Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৭ ঘন্টা আগে
  • ২১ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

মাইলস্টোনের দুঃসহ স্মৃতি এক বছরেও শুকায়নি

মাইলস্টোনের দুঃসহ স্মৃতি এক বছরেও শুকায়নি

অনলাইন ডেস্ক ►
এক বছর আগের এক সকালে যে সন্তানকে নিজের হাতে স্কুলে পৌঁছে দিয়েছিলেন; দুপুরে ফিরে পেয়েছেন তার নিথর দেহ। সেই বিভীষিকাময় দিনের স্মৃতি আজও তাড়া করে বেড়ায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদের বাবা মো. রুবেল মিয়াকে।

রুবেল মিয়ার মতো এক বছর পরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা। স্কুলে আসার পর শত শত শিক্ষার্থীর ভিড়ে তাদের মনে হয়, এই বুঝি হারিয়ে যাওয়া সন্তানটি সামনে এসে দাঁড়াবে।

বিমান দুর্ঘটনায় নিহত সপ্তম শ্রেণির ইংলিশ ভার্সনের শিক্ষার্থী মাহতাব রহমানের বাবা মিনহাজ রহমান বলেন, ‘ছেলেটার পড়ার টেবিলটা এক বছর ধরে একইভাবে পড়ে আছে। বই সরেনি, খাতা সরেনি। প্রতিদিন তার মা এসে বইগুলো মুছে দেয়, গুছিয়ে রাখে। মাহতাবকে ছাড়া আমরা কেউ ভালো নেই।’ বিমান দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ছিল ১০ বছর বয়সী চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসনিম আফরোজ আয়মান। সেদিনের সকালের স্মৃতি এখনো তাড়া করে আয়মানের মা আয়েশা আক্তার কাননকে। তিনি বলেন, ‘মা হয়ে যদি জানতাম ২১ তারিখ এমন ঘটনা ঘটবে, তা হলে স্কুলে পাঠাতাম না।

রোববার সরেজমিনে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, শ্রেণিকক্ষে চলছে পাঠদান, ক্যাম্পাসে ফিরেছে শিক্ষার্থীদের কোলাহল। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ফিরেছে তার চেনা ছন্দে। কিন্তু এক বছর আগে যে প্রাঙ্গণ মুহূর্তেই পরিণত হয়েছিল মৃত্যু, ধ্বংস আর আতঙ্কের জনপদে; সেখানে এখনো যেন গুমোট এক নীরবতা। বিমান দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত ভবনটির সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় অনেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবককে এক পলক থমকে দাঁড়াতে দেখা যায়। কেউ কেউ চুপচাপ তাকিয়ে থাকেন ভবনটির দিকে। তাদের চোখেমুখে তখন বিষাদের ছাপ।

গত বছরের ২১ জুলাই দুপুরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের উত্তরার দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়। ভয়াবহ সেই ঘটনায় প্রাণ হারান ৩৬ জন। নিহতদের বড় অংশই ছিল শিশু। আহত হন আরও অনেকে। একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, দুর্ঘটনার পর আকাশে বিমান উড়তে দেখলেই তাদের মধ্যে ভয় তৈরি হতো। স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে অনেকেরই সময় লেগেছে। প্রথমদিকে অনেকে স্কুলে যেতেও ভয় পেত; শ্রেণিকক্ষে বসে অস্বস্তি বোধ করত।

সময়ের সঙ্গে সেই ভয় অনেকটাই কমেছে। আবার ক্লাস হচ্ছে, পরীক্ষা হচ্ছে, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা জমছে। কিন্তু হারিয়ে যাওয়া সহপাঠীদের স্মৃতি এখনো তাদের কাছে জীবন্ত। সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী তাবাসুম খানম বলছিল, ‘প্রথম প্রথম বিমান দেখলেই ভয় লাগত, এখন তা কিছুটা কমেছে। বিমান দুর্ঘটনার কথা মনে পড়লে মনটা খারাপ হয়ে যায়। যারা আমাদের সঙ্গে ছিল, তারা আর নেই।’ দুর্ঘটনার পর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পুরো পরিবেশই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও উপদেষ্টা কর্নেল (অব.) নুরুন নবী। তার ভাষ্য, প্রায় তিন মাসের চেষ্টায় পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই পুরো প্রতিষ্ঠান স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল।

আমরা প্রায় তিন মাসের চেষ্টায় অনেকটা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে আনার চেষ্টা করেছি। যারা আহত হয়নি, তারা অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে গেছে। সরকারি ক্ষতিপূরণের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয় দেখভাল করেছে এবং স্কুল কর্তৃপক্ষও এতে যুক্ত ছিল। তবে অভিভাবকদের অনেকেই আর্থিক সহায়তা গ্রহণে রাজি হননি। এদিকে বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে। তবে নিহতদের স্মৃতি সংরক্ষণে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ আগ্রহী হলেও কীভাবে তা করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সরেজমিনে ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটি ভাঙার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। চারদিকে উঁচু টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে ভবনটি। বাইরে থেকে ভবনটি খুব একটা চোখে পড়ে না। ভবনটির দ্বিতীয় তলা ভাঙার কাজও প্রায় শেষের দিকে। প্রতিষ্ঠানটির উপদেষ্টা কর্নেল (অব.) নুরুন নবী বলেন, ‘রাজউক থেকে আমাদের ভবনটি ভেঙে ফেলার জন্য বলা হয়েছে। তাই আমরা তা করছি। তবে স্মৃতি ধরে রাখার জন্য আমরা কিছু একটা করার চেষ্টা করব। এখানে কী করা হবে, তা এখনো পরিকল্পনা করিনি।’

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad