
অনলাইন ডেস্ক ►
চট্টগ্রামের পটিয়ায় সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে মারধরের শিকার হয়ে সিরাজুল ইসলাম (৫৫) নামে এক প্রবাসীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছাম্মৎ মিনহার আকতার ববিকে (৩৯) আটকের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাতে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ফোরক সওদাগরের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় পটিয়া থানায় বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। এতে নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী, তার ভাই শেখ মোস্তান (৩৬) ও ছেলে কাজী মো. শাহাবাজ হোসেনকে (২১) এবং অজ্ঞাত আরো ২-৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।
নিহত সিরাজুল ইসলামের প্রথম স্ত্রীর ছোট ছেলে কবিরুল ইসলাম আকিব বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এ ঘটনায় আটক নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী ববিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, সিরাজুল ইসলামের দুটি সংসার। প্রথম স্ত্রী চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করেন। তাদের সংসারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
অপর দিকে দ্বিতীয় স্ত্রী মিনহার আকতার ববি গ্রামের বাড়িতে বসবাস করতেন। মঙ্গলবার রাত প্রায় ১টার দিকে সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার স্বজনদের সম্পত্তির মালিকানা ও ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সিরাজুলকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তারা আরো জানান, দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তির মালিকানা ও উত্তরাধিকার নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। বিভিন্ন সময় বিষয়টি মীমাংসার জন্য পারিবারিক বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। নিহতের ভাগ্নে মো. বদিউল আলম বলেন, ‘আমার মামা দীর্ঘদিন বিদেশে থেকে কষ্ট করে উপার্জন করে অর্থ-সম্পদ গড়েছেন। সেই সম্পত্তি নিয়ে অনেক দিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার রাতে মামার দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার স্বজনরা তাকে মারধর করেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
পটিয়া থানার ওসি মো. জিয়াউল হক বলেন, ‘ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রীকে প্রথমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। পরে মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’