
অনলাইন ডেস্ক ►
মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো তার ঈমান ও পরিশুদ্ধ অন্তর। বাহ্যিক সৌন্দর্য, ধন-সম্পদ কিংবা সামাজিক মর্যাদা মানুষকে আল্লাহর কাছে সম্মানিত করে না; বরং সম্মান ও সফলতার মূল ভিত্তি হলো আত্মশুদ্ধি (তাজকিয়াতুন নফস) ও তাকওয়া।
আত্মশুদ্ধি এমন একটি অবিরাম সাধনা, যার মাধ্যমে মানুষ নিজের অন্তরকে হিংসা, অহংকার, রিয়া, লোভ ও পাপাচার থেকে মুক্ত করে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে পরিচালিত করে।
এ কারণেই বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.) শুধু উম্মতকে আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দিয়েই ক্ষান্ত হননি; বরং তিনি নিজেও আল্লাহর কাছে বারবার আত্মার পবিত্রতা, তাকওয়া এবং ঈমানে অবিচল থাকার জন্য দোয়া করতেন। তেমনি দুটি দোয়া হলো-
১. অন্তরের পবিত্রতার দোয়া
اللَّهُمَّ آتِ نَفْسِي تَقْوَاهَا وَزَكِّهَا أَنْتَ خَيْرُ مَنْ زَكَّاهَا أَنْتَ وَلِيُّهَا وَمَوْلَاهَا
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা আতি নাফসি তাকওয়াহা, ওয়া জাক্কিহা আনতা খাইরু মান জাক্কাহা, আনতা ওয়ালিয়্যুহা ওয়া মাওলাহা।
অর্থ : হে আল্লাহ! আমার আত্মাকে তাকওয়া দান করুন এবং তাকে পরিশুদ্ধ করুন।
আপনিই সর্বোত্তম পরিশুদ্ধকারী। আপনিই তার অভিভাবক ও মালিক। (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৭২২)
২. ঈমানে অবিচল থাকার দোয়া
আত্মশুদ্ধির পাশাপাশি অন্তরকে দ্বীনের ওপর অটল রাখার জন্যও মহানবী (সা.) অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী একটি দোয়া করতেন—
يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِينِكَ
উচ্চারণ : ইয়া মুকাল্লিবাল কুলুব, সাব্বিত ক্বালবী আলা দ্বীনিক।
অর্থ : ‘হে অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারী! আমার অন্তরকে আপনার দ্বীনের ওপর সুদৃঢ় রাখুন।
’(জামে তিরমিজি, হাদিস : ২১৪০)
মানুষের অন্তর মুহূর্তে মুহূর্তে পরিবর্তিত হয়। তাই আল্লাহর মহানবী (সা.) আমাদের শিখিয়েছেন, অন্তর যেন কখনো সত্যপথ থেকে বিচ্যুত না হয়—সেজন্য সর্বদা আল্লাহর কাছেই আশ্রয় ও সাহায্য প্রার্থনা করতে হবে। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে পরিশুদ্ধ অন্তর, অটল ঈমান এবং তাকওয়াপূর্ণ জীবন দান করুন। আমিন।