Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ১ ঘন্টা আগে
  • ২ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

মন্ত্রিসভার আকার বাড়তে পারে , আলোচনায় দেড় ডজন নাম

মন্ত্রিসভার আকার বাড়তে পারে , আলোচনায় দেড় ডজন নাম

অনলাইন ডেস্ক ►

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারকে প্রাধান্য দিয়ে প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করা তারেক রহমান সরকারের ১৫০ দিন অতিবাহিত হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের সফলতা ও ব্যর্থতা নিয়ে নানা আলোচনা-পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। 

এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় রদবদলের সম্ভাবনা নিয়ে জোরালো আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ‘এক মন্ত্রণালয় এক মন্ত্রী নীতি’ সামনে রেখে মন্ত্রিসভার আকার বড় হওয়ার আলোচনা সামনে এসেছে। এসব আলোচনার মাঝে ক্ষমতাসীন দলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে কারা নতুন করে মন্ত্রিপরিষদে যুক্ত হচ্ছেন। সরকারি সূত্রগুলো বলছে, মন্ত্রিপরিষদের আকার বাড়তে পরে। তবে বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের মধ্যে যারা কাক্সিক্ষত সাফল্য দেখাতে পারেননি, তাদের বাদ না দিয়ে দপ্তরবিহীন করা হতে পারে।

মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আমাদের সময়কে বলেন, এগুলো নিয়ে কথা বলার একমাত্র এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর। তিনি যখন উপযুক্ত বিবেচনা করবেন, তখনই কাউকে নতুন দায়িত্ব দিতে পারেন কিংবা কারও দায়িত্ব পরিবর্তন করতে পারেন।

তবে, সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সরকারকে আরও গতিশীল করতে মন্ত্রিসভায় রদবদল হতে পারে। কারণ, ইতোমধ্যে বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মিশনগুলোতে বড় ধরনের রদবদলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মিশনে অভিজ্ঞ কূটনৈতিকদের দায়িত্বও দেওয়া হচ্ছে। মানবাধিকারকর্মী আইরিন খানকে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত হিসেবে সম্প্রতি নিয়োগও দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল মন্ত্রিসভার সদস্যদের দায়িত্বের প্রাথমিক মেয়াদ ছয় মাস। এরপর এটি পর্যালোচনা করা হবে। সেই বিবেচনায় রদবদল করা হতে পারে। মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারে নতুন মুখ। এমনকি কাউকে এক মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে অন্য মন্ত্রনালয়ে দায়িত্বেও দেখা যেতে পারে।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমান দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তার মন্ত্রিসভায় ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে যেভাবে কাজের পেছনে ছুটছেন, মন্ত্রিসভার অনেক সদস্যই বাড়তি চাপ বোধ করছেন। ঘনিষ্টজনদের সঙ্গে তা শেয়ারও করছেন অনেক সদস্যই। আবার কোথাও কোথাও সমন্বয়হীতাও রয়েছে। সার্বিক দিক বিচেনায় মন্ত্রীদের কাজের চাপ কমাতে একজনকে এক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এর ফলে মন্ত্রিসভার আকার কিছুটা বাড়তে পারে।

তবে বিষয়টি নিয়ে সরকারের একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে যোগযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তারা বলছেন, মন্ত্রিসভায় রদবদল কিংবা দপ্তর পুনর্বণ্টনের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেখছেন। এ বিষয়ে তাদের কিছু জানা নেই। মূলত পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করেই এই রদবদলের পরিকল্পনা করা হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রমতে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করা হতে পারে। বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং কাজের ধীরগতির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এসেছে। এ ছাড়া কর্মদক্ষতা ও আঞ্চলিক ভারসাম্য বিবেচনায় কয়েকজন মন্ত্রীর দপ্তর বদল বা দায়িত্ব কমানো হতে পারে। বিশেষ করে অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকা এবং মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে সমন্বয়হীনতা থাকা মন্ত্রণালয়গুলোতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিএনপির সিনিয়র কয়েকজন নেতা বলেন, সরকার পরিচালনার পাশাপাশি প্রশাসনিক ও কাজের চাপ কমাতে বর্তমান মন্ত্রিসভার আকার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারেÑ এমন আলোচনা আছে। সেক্ষেত্রে মন্ত্রিসভায় নতুন তিন থেকে চারজন যুক্ত হতে পারেন। এর বাইরে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর ১০ জন উপদেষ্টা আছেন। বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ একজন নেতা বলেন, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ৪৬ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করেছিলেন। পরে ধাপে ধাপে বেড়ে তা ৬০ সদস্যে দাঁড়িয়েছিল। এবারও তেমন হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এই অবস্থায় মন্ত্রিসভায় যুক্ত হওয়ার আলোচনায় বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতা ও তরুণ সংসদ সদস্যসহ দেড় ডজন নেতা আলোচনায় আছেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, মো. শাহজাহান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। তাদের যে কাউকে মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে।

তরুণদের মধ্যে এবিএম মোশাররফ হোসেন, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, রকিবুল ইসলাম বকুল, নজরুল ইসলাম আজাদ, ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন ও এরশাদ উল্লাহর নাম শোনা যাচ্ছে। সংক্ষিত নারী আসন থেকেও মন্ত্রিসভায় স্থান দেওয়া হতে পারে। শারীরিকভাবে সুস্থ থাকলে সেক্ষেত্রে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমানকে মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে। আবার বিগত আন্দোলন সংগ্রামের কথা বিবেচনা করলে অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, শিরীন সুলতানা, রেহেনা আক্তার রানু, মাহমুদা হাবিবাদের মধ্য থেকে যে কাউকে মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে।

এ ছাড়া টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন নবী খান সোহেল ও বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেলের নাম শোনা যাচ্ছে। পাশাপাশি এবারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে সরকারের বাইরে থাকা জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে আন্দালিব রহমান পার্থসহ কয়েকজন সিনিয়র নেতা এবং বিগত দিনে রাজপথে সক্রিয় থাকা কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার নামও আলোচনায় আছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনপ্রশাসনের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, চলমান বিভিন্ন ইস্যু ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের মূল্যায়নের ভিত্তিতে কয়েকজন মন্ত্রীর দপ্তরে পরিবর্তন আনা হতে পারে। এ ছাড়া কয়েকজন অভিজ্ঞ রাজনীতিকের টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও সরকার গঠনের পর একাধিক উপদেষ্টা ও আটজন প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে দপ্তর পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। এবার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে আরও নতুন মুখ অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি পরিবর্তনের সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad