষীরা। তবে নির্ধারিত সময়ের আগে আবহাওয়াজনিত কারণে আম পরিপক্ক হলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার/উপজেলা কৃষি অফিসারের সঙ্গে আলোচনা করে তারিখ পুন:নির্ধারণ করা যাবে।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গতবারের চেয়ে এবার নওগাঁর বাগানগুলোতে আমের ফলন ভালো হয়েছে। বাগানের গাছগুলোতে গতবারের চেয়ে আম ধরেছে বেশি। তবে গাছে আম বেশি ধরার কারণে এবং দীর্ঘ সময় ধরে চলা তীব্র তাপদাহের কারণে আমের আকার এবার কিছুটা ছোট হতে পারে। আমের আকার ছোট হলেও গাছে আম বেশি ধরায় আমের উৎপাদন ল্যমাত্রা কম হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। 

তিনি আরও বলেন, জেলায় চলতি বছর ৩০হাজার হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ৫২৫ হেক্টর বেশি। প্রতি হেক্টর জমিতে ১২দশমিক ৫০টন হিসেবে ৩লাখ ৭৫হাজার ৫৩৫টন আম উৎপাদনের ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা আশা করছি চলতি বছর আমের বাম্পার ফলন পাওয়া যাবে। আমাদের যে ল্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সেটি ছাড়িয়ে যাবে। গত বছর নওগাঁ জেলা থেকে ৭৭মেট্টিক টন আম বিদেশে রপ্তানি হলেও এ বছর প্রায় ৩০০থেকে ৪০০মেট্টিক টন আম বিদেশে রপ্তানি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য বেশ কিছু আম চাষিকে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী উত্তম কৃষি পদ্ধতি অনুসরণ করে আম চাষের জন্য প্রশিণ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন আমের রাজধানী হিসেবে সরকারি ভাবে চাপাইনবাবগঞ্জ স্বীকৃতি পেলেও উত্তরের জেলা নওগাঁ বর্তমানে আম উৎপাদনে রাজশাহী ও চাপাইয়ের আগে। গতবছর রাজশাহীর চেয়ে প্রায় দ্বিগুন আম উৎপাদন হয়েছে নওগাঁয়। এছাড়া বর্তমানে আম চাষে লাভ অনেক বেশি হওয়ার কারণে প্রতিবছরই বাণিজ্যিক ভাবে নতুন নতুন আমের বাগান সৃজন হচ্ছে। সকল আমের মধ্য অন্যতম, সুস্বাদু ও সুমিষ্ট আম হচ্ছে নাগফজলী। এই নাগফজলী আমের জন্মই হচ্ছে এই নওগাঁয়। এছাড়াও দেশজুড়ে নওগাঁর আমের এক আলাদা কদর রয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নওগাঁর আমের নামে বাজারে বিক্রি করা হয় অন্যান্য অঞ্চলের আম।    

পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রাশিদুল হক বলেন, নওগাঁর ব্র্যান্ডিং হচ্ছে আম। নওগাঁর আম সারা বাংলাদেশের আমের বাজারে সুনামের সঙ্গে রাজত্ব করে আসছে। জেলায় উৎপাদিত আম সুস্বাদু ও সুমিষ্ট হওয়ায় চাহিদা রয়েছে দেশজুড়ে। আম পাড়ার নির্ধারিত সময়ে আম পাড়লে এবং বাজারজাত করলে আমের মান ভালো থাকে, অন্যথায় আমের সুনাম নষ্ট হয়। তাই প্রতিবছরের মতো এবারও বাজারে পরিপক্ব ও নিরাপদ আম নিশ্চিত করতেই আম বাজারজাতকরণের দিন ঠিক করা হয়েছে।

আমে ভেজাল ঠেকাতে পরিবহনের আগে এই অঞ্চলের সবচেয়ে বড় আমের বাজার সাপাহার উপজেলা সদর বাজার, পোরশার  নোচনাহার, সারাইগাছীসহ বিভিন্ন বাজারে প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি রাখা হবে। এছাড়াও বাহিরের পাইকাররা যেন সুষ্ঠ ও সুন্দর পরিবেশে নওগাঁর আম কিনে নিয়ে সড়কে কোন ভোগান্তি ছাড়াই যেতে পারেন সেই বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। 
 

নিউজটি শেয়ার করুন


এ জাতীয় আরো খবর
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়