Ad
  • মাধুকর প্রতিনিধি
  • ২১ ঘন্টা আগে
  • ১২ বার দেখা হয়েছে

গাইবান্ধা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট কৃষি আধুনিকায়নে আশার আলো ভবিষ্যতের কৃষিবিদ তৈরির আঁতুড়ঘর

গাইবান্ধা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট কৃষি আধুনিকায়নে আশার আলো ভবিষ্যতের কৃষিবিদ তৈরির আঁতুড়ঘর

ভবতোষ রায় মনা

উত্তরবঙ্গের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত গাইবান্ধার কৃষি ক্ষেত্রকে আরও আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক করে তুলতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে গাইবান্ধা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট। দীর্ঘদিনের পথচলায় এই প্রতিষ্ঠানটি শুধু ডিগ্রি বিতরণকারী কেন্দ্র নয় বরং এটি এখন দক্ষ কৃষিবিদ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে স্থানীয় কৃষির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন এই ইনস্টিটিউটটির মূল লক্ষ্য হলো মাঠপর্যায়ের কৃষির চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তৈরি করা। প্রতিষ্ঠানটিতে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার কোর্সটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পরিচালিত হয়। তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি ব্যাবহারিক জ্ঞান ও হাতে-কলমে মাঠ প্রশিক্ষণের উপর জোর দেওয়া হয়, যাতে শিক্ষার্থীরা পাস করার পরই কৃষকের দোরগোড়ায় গিয়ে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি পৌঁছে দিতে পারে।

শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদানের বাইরেও গাইবান্ধা কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থানীয় কৃষকদের জন্য বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করে। নতুন জাতের শস্য পরিচিতি, উন্নত বীজ সংরক্ষণ পদ্ধতি, পরিবেশবান্ধব উপায়ে কীটনাশক ব্যবহার এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে ফসলের চাষ-ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এই প্রশিক্ষণগুলো কৃষকদের কাছে সরাসরি বৈজ্ঞানিক তথ্য পৌঁছে দেয়।

ইনস্টিটিউটের নিজস্ব সুবিশাল গবেষণামূলক প্রদর্শনী খামার রয়েছে, যেখানে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির প্রয়োগ ঘটানো হয়। শিক্ষার্থীরা এখানে নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হয়, যা পরে তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের শেখানোর সুযোগ পায়। বিশেষ করে, ধান, গম, ভুট্টা, পাট এবং বিভিন্ন সবজি ও ফলের উন্নত চাষাবাদ পদ্ধতি নিয়ে এখানে নিয়মিত গবেষণা ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা থাকে। প্রতিষ্ঠানটির মোট আয়তন ২৮.৬৮ হেক্টর, মোট আবাদি জমির পরিমাণ ০৮.২০ হেক্টর, শাক সবজির জমির পরিমাণ ০.৬০ হেক্টর, নার্সারি ০.৪০ হেক্টর, পুকুর ৩.২৫ হেক্টর, স্থায়ী পতিত জমি খেলার মাঠ ০.৫০ হেক্টর, বাসাবাড়ি ২.৬৩ হেক্টর, রাস্তা ০.৭৫ হেক্টর, বাঁধ ০.৮০ হেক্টর, ছাত্রাবাস ০.৭৫ হেক্টর, ছাত্রীনিবাস ১.০০ হেক্টর, খামার অফিস/গুদাম ঘর/ওয়ার্কশপ ০.৮০ হেক্টর, পুরাতন পোল্ট্রি ০.৫০ হেক্টর, গবাদি পশুর ঘর ০.৩০ হেক্টর, ক্যানেল ৪.০০ হেক্টর, অতিথি ভবন ০.২০ হেক্টর, অন্যান্য ৪.০০ হেক্টর। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক ক্লাসরুম, সুসজ্জিত ল্যাবরেটরি এবং একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরির সুবিধা রয়েছে এই ইনস্টিটিউটে। এটি নিশ্চিত করে যে শিক্ষার্থীরা যেন আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থার সাথে পরিচিত হতে পারে।

স্থানীয় কৃষি বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন, গাইবান্ধা এটিআই শুধু মাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি কৃষি সম্প্রসারণের মেরুদণ্ড। প্রতিষ্ঠানটি থেকে প্রতি বছর যে দক্ষ জনবল বের হচ্ছে, তা কৃষি খাতে সরকারের ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে। ভবিষ্যতে, এই ইনস্টিটিউটটি কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়াতে ড্রোন প্রযুক্তি, হাইড্রোপনিক্স এবং অর্গানিক চাষের উপর বিশেষ প্রশিক্ষণ মডিউল যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে, যাতে গাইবান্ধার কৃষি আরও টেকসই ও লাভজনক হতে পারে।

ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু ক্লাসরুমের জ্ঞান নিয়ে বের হয় না, তারা ফসল উৎপাদন, রোগবালাই দমন, সেচ ও সার ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো হাতে-কলমে শিখে। তাদের লক্ষ্যই হলো গাইবান্ধাসহ সমগ্র উত্তরাঞ্চলের কৃষিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা।

নিউজটি শেয়ার করুন

Ad

এ জাতীয় আরো খবর
Ad
  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়
Ad