Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ১ ঘন্টা আগে
  • ৩২ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

ভাঙনে ভেসে গেছে জিও ব্যাগ

ভাঙনে ভেসে গেছে জিও ব্যাগ

এ মান্নান আকন্দ, সুন্দরগঞ্জ ►
টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীতে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। সেই সাথে ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নামকাওয়াস্তে ফেলানো জিও ব্যাগ ভেসে গেছে তিস্তার স্রোতে। ভাঙনের বসতঘর সরিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চরবাসী। এদিকে পানি বাড়তে থাকায় তিস্তার চরের নিচু এলাকা সমুহ প্লাবিত হয়ে পড়েছে।

ভাঙন কবলিত এলাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন মানুষজন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারি দপ্তরের কোন কর্মকর্তা ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে আসে নাই। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভোরর পাখি চর এলাকায় দেড় শতাধিক বসতভিটা, চার শতাধিক একর ফসলি জমিসহ রাস্তাঘাট নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে পাঁচ শতাধিক বসতভিটা, শত শত একর ফসলি জমি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে উপজেলার কাপাসিয়া, হরিপুর, বেলকা, চন্ডিপুর ও শ্রীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে ভাঙন চরম আকার ধারন করেছে।

ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নেই কোন মাথা ব্যাথা। নামকাওয়াস্তে কয়েকটি স্থানে ভাঙন রোধে ফেলা হচ্ছে জিত ব্যাগ। কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙনের মুখ থেকে বসতঘর সরিয়ে নিতে দিশেহারা চরবাসী। সরকারি ভাবে নদী ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলা হলেও তা দিয়ে ভাঙন রোধ সম্ভাব হচ্ছে না। গত দু’দিনে ভাঙন কবলিত এলাকায় যেসব জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল, তা ভাঙনে বেসে গেছে। স্থায়ীভাবে নদী ভাঙন রোধ করার দাবি চরবাসির।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদী। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও কৃষি অধিদপ্তরের তথ্যমতে প্রতিবছর গড়ে ৫০০ বসতভিটা, ৬০০ হেক্টর ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও প্রতিষ্ঠান তিস্তায় বিলিন হয়ে যাচ্ছে। সে মোতাবেক গত ৫ বছরে আড়াই বসতভিটা, তিন হাজার হেক্টর ফসলি জমি, ৫০ কিলোমিটার রাস্তাঘাট, ৩০টি ধর্মীয় ও ১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে ভাঙন কবলিত পরিবারের জন্য ত্রান বিতরণ করা ছাড়া আর কিছুই করা হয়নি। হরিপুর ইউনিয়নের কানি চরিতাবাড়ি গ্রামের মো. আবুল কাশেম মিয়া বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে ভারী বর্ষণের কারনে ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে গেছে। চরের প্রতিটি মানুষের বসতভিটা কমপক্ষে ৫ হতে ৮ বার ভাঙনের শিকার হয়েছে।

বর্তমানে উপজেলার বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। চরবাসিকে শান্তনা দেয়ার জন্য সরকারি ভাবে ভাঙন রোধে জিও টিউব ও জিও ব্যাগ ফেলা হলেও ভাঙন রক্ষা হচ্ছে না। কছিম বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল হক বলেন, অনেক আগেই তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। সেই কারনে তিস্তা অসংখ্য শাখা নদীতে রুপ দিয়েছে । যার জন্য সময় এবং অসময়ে নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। স্থায়ীভাবে নদী ভাঙন রোধ করতে না পারলে চরের মানুষের কষ্ট কোন দিন দুর হবে না।

কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মঞ্জু মিয়া বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে কাপাসিয়া ইউনিয়নের লালচামার, ফুলমিয়ার মোড়, উজান বোচাগাড়ি, ভাটি বোচাগাড়ি এলাকায় ব্যাপক আকারে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নিমেষের মধ্যে ফসলি জমি, বসতভিাটা, গাছপালা, রাস্তাঘাট নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। সরকারি ভাবে এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। নদী ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর কষ্টের সীমা নেই। তার ইউনিয়নের সবগুলো ওয়ার্ড নদীর চরে। কাপাশিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও বিএনপির সাবেক উপজেলা সভাপতি মো. মোজাহারুল ইসলাম বলেন, ভারী বর্ষণের কারনে তাঁর ইউনিয়নের কানিচরিতাবাড়ি গ্রামে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।

নদী খনন, ড্রেজিং, সংরক্ষণ, মেরামত এবং শাসন ছাড়া তিস্তার ভাঙন রোধ করা সম্ভাব নয়। নদী খনন ও ড্রেজিং করে নদীর গতিপথ একমুখি করলে নদী ভাঙন কমে যাবে। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জিও টিউব ও জিও ব্যাগ এখন কোন কাজে আসছে না। চরের মানুষের হা-হাকার দুর করতে হলে স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধ করতে হবে। এ ব্যাপারে তিনি সরকারের ওপর মহলের নিকট জোর দাবি জানান। তা না হলে এই উপজেলার মানচিত্র পরিবর্তন হয়ে যাবে।

তিস্তার চরাঞ্চল এখন কৃষিতে একটি সম্ভাবনাময় জোন। ধান, গম, ভূট্টা, বাদাম, কুমড়া, তরমুজ, আলু, মরিচ, পিয়াজসহ নানাবিধ ফসল চাষাবাদের জন্য উপযোগী হয়ে উঠেছে তিস্তার বালু চর। কিন্তু প্রতিবছরের ভাঙন চরের কৃষকদের স্বপ্ন নষ্ট করে দিচ্ছে বলেন উপজেলা কৃষি অফিসার মো. কাইয়ুম চৌধুরী। প্রতিবছর ভাঙনে প্রায় ৩০০ হেক্টর জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাচ্ছে। স্থায়ীভাবে ভাঙ্গন রোধের ব্যবস্থা করলে চরের কৃষকরা দারুনভাবে সাবলম্বী হয়ে উঠবে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিয়ার রহমান বলেন, ভারী বর্ষণের কারনে কাপাসিয়া, হরিপুর ইউনিয়নের কয়েকটি চরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। চেয়াম্যানদের নিকট হতে তালিকা চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ সাপেক্ষে বিতরণ করা হবে। এছাড়া সরকারি ভাবে কোন সুযোগ নেই। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, নদীভাঙন দেখা দিলে জিও টিউব, জিও ব্যাগ ফেলা এবং সরকারের ওপর মহলে তথ্য প্রদান ছাড়া আর কোন কাজ নেই তাদের। নদী খনন, ড্রেজিং, শাসন এবং নদীর গতিপথ পরিবর্তন করা ছাড়া তিস্তার ভাঙন রোধ সম্ভাব নয়।

স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্য মো. মাজেদুর রহমান বলেন, বেশ কয়েকটি চরে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। তিনি পরিদর্শন করে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে কথা বলেছেন। আপাতত পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ হতে জিও ব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

এদিকে টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে তিস্তার নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। চরের রাস্তাঘাট ডুবে গেছে, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। চরের মানুষের যাতায়াতের এখন একমাত্র ভরসা নৌকা। এক চর হতে অন্য চর এবং হাট-বাজারসহ জেলা ও উপজেলা শহরে যাওয়া আসা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। গত এক সপ্তাহ ধরে অবিরাম বর্ষণ এবং উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় নিচু এলাকা ডুবে গেছে। তবে সুন্দরগঞ্জ এলাকায় তিস্তার পানি বিপদ সীমার অনেক নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। চরাঞ্চলের অনেক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। 

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad