Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ৫৩ মিনিট আগে
  • ৭ বার দেখা হয়েছে
ফটো কার্ড

বর্ষা ভেবে গ্রীষ্মে ফুটল কদম ফুল

বর্ষা ভেবে গ্রীষ্মে ফুটল কদম ফুল

অনলাইন ডেস্ক ►
‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল করেছ দান, আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান’— রবীন্দ্রনাথ এই গান রচনা না করলেও এটা কারো অজানা নয় যে, ফুলটি বর্ষায় ফোটে। তবে ব্যতিক্রম দৃশ্য হাজির হয়েছে বগুড়ার শেরপুরে।

ঋতু হিসেবে বর্ষা আসতে প্রায় সপ্তাহ দুই বাকি। অথচ এরই মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে কদমের ডালে ডালে শোভা পাচ্ছে ফুলটি। 
এদিকে, গাছে গাছে কদম ফুল ফুটতে দেখে অনেকে দৃশ্যগুলোকে বর্ষার আগমনী বার্তা হিসেবে গ্রহণ করছে। তবে কেউ কেউ রসিকতা করে এটাও বলছে, এপ্রিলে শুরু হওয়া ঘন ঘন বৃষ্টি হওয়ায় গ্রীষ্মকে বর্ষা ভেবে ভুল করে ডালে ডালে হাজির হয়েছে কদম ফুল।

তবে যা-ই হোক, ফুলটি বর্ষাকালে ফোটে—এটি সবাই জানে। এজন্য এ ফুলকে বর্ষাদূতও বলা হয়। তাইতো শিল্পীও গেয়ে ওঠে, ‘আমি ফুল কদম ডালে ফুটেছি বর্ষাকালে’। কিন্তু গান-কবিতার এইসব কথা এখন আর পুরোপুরি মিলছে না।

ছয় ঋতুর এই দেশ এখন আর নির্ধারিত সময় কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। প্রাকৃতিক ঋতুবৈচিত্র্যের সীমাবদ্ধতার নিয়ম ভেঙে দেশের অনেক জায়গায় গ্রীষ্মেই ফুটেছে বর্ষার আগমনী বার্তা বহনকারী ফুল। 
বুধবার (৩ জুন) শেরপুরের শাহবন্দেগী ইউনিয়নের সাধুবাড়ীসহ বেশকিছু এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কদম গাছ ছেয়ে গেছে ফুলে ফুলে। গোল, পুষ্পাধারে সরু ফুলের বিকীর্ণ বিন্যাস। তার সাদা-হলুদে মেশা মঞ্জরির সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে শিশুরা গাছ থেকে সংগ্রহ করছে ফুল।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও গ্রামীণ সড়ক, খাল-বিলের তীর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চত্বরে কদম গাছের উপস্থিতি রয়েছে। সেসব গাছের ডালে ফুটে থাকা ফুলের সমাবেশ দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। কোনো কোনো স্থানে ভোরের আবহে ফুলগুলো আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এর সৌন্দর্য মুগ্ধ করছে পথচারী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের। তাই তা উপভোগ করতে অনেকে গাছের নিচে ভিড় করছে, স্মৃতিবন্দি করতে তুলছে ছবিও।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাধারণত বর্ষা এলেই কদম ফুল প্রকৃতিকে ভিন্ন এক রূপ দিত। এর সৌন্দর্য মনকে প্রশান্তি দিত,  যা বছরের অন্য সময় চোখে পড়ত না। তবে এখন ঋতুর প্রকৃতি পাল্টে যাচ্ছে। এমনকি বর্ষা আসার আগেই এই ফুল ফুটছে।

প্রকৃতিপ্রেমী গোলাম রব্বানী বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কদম গাছসহ দেশি গাছ রোপণের উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন। তার মতে, দেশি গাছপালা সংরক্ষণ করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মও এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad