
সুন্দরগঞ্জ প্রতিনিধি ►
তিস্তার ভাঙন অব্যাহত। ভাঙনে গৃহহারা পরিবারগুলো গত দুই দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অনেকে হাটু পানির মধ্যে চকি বা টংগের মধ্যে পলিথিন ও টিনের ছাউনির নিচে পরিজন নিয়ে অসহনীয় কষ্টে দিন পার করছেন। সরকারি ভাবে এখন পর্যন্ত গৃহহারা পরিবারদের জন্য বসবাসের কোন ব্যবস্থা করা হয়নি। গৃহহারা পরিবারগুলো বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। কি করবেন কোন দিশা পাচ্ছেন না। থাকা, খাওয়াসহ নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন পরিবারগুলো।
শুক্রবার বিকালে স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্য মো মাজেদুর রহমান ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শ করেছেন। এ সময় উপজেলা নিবার্হী অফিসার ঈফফাত জাহান তুলি, কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মঞ্জু মিয়া উপাস্থত ছিলেন। পরিদর্শন শেষে ক্ষতিগ্রস্থ ১০০ পরিবারের ৩০ জনকে ৩০ কেজি করে চাল এবং ৭০ জনকে শুকনা খাবারের পাকেট বিতরণ করেন। গত দুই দিনের ব্যবধানে তিস্তার স্বরণকালের ভাঙনে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভোরের পাখি চরের সিংগীজানী গ্রামের ১৩০ বসতঘর নদীরগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। সেই সাথে গাছপালা, রাস্তাঘাট, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ দেড় শতাধিক একর ফসলি জমি চলে গেছে তিস্তার পেটে।
শুক্রবার চরের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, জিও ব্যাগ ও ব্লক ফেলার কারনে ভাঙনের গতি কমলেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদাসিনতা ও দায়িত্ব পালনের অবহেলার কারনে উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে বার বার ভাঙন দেখা দিচ্ছে বলে দাবি করেন চরবাসি। এদিকে গত ১৮আগষ্ট ওই স্থানে তিস্তার ভাঙনে ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যায়। এখন পর্যন্ত ভ্রামম্যান ভাবে স্কুলটি চালু করা হয়নি। সে কারনে চরের ছেলেমেয়েদের পাঠদান বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. হাফিজার রহমান বলেন, ভাঙনের খবর দিলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিনিধিরা ভাঙন কবলিত এলাকা আসেন, তা না হলে তারা আসেন না। এই হচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অবস্থা। পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাফিলতির কারনে ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেল।
বর্তমানে ভাঙনের মুখে রয়েছে দুই শতাধিক কসতবাড়ি ও শত শত একর ফসলি জমিসহ গাছপালা রাস্তাঘাট। উপজেলা নিবার্হী অফিসার বলেন, শুক্রবার ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় এমপি। এই মহুত্বে ত্রাণ বিতরণ করা ছাড়া অন্য কোন সহায়তা করার সুযোগ নেই। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, জিও ব্যাগ ফেলার কারনে ভাঙনের গতি অনেকটা কমে গেছে। স্থায়ীভাবে ভাঙনের ব্যবস্থা না করলে নদী ভাঙন অব্যাহত থাকবে।
নদীভাঙন দেখা দিলে জিও টিউব, জিও ব্যাগ ফেলা এবং সরকারের ওপর মহলে তথ্য প্রদান ছাড়া আর কোন কাজ নেই তাদের। নদী খনন, ড্রেজিং, শাসন এবং নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা ছাড়া তিস্তার ভাঙন রোধ সম্ভাব নয়। স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমান বলেন, নদী ভাঙনের বিষয়টি তাৎক্ষনিক ভাবে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ে জানানো হয়েছে। মন্ত্রনালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। আশা করা যাচ্ছে অল্প সময়ের মধ্যে বরাদ্দ পাওয়া যাবে।