Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৫৭ মিনিট আগে
  • ২২ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

সৈয়দপুরে নাইট ফুটবল ক্লাব এর উদোগে রেলওয়ে মাঠ থেকে মাদকসেবীদের আস্তানা উৎখাত

সৈয়দপুরে নাইট ফুটবল ক্লাব এর উদোগে রেলওয়ে মাঠ থেকে মাদকসেবীদের আস্তানা উৎখাত

সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি
বাংলাদেশ রেলওয়ে কারখানাকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ আমলে গড়ে উঠা সৈয়দপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়াঙ্গন সৈয়দপুর রেলওয়ে মাঠ। সাম্প্রতিক সময়ে সন্ধ্যা নামলেই যেখানে অন্ধকারাচ্ছন্ন থাকত, বসতো মাদক আড্ডা। সেখানে এখন জ্বলছে আলোকবাতি। আর সেই আলোয় সন্ধ্যার পর থেকে জমে উঠছে খেলাধুলার আসর।  একসময় মাদকসেবীদের দখলে থাকা রাতের মাঠকে খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের করে নিয়েছেন সাংবাদিক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বয়ে সদ্য গড়ে উঠা সংগঠন ‘নাইট ফুটবল ক্লাব (এনএফসি)। ফলে সম্পূর্ণভাবে পাল্টে গেছে বিগত সময়ের চেনা পরিবেশ। ফিরেছে অতীত ঐতিহ্যের নতুন  আবহ।

এনএফসির অন্যতম উদ্যোক্তা ও সাধারণ সম্পাদক সময় টেলিভিশনের চিত্র সাংবাদিক মো. সোহেল বলেন, প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা রেলওয়ে মাঠে ফুটবল খেলা হয়। কাজের ব্যস্ততার কারণে ব্যায়াম বা জিম করার সুযোগ হয় না। তাই শরীর সুস্থ ও ফিট রাখতেই রাতে ফুটবল খেলার এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, তাদের লক্ষ্য শুধু শরীরচর্চা নয়; মাদকের আড্ডা থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপরিসরকে সুস্থ বিনোদনের পরিবেশে রুপান্তর করা। আর সেই উদ্যোগেই যেন বদলে গেছে মাঠের রাতের চেহারা। একসময় সন্ধ্যা নামলেই যেখানে বসত মাদকের আড্ডা, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ত নেশাগ্রস্তদের আনাগোনা। সেই সৈয়দপুর রেলওয়ে মাঠ এখন মুখর ফুটবলের উচ্ছ্বাসে।

এখন টেলিভিশনের চিত্র সাংবাদিক আশিকুর রহমান আশিক বলেন, সারাদিন বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকার পর রাতে ফুটবল খেলার মাধ্যমে শরীরচর্চা করা হচ্ছে। এতে শরীর ভালো থাকার পাশাপাশি নিয়মিত খেলাধুলার অভ্যাসও তৈরি হচ্ছে। দিনভর কর্মব্যস্ততা শেষে সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, গাড়িচালক সহ বিভিন্ন পেশার মানুষ সেখানে জড়ো হন। শুরুতে মাত্র আটজনকে নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও এখন নিয়মিত খেলোয়াড়ের সংখ্যা প্রায় ৩৫ জন।

এনএফসির সভাপতি দৈনিক নয়া দিগন্ত পত্রিকার সৈয়দপুর উপজেলা প্রতিনিধি জাকির হোসেন জানান, রেলওয়ে মাঠ ঐতিহ্য হারিয়ে মাদক আখড়ায় পরিণত হয়েছিল। এনিয়ে প্রশাসনকে জানানো ও সংবাদ প্রকাশের পরও এখানে বন্ধ করা যায়নি মাদকের বিক্রি ও সেবন। তাই কয়েকজনের ইতিবাচক ভাবনার ফলে এই উদ্যোগের সূচনা।

তিনি আরও বলেন, মাদক প্রতিরোধে শুধু অভিযান বা সচেতনতামূলক প্রচারণাই নয়, তরুণদের জন্য বিকল্প সুস্থ বিনোদনের জায়গা তৈরি করাও জরুরি। সৈয়দপুর রেলওয়ে মাঠের এই উদ্যোগ যেন তারই একটি বাস্তব উদাহরণ। যেখানে মাদকের আড্ডা সরিয়ে জায়গা করে নিয়েছে ফুটবল। উদ্যোগটির আরেকটি বড় অর্জন হলো মাদকের আড্ডা কমে যাওয়া। খেলাধুলা শুরু হওয়ার পর মাদকসেবীদের আনাগোনা অনেকটাই কমে গেছে। এখন আরও অনেক মানুষ মাঠে খেলতে আসছেন। এমনকি আমাদের দেখে অন্য এলাকাতেও রাতে ফুটবল খেলার উদ্যোগ শুরু হয়েছে।

ব্যবসায়ী কাইয়ুম খান ডলফিন ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর তানভির বলেন, আগে মাঠে বিভিন্ন মাদকসেবী ও নেশাগ্রস্তদের আনাগোনা ছিল। সেই পরিস্থিতি বদলাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। এখন নিয়মিত খেলাধুলার কারণে মাঠের পরিবেশ অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে। এতে একদিকে শরীরচর্চা হচ্ছে, অন্যদিকে সমাজে মাদকের প্রভাবও কমছে।

মাঠের পাশের মাইক্রোস্ট্যান্ডের গাড়িচালক সেলিম, রেজাউলসহ কয়েকজন জানান, আগে রাত হলেই মাঠের বিভিন্ন অংশে মাদকের আড্ডা বসত। এখন রাত হলেই সেখানে ফুটবল খেলতে আসা মানুষজনের দেখা মেলে। খেলাধুলার কারণে আগের সেই পরিবেশ আর নেই। যা খুবই ভালো হয়েছে বলে মনে করেন তারা। দিনভর যার যার কর্মক্ষেত্রে ব্যস্ত থাকা মানুষগুলো রাতের এক ঘণ্টায় একসঙ্গে হচ্ছেন, খেলছেন, গল্প করছেন। শরীরচর্চার পাশাপাশি কমছে মানসিক চাপ, বাড়ছে পারস্পরিক বন্ধন। আর সবচেয়ে বড় কথা, একটি মাঠকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে মাদকমুক্ত, সুস্থ ও সামাজিক পরিবেশ।

স্থানীয় বেশ কয়েকজন অভিভাবক বলেন, আগে সন্ধ্যার পর মাঠ অন্ধকার থাকত। সন্তানদের মাঠে পাঠাতে ভয় লাগত। এখন মাঠে আলো থাকায় তারা খেলাধুলা করতে পারছে। এতে তারা মোবাইল ফোনে সময় না দিয়ে খেলাধুলায় সক্রিয় হচ্ছে। একইসাথে আমরা পরিবার নিয়ে এসে মাঠে বসে খেলা উপভোগ করাসহ পায়চারি করে সময় কাটাতে পারছি।

এনএফসির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফি নুর মোহাম্মদ বলেন, সাংবাদিকদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগে এখন মাঠটি যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। যে মাঠ একসময় রাতের অন্ধকারে অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আলোচনায় আসত, সেই মাঠেই এখন আলো জ্বলছে, চলছে খেলাধুলা। মাঠজুড়ে তরুণদের উচ্ছ্বাস আর খেলাধুলার শব্দে বদলে গেছে পরিবেশ।

তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করতে সংবাদ কর্মীদের আহ্বানে মাঠে রেলওয়ের পক্ষ থেকে বাড়তি বাতি লাগানো হয়েছে। সেই আলো জ্বালিয়ে নিয়মিত খেলাধুলার সুযোগ তৈরি হওয়ায় তরুণদের ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে। এমন উদ্যোগ খুবই প্রশংসার ও সমাজের জন্য অনুপ্রেরণার।

সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা বলেন, এটি অত্যন্ত ভালো একটি উদ্যোগ। সৈয়দপুর শহরের ক্রীড়া ঐতিহ্য ও স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে এধরণের কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানাতে হয়। এজন্য খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুটি গোলবার ও একটি ফুটবল উপহার দেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিক নেতাদের দাবি, শুধু আলো স্থাপন করলেই হবে না। মাঠটি খেলাধুলার উপযোগী পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রমও চালু করা প্রয়োজন। সম্মিলিত উদ্যোগে এই ইতিবাচক পদক্ষেপকে জিইয়ে রেখে সৈয়দপুরের পরিবেশ উন্নয়নে সচেষ্ট থাকতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad