Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ১ ঘন্টা আগে
  • ৮ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

এবার বাংলাদেশের বিশ্বকাপ!

এবার বাংলাদেশের বিশ্বকাপ!

অনলাইন ডেস্ক ►

শেষ হয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা। প্রায় দেড় মাস দুনিয়া মেতেছিল এই আসর ঘিরে। বাংলাদেশ কখনো বিশ্বকাপ খেলেনি, কখনো খেলবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তারপরও বিশ্বকাপ নিয়ে যে উৎসব তৈরি হয় তা দুনিয়া কাঁপানো আসরে খেলার দেশেও হয় না। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সত্যিই চ্যাম্পিয়ন। ঢাকায় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের হাই কমিশনাররা জায়ান্ট স্কিনে গভীর রাতে খেলা চলাকালে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছেন। দুজনই বলেছেন এমন উন্মাদনা তাদের দেশেও হয় না। ২০১৪ সালে জার্মানির রাষ্ট্রদূত বলেছিলেন, এমন উত্তেজনা দেখে আফসোস হয় বাংলাদেশ কেন বিশ্বকাপ খেলতে পারে না।

আসল বিশ্বকাপে খেলার সামর্থ্য নেই বলে বাংলাদেশও দুই বছর অন্তর একটি বিশ্বকাপ খেলে। আর তা হচ্ছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ বা সাফ ফুটবল। ফুটবলে এশিয়ার দেশগুলোর দুর্বলতার কথা কারও অজানা নয়। বিশ্বকাপে কখনো চ্যাম্পিয়ন হবে এ সম্ভাবনা নেই বললে চলে। এখন পর্যন্ত বড় প্রাপ্তি ২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার সেমিফাইনাল খেলা। সাফ ফুটবল হয় দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল দলগুলো নিয়ে। যাদের বাংলাদেশের মতো স্বপ্নের বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা নেই বললে চলে।

সম্ভাবনা যখন নেই তখন সাফকেই দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ বলা হয়। কেননা এটাই এ অঞ্চলের ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই। বিশ্বকাপ চলা অবস্থায় দেশের ক্রীড়াঙ্গনের কোনো খবরই ছিল না। মিডিয়াজুড়েও শুধু বিশ্বকাপ আর বিশ্বকাপ। স্পেনের উৎসব আর আর্জেন্টিনার বেদনা দিয়ে বিশ্ব ফুটবলের উন্মাদনা শেষ হয়েছে। অপেক্ষায় থাকতে হবে চার বছরই। সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন ঘোষণা দিয়েছে নভেম্বরেই পর্দা উঠবে সাফ ফুটবলের। তা হবে বিশ্বকাপের উন্মাদনার শহর ঢাকাতেই। ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর হবে এ আসর। স্বাগতিক বাংলাদেশসহ ভারত, মালদ্বীপ, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ভুটান যে খেলবে তা নিশ্চিত। ফিফার নিষেধাজ্ঞা থাকায় নেপাল শেষ পর্যন্ত খেলতে পারবে কি না তা দেখার বিষয়।

সাফের সাধারণ সম্পাদক পুরুষোত্তম ক্যাটেল বলেন, ‘ঢাকাকে ভেন্যু হিসেবে বেছে নেওয়ায় আমরা আনন্দিত। বিশ্বকাপ ঘিরে ঢাকাসহ বাংলাদেশে যে উন্মাদনা হয়েছিল আমার বিশ্বাস সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে তার প্রভাব পড়বে। ইতিহাসে জমকালো আয়োজনও হতে পারে।’ জমকালো বা বর্ণাঢ্য হোক দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপখ্যাত টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ কী করবে সেটাই প্রশ্ন।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ফুটবল মান যে কতটা নিচে সাফকে বিশ্বকাপ বলাতেই তার প্রমাণ মেলে। বাংলাদেশ তো এই বিশ্বকাপেও চ্যাম্পিয়ন হতে পারছে না। ২০০৩ সালে ঢাকাতে একবার চ্যাম্পিয়ন হয়েই শেষ। ২৩ বছর ধরে না পাওয়ায় তা স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। অতীতে যা-ই ঘটুক এবার জাতীয় দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। হামজা দেওয়ান চৌধুরী, সামিত সোম, জায়ান আহমেদ, ফাহমিদুল ইসলামরা লাল-সবুজের জার্সি পরায় নতুন আশার সঞ্চায় হয়েছে। 

রোনাল সুনিভাল ও ডেকান সুনিভালের খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশের খেলার মান আগের চেয়ে বেড়েছে। তারপর আবার সাফ চ্যাম্পিয়নটা হবে ঢাকাতেই। নিজ মাঠ, সমর্থক এখানে বাড়তি সুবিধা পাবেই। তা কাজে লাগিয়ে বিজয়ের নিশানা উড়বে আশা করা যেতেই পারে। বলা হচ্ছে একটা সাফ জিতলেই ফুটবলের চেহারা বদলে যাবে। মেয়েরা টানা দুই শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়েছেন। ২৩ বছর পর পুরুষরা হারানো গৌরব ফিরে পাবে এ প্রত্যাশা করা যেতেই পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad