Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৫ ঘন্টা আগে
  • ১৭ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

সারাদেশে ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা, চলবে এক সপ্তাহ

সারাদেশে ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা, চলবে এক সপ্তাহ

অনলাইন ডেস্ক ►
সারাদেশে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তা দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বৃষ্টি চলবে আগামী এক সপ্তাহ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৪৮ ঘণ্টার ভারী বৃষ্টির সতর্কবার্তায় বলা হয়, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তা জানিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী ২৪ ঘণ্টায় ৪৪-৮৮ মিলিমিটার থেকে অতি ভারী (১৮৮ মিলিমিটার বর্ষণ হতে পারে। অতি ভারী বর্ষণের কারণে ঢাকা মহানগরীর কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।

আজ মঙ্গলবার ও আগামীকাল বুধবার চট্টগ্রাম বিভাগ বাদে দেশের বাকি সাত বিভাগের অনেক জায়গায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে উজানে ভারতের মেঘালয় ও আসামে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বা স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক বলেন, মঙ্গলবার সাত বিভাগেই ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার থেকে দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। রাজধানীতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর পাশাপাশি উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নতুন মেঘমালা বৃষ্টিপাত বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। মৌসুমি বায়ুর বর্ধিতাংশের অক্ষ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ মঙ্গলবার বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে। রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বুধবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

বৃহস্পতিবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

শুক্রবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

শনিবার খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

রাজধানীতেও আবার জলাবদ্ধতার শঙ্কা
এদিকে রাজধানীতেও আবার জলাবদ্ধতার শঙ্কার কথা জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির। তিনি বলেন, সোমবার ঢাকায় ৩৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ঢাকার মিরপুর ও কাজীপাড়া এলাকায় প্রায় ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেই অস্থায়ীভাবে হাঁটুপানি জমে যায়। ফলে আগামী দুদিন বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সোমবার সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর পানি চারটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর মধ্যে সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জের ছাতক পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৬ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর পানি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে ৩০ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ৩ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল। নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি বেড়েছে, কুশিয়ারা কিছুটা কমলেও আগামী তিন দিনে নদী দুটির পানি আবারও বাড়তে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। ইতোমধ্যে যেসব এলাকায় বন্যা রয়েছে, সেখানে পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।  বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী, সারিগোয়াইন ও ভুগাই নদীর উজানে ভারতের মেঘালয় রাজ্যে গতকাল অতিভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই উজানের পানি আগামী কয়েক দিনে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী নদীগুলোতে আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

সুনামগঞ্জে কুশিয়ারা ও সুরমা নদীর পানি আবারও বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি গতকাল বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। কুশিয়ারা নদীর পানিও মারকুলি পয়েন্টে বিপৎসীমার প্রায় ৫ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, আগামী দুদিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নদীগুলোর পানি আরও বাড়তে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। ছাতক উপজেলায় ইতোমধ্যে সুরমা, চেলা ও পিয়ান নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। উপজেলার ইসলামপুর, জাউয়াবাজার, চরমহল্লা ও উত্তর খুরমা ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা ও দুর্গাপুর উপজেলায় আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অন্তত ২০টি স্থানে সড়ক তলিয়ে ও রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। নলছাপড়া বাজার-বালুচড়া উচ্চ বিদ্যালয় সড়কের প্রায় ১০০ ফুট অংশ ধসে গেছে। গজারমারী-খারনৈ সড়কের বিভিন্ন অংশও ভেঙে পড়েছে।
কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, পাহাড়ি ঢলে চেংনী নদীর পাড় ভেঙে প্রায় ৫০ একর কৃষিজমিতে বালু জমেছে। শতাধিক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে এবং আমনের বীজতলা নষ্ট হয়েছে।

কলমাকান্দা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রায় ২০০ হেক্টর জমির আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে চলতি মৌসুমে ধান উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
শেরপুরে ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সোমবার সকালে ঢলের প্রবল স্রোতে নালিতাবাড়ীর চেল্লাখালী নদীর ওপর নির্মিত একটি বেইলি সেতু ভেঙে পড়েছে। এতে কয়েকটি গ্রামের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ। এ সময় দুই শিশুসহ তিনজন অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান।

তিস্তা বিপৎসীমার কাছাকাছি
উজানের ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানিও দ্রুত বাড়ছে। গতকাল নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানির উচ্চতা ছিল ৫২ দশমিক ১০ মিটার, যা বিপৎসীমার মাত্র ৫ সেন্টিমিটার নিচে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি স্লুইসগেট খুলে রাখা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad